লক্ষ্মীপুরে রাতে মুক্তিপণ দাবি, সকালে মিললো নিখোঁজ তরুণের মরদেহ

লক্ষ্মীপুরে তরুণ এক অটোরিকশাচালকের মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। পরিবারের দাবি, আগের রাতে তাদের ফোন করে মুক্তিপণ হিসেবে এক লাখ টাকা দাবি করা হয়েছিলো। কিন্তু সকাল হতেই পাওয়া যায় মরদেহ।

শনিবার (২ মে) সকালে জেলার রায়পুর উপজেলার ক্যাম্পের হাট স্কুলের পশ্চিম পাশের একটি সুপারিবাগানের ভেতর থেকে মরদেহটি উদ্ধার করা হয়।

নিহত তরুণের নাম রাজিব (১৮)। সে নিহত উপজেলার দক্ষিণ গাইয়ার চর ফজু মোল্লা স্টেশন এলাকার মোস্তফার ছেলে। 

নিহতের পরিবার জানায়, শুক্রবার (১ মে) রাত আনুমানিক আটটার দিকে অটোরিকশা নিয়ে বাড়ি থেকে বের হওয়ার পর রাজিব নিখোঁজ হন। গভীর রাত পর্যন্ত বাড়িতে না ফেরায় স্বজনেরা বিভিন্ন স্থানে খোঁজাখুঁজি শুরু করেন। রাজিবের বাবা মোস্তফা জানান, রাত তিনটার দিকে তার মোবাইলে ফোন করে এক লাখ টাকা মুক্তিপণ দাবি করে অজ্ঞাত ব্যক্তিরা। এতে পরিবারের মধ্যে আতঙ্ক ও উদ্বেগ বেড়ে যায়।

শনিবার বেলা ১১টার দিকে উপজেলার ক্যাম্পের হাট স্কুলের পশ্চিম পাশের একটি সুপারিবাগানের ভেতরে একটি মরদেহ পড়ে থাকতে দেখেন স্থানীয়রা। খবর পেয়ে রায়পুর থানা-পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহ উদ্ধার করে। পরে পরিবারের সদস্যরা মরদেহটি রাজিবের বলে শনাক্ত করেন।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, রাজিবের মাথায় ও শরীরের বিভিন্ন স্থানে একাধিক আঘাতের চিহ্ন রয়েছে। ধারণা করা হচ্ছে, তাকে নির্মমভাবে পিটিয়ে হত্যা করা হয়েছে।

স্থানীয়দের অভিযোগ, শিমুলতলা এলাকার এক ব্যক্তি রাজিবের অটোরিকশা নিয়ে যাওয়ার সময় তাকে সর্বশেষ দেখা গিয়েছিলো। ঘটনার পর থেকেই ওই ব্যক্তি পলাতক বলে জানা গেছে। পুলিশ ওই ব্যক্তির পরিচয় ও ঘটনার সঙ্গে তার সংশ্লিষ্টতা যাচাই করছে।

রায়পুর থানার অফিসার ইনচার্জ শাহীন মিয়া বলেন, খবর পেয়ে আমরা মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য মর্গে পাঠিয়েছি। মুক্তিপণ দাবির বিষয়টি গুরুত্বসহকারে তদন্ত করা হচ্ছে। জড়িতদের দ্রুত শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনা হবে।

এই হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় জড়িতদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।