অপেক্ষা এখন চাচা-ভাতিজার লড়াই দেখার

দলের নিষেধ সত্ত্বেও মাদারীপুরের উপজেলা নির্বাচনে প্রার্থী হয়েছেন সংসদ সদস্য শাজাহান খানের ছেলেন আসিবুর রহমান আসিব খান। তার প্রতিদ্বন্দ্বী শাজাহান খানের চাচাতো ভাই পাভেলুর রহমান।

নির্বাচনের মাছে চাচা-ভাতিজার এই লড়াইয়ে এখন সবার চোখ। বুধবার নির্বাচনে ভোটাররা সদর উপজেলার চেয়ারম্যান হিসেবে চাচা না ভাতিজা কাকে বেছে নেবেন সেই আলোচনা উপজেলা জুড়ে।

প্রতীক বরাদ্দের পরই জমে ওঠে মাদারীপুর সদর উপজেলা পরিষদ নির্বাচনের প্রচার। উন্নয়নের নানা প্রতিশ্রুতি নিয়ে ভোটারদের দ্বারে দ্বারে ঘুরেছেন প্রার্থীরা।

মাদারীপুর সদর উপজেলার ভোটের চেয়ারম্যান পদের বাইরে ভাইস চেয়ারম্যান পদে তিনজন এবং মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান পদে পাঁচজন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। ১৫টি ইউনিয়ন ও একটি পৌরসভা নিয়ে গঠিত ২৮৩ দশমিক ১৪ কিলোমিটার আয়তনের সদর উপজেলায় মোট ভোটার তিন লাখ ২২ হাজার ৪২৬ জন। এর মধ্যে পুরুষ ভোটার এক লাখ ৬৬ হাজার, নারী ভোটারের সংখ্যা এক লাখ ৫৬ হাজার ৪২১। আর পাঁচজন আছেন অন্যান্য ভোটার।

উপজেলা চেয়ারম্যান পদে প্রতিদ্বন্দ্বী দুই প্রার্থী একে অপরের বিরুদ্ধে আচরণ বিধি লঙ্গের অভিযোগ আনছেন বারবার।

এবারের এই স্থানীয় সরকার নির্বাচনে দলীয় প্রতীক না রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছে আওয়ামী লীগ। মন্ত্রী-সংসদ সদস্যদের স্বজনদের প্রার্থী না করার বিষয়ে দলের নির্দেশনা রয়েছে। এই নির্দেশনা না মেনে সাবেক নৌ পরিবহনমন্ত্রী আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য শাজাহান খানের ছেলে প্রার্থী হয়েছে।

দলীয় নির্দেশনা যারা মানেননি তাদের বিরুদ্ধে কঠোর বার্তাও দিয়েছেন দলের সভাপতি ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। আওয়ামী লীগের সংসদীয় দলের সভায় শেখ হাসিনা বলেন, যারা পরিবার নিয়ে আছেন তাদের পরিবার নিয়েই থাকতে হবে। জনগণের ভোট তারা পাবে না।

এদিকে জেলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক পাভেলুর রহমান এর আগে সংবাদ সম্মেলন করে প্রতিদ্বন্দ্বী ভাতিজা আসিব খানের বিরুদ্ধে সংবাদ সম্মেলনও করেছেন। অভিযোগ করেছেন ভাই শাজাহান খানের বিরুদ্ধেও। তার অভিযোগ ছেলে পক্ষে কৌশলে প্রচার করছেন সংসদ সদস্য শাজাহান খান। যদিও এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন তিনি। আর আসিব খানের অভিযোগ তার প্রতিদ্বন্দ্বী অপপ্রচার চালাচ্ছেন।

দুই প্রার্থীর অভিযোগের বিষয়ে মাদারীপুর সদর উপজেলা পরিষদ নির্বাচনের রিটার্নিং কর্মকর্তা আহম্মেদ আলী একাত্তরকে বলেন, আচরণবিধি লঙ্ঘনের বিষয়ে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ব্যবস্থা নেবেন। এ ব্যাপারে জেলা প্রশাসনও কাজ করে যাচ্ছে। প্রার্থীদের অভিযোগগুলো আমলে নিয়ে ব্যবস্থাও নেওয়া হচ্ছে।

মাদারীপুরের জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ মারুফুর রশীদ খান বলেন, নির্বাচনী আচারণবিধি মানার জন্যে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করা হচ্ছে। যদি কোন প্রার্থী আচারণবিধি অমান্য করে আর তা রির্টানিং কর্মকর্তার কাছে লিখিত দেয় তার প্রয়োগ করতে জেলা প্রশাসন প্রস্তুত আছে।

ষষ্ঠ উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে প্রথম ধাপের ভোট হবে বুধবার। এরই মধ্যে ১৪০ উপজেলার ১০ হাজার ৬০৫টি কেন্দ্রে নির্বাচনী সরঞ্জাম পাঠিয়ে দেয়া হয়েছে।

বেশির ভাগ ভোটকেন্দ্রে ব্যালট পেপার পাঠানো হবে বুধবার, অর্থাৎ ভোটের দিন সকালে।

আর উপজেলা ভোট অবাধ ও শান্তিপূর্ণ করতে নির্বাচন কমিশনের পক্ষ থেকেও সব ধরনের ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে বলে জানানো হয়েছে।

এবারের উপজেলা পরিষদ নির্বাচন হবে চার ধাপে। প্রথম ধাপে ১৪০টি উপজেলায় ভোট বুধবার। এরই মধ্যে প্রথম ধাপে পাঁচ উপজেলার প্রার্থীরা বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হয়েছেন।

প্রথম ধাপের ভোটে ১৪০ উপজেলায় চেয়ারম্যান, ভাইস চেয়ারম্যান ও নারী ভাইস চেয়ারম্যান পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন এক হাজার ৬৩৫ জন প্রার্থী।

সদর ও রাজৈরের সব আসন ঝুঁকিপূর্ণ

এদিকে মাদারীপুরে সদর ও রাজৈর উপজেলা পরিষদ নির্বাচনের সব কেন্দ্রই ঝুঁকিপূর্ণ ঘোষণা করেছে জেলা প্রশাসন। সেই হিসেবে বাড়তি নিরাপত্তা বলয় তৈরি করা হয়েছে বলে জানান মাদারীপুর জেলা পুলিশ সুপার মাসুদ আলম।

সকালে জেলার পুলিশ লাইন্স মাঠে আইনশৃঙ্খলাবাহিনীর সদস্যদের নির্বাচনী দায়িত্ব বুঝিয়ে দেয়ার পরে ব্রিফিং করেন। জেলা পুলিশের শীর্ষ কর্মকর্তারা এ সময় দায়িত্ব পালনে নিয়োজিত পুলিশ, গোয়েন্দা পুলিশ, আনসার সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।

জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তা ও জেলা নির্বাচনী অফিসার আহমেদ আলী বলেন, সদর উপজেলার সবগুলো কেন্দ্রকেই ঝুঁকিপূর্ণ ঘোষণা করেছেন তারা। সেই মোতাবেক নিরাপত্তা ব্যবস্থা সাজানো হচ্ছে। উপজেলার ১১৭টি কেন্দ্রে নির্বাচনী সরঞ্জাম বিতরণ শুরু হয়েছে। শুধুমাত্র পেপার সকালে ভোট শুরুর আগেই কেন্দ্রে পৌঁছানো হবে।