বাজারে আসতে শুরু করেছে নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁয়ের রসালো লিচু। অন্য অঞ্চলের লিচুর তুলনায় এখানকার লিচুর কদর বেশি। তবে দাম বেশ চড়া। এ বছর খরা ও সময়মতো বৃষ্টি না হওয়ায় লিচুর ফলন কিছুটা বিপর্যয় হয়েছে। তাই দাম নিয়ে কিছুটা শঙ্কায় চাষিরা।
অবশ্য কৃষি কর্মকর্তা বলছেন, লিচুর দাম বেশি হওয়ায় চাষিরা লাভবান হবেন।
সরেজমিনে দেখা যায়, নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁয়ে বিভিন্ন বাগানে এখন থোকায় থোকায় ঝুলছে লিচু। রাত জেগে পাহারা দিচ্ছেন বাগানিরা। আর বাদুড় ও কাকের উপদ্রব ঠেকাতে নেয়া হয়েছে নানান ব্যবস্থা।
এখানকার বাগানে সাধারণত কদমী, মোজাফফরপুরী, চায়না-৩, এলাচি ও পাতি লিচুর চাষ হয়। তবে কদমী লিচুর প্রতি আগ্রহ বেশি চাষিদের। প্রতিবছর একেকটি বাগান থেকে এই লিচু ৫ থেকে ৬ লাখ টাকায় বিক্রি হয়। তাই কোথাও জায়গা পেলেই এই লিচুর চাষ করেন চাষিরা।
চাষিরা জানান, এই লিচুর স্বাদ যেমন ভালো তেমনি আগে বাজারে বিক্রির কারণে বেশ ভালো দামও পাওয়া যায়।
লিচুর মধ্যে সবার আগে পাকে বাদামি বা পাতি লিচু। ১০০ পাতি লিচু বিক্রি হয় ৫শ’ থেকে ৬শ’ টাকায়। আর কদমি লিচু ৫০০ থেকে ৭০০ টাকা এবং বোম্বাই লিচুর দাম ৪০০ থেকে ৫০০ টাকা।
এরই মধ্যে পাতি লিচু বিভিন্ন জেলায় নিয়ে যাচ্ছেন পাইকারি ব্যবসায়ীরা। তবে খরার কারণে লিচু নষ্ট হওয়ায় দাম নিয়ে শঙ্কা রয়েছে।
সোনারগাঁ উপজেলার কৃষি কর্মকর্তা আফরোজা সুলতানা জানান, অন্যান্য অঞ্চলের চেয়ে এখানকার লিচু এক মাস আগেই বাজারে আসে। এবছর টানা তাপপ্রবাহে ফলনে কিছুটা বিপর্যয় হলেও চাষিরা লাভবান হবেন।
উপজেলার ১০টি ইউনিয়ন ও একটি পৌরসভার ৮৫টি গ্রামে প্রায় ৬৮০টি লিচুর বাগান রয়েছে। আর এবছর ১১০ হেক্টর জমিতে লিচু চাষ হয়েছে, যা গত বছরের তুলনায় ৫ হেক্টর বেশি। ৭০০ থেকে ৭৫০ মেট্রিক টন লিচু উৎপাদনের আশা করা হচ্ছে।