দেশের অন্যতম বড় টায়ার প্রস্তুতকারী কোম্পানি নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জের গাজী টায়ারস কারখানার ছয়তলা ভবনের আগুন পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণে এসেছে জানিয়েছে ফায়ার সার্ভিস।
তবে ভবনটি বিভিন্ন তলার দেয়াল ধসে পড়ছে। ভেঙে পড়েছে কয়েক তলার মেঝে। আগুন নিভে গেলেও প্রচুর তাপ রয়েছে ভবনটির ভিতরে। সেই তাপ বেরিয়ে আসছে বাইরেও।
আর এ কারণেই ভবনটির ভিতরে ফায়ার সার্ভিসের উদ্ধার কর্মীরা প্রবেশ করতে পারছেন না বলে তারা জানিয়েছে।
এদিকে নিখোঁজদের সন্ধানে অপেক্ষায় শত শত পরিবার। বলা হচ্ছে, সংঘবদ্ধ লুটপাটের পর কারখানায় আগুন লাগিয়ে দেওয়া পৌনে দুইশো মানুষ নিখোঁজ রয়েছেন।
ফায়ার সার্ভিসে উপ পরিচালক আব্দুল মান্নান বলেন, মঙ্গলবার রাতে ফায়ার সার্ভিসের একটি দল সিঁড়ি বেয়ে ভবনটির তৃতীয় তলা পর্যন্ত উঠে নিখোঁজদের তল্লাশি চালানোয় চেষ্টা চালিয়েছে।
সরেজমিনে ঘুরে দেখা গেছে, বুধবার থেকে কারখানার প্রবেশদ্বারে নিখোঁজদের অপেক্ষায় স্বজনরা ভিড় জমিয়েছেন। আগুন নিয়ন্ত্রণের ৬১ ঘণ্টা পাড় হলেও কোনো সন্ধান না পেয়ে মানসিকভাবে ভেঙ্গে পড়েছেন তারা।
তবে কখন ভবনের ভিতরে পুরোদমে উদ্ধার অভিযান শুরু হবে, সে ব্যাপারে ফায়ার সার্ভিসের কেউ কিছু বলতে পারছেন না। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে মোতায়েন করা হয়েছে সেনাবাহিনী, বিজিবি, শিল্প পুলিশ ও রূপগঞ্জ থানা পুলিশ।
মঙ্গলবার সন্ধ্যা পর্যন্ত উপজেলা প্রশাসনের নির্দেশে রূপগঞ্জ থানা পুলিশ স্থানীয় বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীদের সহায়তায় ১২৯ জন নিখোঁজের একটি তালিকা করেছেন।
আর ঘটনা তদন্তের জন্য নারায়ণগঞ্জ জেলার অতিরিক্ত নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট হামিদুর রহমানের নেতৃত্বে আট সদস্য বিশিষ্ট একটি তদন্ত কমিটি গঠন করেছেন জেলা প্রশাসক মাহমুদুল হাসান।
রোববার রাত সাড়ে ১০ টারদিকে গাজী টায়ারস কারখানায় কয়েকশ লোক প্রবেশ করে লুটপাট শুরু করে। একপর্যায়ে দুর্বৃত্তরা ভবনটির নিচতলায় আগুন ধরিয়ে দেন।
মুহূর্তে আগুন পুরো ভবনটিতে ছড়িয়ে পড়ে। খবর পেয়ে ডেমরা, আদমজী ইপিজেড, আড়াইহাজার, নরসিংদী, কাঞ্চন, হাজীগঞ্জ, ঢাকার সিদ্দিকবাজার ফায়ার সার্ভিসের ১২টি প্রায় ২১ ঘণ্টা চেষ্টা চালিয়ে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে।
কারখানাটির মালিক আওয়ামী লীগ সরকারের সাবেক বস্ত্র ও পাটমন্ত্রী গোলাম দস্তগীর গাজী৷ রোববার ভোররাতে রাজধানীর শান্তিনগর এলাকার একটি বাসা থেকে গ্রেপ্তার হন আওয়ামী লীগের এ নেতা৷
গ্রেপ্তারের খবর তার নির্বাচনী এলাকা নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জ উপজেলায় ছড়িয়ে পড়লে সকাল থেকেই সেখানে উত্তেজনার সৃষ্টি হয়৷ দুপুরের দিকে টায়ার প্রস্তুতকারী কারখানাটির অদূরে একটি মসজিদ থেকে মাইকে ঘোষণা দিয়ে লোক জড়ো করা হয়। এ ঘোষণার পর কয়েকশ মানুষ জড়ো হন কারখানাটির সামনে, শুরু হয় লুটপাট।