নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জে বকেয়া বেতনের দাবিতে ঢাকা-সিলেট মহাসড়ক অবরোধ করে ‘বি ব্রাদার্স’ নামক একটি পোশাক কারখানার শ্রমিকরা ব্যাপক বিক্ষোভ ও ভাঙচুর চালিয়েছে।
শনিবার (২৮ ফেব্রুয়ারি) সকাল ৮টা থেকে দুপুর ২টা পর্যন্ত মহাসড়কের মৈকুলী এলাকায় এই সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে।
পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশ টিয়ারশেল ও গুলি ছুড়লে এলাকা রণক্ষেত্রে পরিণত হয়। ইটের আঘাতে আহত হন অন্তত ৭ পুলিশ সদস্য।
কারখানার শ্রমিকরা জানান, প্রায় তিন হাজার শ্রমিক গত ডিসেম্বর থেকে টানা তিন মাসের বকেয়া বেতন পাচ্ছেন না। মালিকপক্ষ বারবার আশ্বাস দিয়েও বেতন পরিশোধ না করায় এবং প্রতিবাদী শ্রমিকদের ছাঁটাই শুরু করায় তারা বিক্ষুব্ধ হয়ে ওঠেন। শনিবার সকালে কাজে যোগ না দিয়ে তারা মহাসড়ক অবরোধ করলে দুই দিকে দীর্ঘ যানজটের সৃষ্টি হয়, যাতে চরম ভোগান্তিতে পড়েন যাত্রী ও চালকরা।
দুপুর ১টার দিকে রূপগঞ্জ থানা ও শিল্প পুলিশ পরিস্থিতি শান্ত করার চেষ্টা করলে শ্রমিকরা পুলিশকে লক্ষ্য করে ইটপাটকেল ছুড়তে শুরু করে। জবাবে পুলিশ টিয়ারশেল ও কয়েক রাউন্ড গুলি ছোড়ে। উত্তেজিত শ্রমিকরা এ সময় কারখানার জানালা ও বেশ কিছু গাড়ি ভাঙচুর করে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে একপর্যায়ে সেনাবাহিনী যোগ দেয়। এ সময় উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সাইফুল ইসলাম শ্রমিকদের শান্ত করতে গেলে তারা তাকে কারখানার ভেতরে অবরুদ্ধ করে রাখে।
খবর পেয়ে দুপুর ২টার দিকে স্থানীয় সংসদ সদস্য মুস্তাফিজুর রহমান ভূঁইয়া দিপু ঘটনাস্থলে এসে অবরুদ্ধ ইউএনও-কে উদ্ধার করেন।
পরে সংসদ সদস্য মালিকপক্ষের সঙ্গে আলোচনা করে আগামী এক সপ্তাহের মধ্যে বকেয়া বেতন পরিশোধের আশ্বাস দিলে শ্রমিকরা সড়ক থেকে সরে দাঁড়ায়।
সহকারী পুলিশ সুপার মেহেদী ইসলাম জানান, শ্রমিকদের ইটের আঘাতে ৭ পুলিশ সদস্য আহত হয়েছেন। বর্তমানে পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে এবং কারখানার সামনে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।