কিশোরগঞ্জের মিঠামইন উপজেলায় বেড়িবাঁধের সরকারি গাছ কেটে ব্যক্তিগত রাস্তা তৈরির অভিযোগে উপজেলা বিএনপির বহিস্কৃত সভাপতি জাহিদুল আলম জাহাঙ্গীর গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। বুধবার সন্ধ্যায় জেলা শহর থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। কিশোরগঞ্জ জেলা পুলিশ সুপার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
এর আগে, তার বিরুদ্ধে অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় তাকে দল থেকে সাময়িকভাবে বহিষ্কার করে বিএনপি।
অভিযোগ উঠেছে, মিঠামইন উপজেলার কামালপুর এলাকায় নদীভাঙন রোধে নির্মিত একটি বেড়িবাঁধে রোপণ করা প্রায় ২০টি মেহগনি গাছ কেটে ফেলেছেন জাহাঙ্গীর। মূলত তার ব্যক্তিগত গাড়ি বাড়িতে নিয়ে যাওয়ার পথ সুগম করতেই এই গাছগুলো কাটা হয়।
স্থানীয়দের তথ্যমতে, গত বছরের ৫ আগস্টের পর থেকে ধাপে ধাপে এই গাছগুলো কাটা শুরু হয়। সর্বশেষ ২১ ফেব্রুয়ারি একসাথে ১০ থেকে ১২টি গাছ কেটে ফেলা হয়। প্রতিটি গাছের আনুমানিক বাজারমূল্য ২০ থেকে ২৫ হাজার টাকা বলে ধারণা করা হচ্ছে।
স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, এই বেড়িবাঁধ ও গাছগুলো ছিল নদীভাঙন প্রতিরোধের প্রতীক। সাবেক রাষ্ট্রপতি আবদুল হামিদ সংসদ সদস্য থাকার সময় নিজ উদ্যোগে এই গাছগুলো রোপণ করেছিলেন। দীর্ঘ সময় ধরে গাছগুলো বাঁধ রক্ষা ও পরিবেশের ভারসাম্য বজায় রাখছিল। ব্যক্তিগত সুবিধার জন্য এই প্রাকৃতিক রক্ষা কবচ ধ্বংস করার ঘটনায় এলাকায় ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।
গত মঙ্গলবার বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী স্বাক্ষরিত বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, জাহাঙ্গীরের এই কর্মকাণ্ড দলের নীতি, আদর্শ ও শৃঙ্খলার পরিপন্থী। তদন্তে অভিযোগের সত্যতা পাওয়ায় পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত তার প্রাথমিক সদস্যপদসহ দলীয় সকল পর্যায়ের পদ স্থগিত করা হয়েছে। বিজ্ঞপ্তিতে এ ধরনের কাজকে ‘অন্যায় ও নিন্দনীয়’ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।
এই গাছ চুরির ঘটনায় মঙ্গলবার মিঠামইন উপজেলা স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের (এলজিইডি) প্রকৌশলী ফয়জুর রাজ্জাক বাদী হয়ে মিঠামইন থানায় একটি মামলা করেছেন।
বেড়িবাঁধের গাছ নিধনের এই ঘটনাটি কেবল পরিবেশগত অপরাধ নয়, বরং রাজনৈতিক ক্ষমতার অপব্যবহারের এক উদাহরণ। বিএনপির এই কঠোর সাংগঠনিক সিদ্ধান্ত তৃণমূল পর্যায়ের নেতাকর্মীদের জন্য একটি সতর্কবার্তা হিসেবে কাজ করবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।