‘হাফ পাস নিয়ে শিক্ষার্থীদের দুই গ্রুপ!

হাফ পাসের দাবিতে শিক্ষার্থীদের চলমান আন্দোলন দুইভাগে বিভক্ত হয়েছে। রাজধানীর বিভিন্ন সড়কে সরেজমিনে ঘুরে এ তথ্যের সত্যতা মিলেছে।

সোমবার (২৯ নভেম্বর) রাজধানীর নীলক্ষেতে অবস্থান নেওয়া শিক্ষার্থীদের একাংশ দাবি করে আগামী সাত ডিসেম্বর পর্যন্ত তারা আন্দোলন স্থগিত করবেন। আসন্ন এইচএসসি পরীক্ষার কথা বিবেচনা করে তারা এ সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।

আরেকাংশের শিক্ষার্থীদের দাবি, যারা আন্দোলন স্থগিতের ঘোষণা দিয়েছেন তারা সাধারণ শিক্ষার্থী নয়। একটি স্বার্থান্বেষী মহলের প্ররোচনায় এই ঘোষণা দেওয়া হয়েছে। একইসাথে তারা আগামীকাল মঙ্গলবারের (৩০ নভেম্বর) মধ্যে ৯ দফা দাবি মেনে না নেওয়া হলে বিআরটিএ অফিসে অবস্থান নেয়ার ঘোষণা দিয়েছেন।

শিক্ষার্থীদের ৯ দফা দাবি হলো-

১. দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালে শিক্ষার্থীসহ সব সড়ক হত্যার বিচার করতে হবে এবং হতাহতদের পরিবারকে যথাযথ ক্ষতিপূরণ দিতে হবে।

২. ঢাকাসহ সারাদেশে সব গণ-পরিবহনে (সড়ক, রেল, নৌ এ মেট্রো রেল) শিক্ষার্থীদের হাফ পাস জারি করে প্রজ্ঞাপন জারি করতে হবে।

৩. গণ-পরিবহনে নারীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হবে এবং জনসাধারণের চলাচলের জন্য যথাস্থানে ফুটপাত, ফুট-ওভার ব্রিজ বা বিকল্প নিরাপত্তা ব্যবস্থা দ্রুত নিশ্চিত করতে হবে।

৪. সড়ক দুর্ঘটনায় আহত সকল যাত্রী এবং পরিবহন শ্রমিকের যথাযথ ক্ষতিপূরণ ও পুনর্বাসন নিশ্চিত করতে হবে।

৫. পরিকল্পিত বাস স্টপেজ ও পার্কিং স্পেস নির্মাণ ও যথাযথ ব্যবহার নিশ্চিত করতে হবে।

৬. দ্রুত বিচারিক প্রক্রিয়ার মাধ্যমে ও যথাযথ তদন্ত সাপেক্ষে সড়ক দুর্ঘটনায় নিহতের দায়ভার সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি বা মহলকে নিতে হবে।

৭. বৈধ ও অবৈধ যানবাহন চালকদের প্রশিক্ষণের মাধ্যমে বৈধতার আওতায় আনতে হবে এবং বিআরটিএ’র সকল কর্মকাণ্ডের ওপর নজরদারি ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে হবে।

আরও পড়ুন: স্বপদেই বহাল থাকছেন রবির চুল কাটা সেই শিক্ষিকা

৮. আধুনিক বাংলাদেশ বিনির্মাণে ঢাকাসহ সারাদেশে ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা অবিলম্বে স্বয়ংক্রিয় ও আধুনিকায়ন এবং পরিকল্পিত নগরায়ন নিশ্চিত করতে হবে।

৯. ট্রাফিক আইন নিয়ে জনসচেতনতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে এই বিষয়গুলোকে পাঠ্যসূচির অন্তর্ভুক্ত করতে হবে এবং ইলেকট্রনিক মিডিয়ার মাধ্যমে সচেতনতামূলক অনুষ্ঠান প্রচার করতে হবে।


একাত্তর/আরএ