নিত্যপণ্যের ঊর্ধ্বগতির কারণে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের হলের ডাইনিং ও ক্যান্টিনের খাবারের দামে প্রভাব ফেলেছে। খাবারের দাম গড়ে ২৫ শতাংশ বাড়ানো হলেও বাড়েনি খাবারের মান।
অনেকটা বাধ্য হয়েই বছরের পর বছর বৈচিত্র্যহীন খাবার খাচ্ছেন শিক্ষার্থীরা। তারা বলছেন, অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে তৈরি খাবার খেয়ে স্বাস্থ্য ঝুঁকিতে পড়লেও কারো মাথা ব্যথা নেই।
চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের সোহরাওয়ার্দী হলের ক্যাফেটেরিয়া এখন পুরোটাই ফাঁকা। কারণ, হলের খাবারের মানে তিতিবিরক্ত শিক্ষার্থীরা।
গত সপ্তাহে নিম্নমানের খাবার পরিবেশন এবং অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে রান্নার অভিযোগে শিক্ষার্থীরা এই ক্যাফেটেরিয়াতেই ঝুলিয়েছিলো তালা।
সোহরাওয়ার্দী হলের এক শিক্ষার্থী বলেন, একটা মুরগি দিয়ে ২০ জনকে খাওয়ানো হয়। বাধ্য হয়ে খেতে হয় এই খাবার। বিশ্ববিদ্যালয় ভর্তুকি না দিলে মান হয়তো বাড়বে না।
এই বিশ্ববিদ্যালয়ের অন্য হলগুলোর ডাইনিংয়ের চিত্রও একই রকম। মোটা চালের ভাত, নাম মাত্র মাংসের ছোট টুকরো, পাতলা ডাল কিংবা স্বাদহীন সবজি- এই চলছে বছরের পর বছর।
এক শিক্ষার্থী বলেন, হলের ডাইনিংয়ের খাবার মোটেও রুচিসম্মত নয়। হলের ডালকে হলুদ গোলা পানি বললেও ভুল হবে না। মানুষ অনেক সময় ভুলে ডালের পাত্রে হাত ধুয়ে ফেলে। তরকারিতে মাছের সাইজ একটা আঙুলের সাইজ থেকে ছোট।
হলগুলোর ডাইনিং ও ক্যান্টিনে দেখা যায়, অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে রান্না হচ্ছে খাবার। বাধ্য হয়ে অনেক শিক্ষার্থীকে বেশি টাকা দিয়ে বাইরের হোটেলগুলোতে খেতে হয়।
করোনার পর ডাইনিংয়ে খাবারের দাম বেড়েছে পাঁচ টাকা, কিন্তু মান বাড়েনি। অবশ্য ডাইনিংয়ে স্টাফদের দাবি, অল্প দামেও খাবারের মান ভাল রাখার চেষ্টা করছেন তারা।
বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন শিক্ষার্থীদের খাবারের জন্য সরাসরি ভর্তুকি দেয় না। তবে গ্যাস-পানি-বিদ্যুৎ বিলের পাশাপাশি কর্মচারীদের বেতন দেয় প্রশাসন।
আরও পড়ুন: ঢাবি হলে খাবারের দাম বাড়লেও কমেছে পরিমাণ
অবশ্য হলের ডাইনিং-ক্যানটিনে খাবারের মান রক্ষায় বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের তদারকি রয়েছে জানান প্রোক্টর রবিউল হাসান ভুঁইয়া।
তিনি জানান, দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতির কারণে সবার সিদ্ধান্তক্রমে খাবারের দাম বাড়ানো হয়েছে। তবে এই দামেও খাবারের মান বাড়ানো সম্ভব নয়। একই কথা মানের ডাইনিং স্টাফরাও।
চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্রদের সাতটি আর ছাত্রীদের চারটিসহ মোট ১১টি হলে শিক্ষার্থী থাকেন প্রায় ৯ হাজার। এরমধ্যে দুই-তৃতীয়াংশ শিক্ষার্থীই হলের খাবারের ওপর নির্ভরশীল।
একাত্তর/এসজে