চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (চাকসু) নির্বাচনে প্রতিটি পদে পদে অনিয়মের অভিযোগ আনলো ছাত্রদল। তাদের অভিযোগ, এমন অবস্থার পরও নির্বাচন কমিশন ও বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন নির্বিকার ছিলো। আরও অভিযোগ, এই নির্বাচনকে একটি কলঙ্কিত অধ্যায় হিসাবে প্রতিষ্ঠিত করেছে নির্বাচন কমিশন।
বুধবার (১৫ অক্টোবর) রাতে চাকসুতে ছাত্রদল সমর্থিত ভিপি প্রার্থী সাজ্জাদ হোসেন হৃদয় সাংবাদিক সম্মেলনে এই অভিযোগ করেন।
হৃদয় বলেন, বারবার অভিযোগ দেওয়ার পরেও অসহায়ত্ব দেখিয়েছেন, দায়িত্বহীনতার পরিচয় দিয়েছেন। আমরা মনে করি, উনাদের জবাবদিহির আওতায় আনা উচিত।
চাকসু নির্বাচন শেষে ভোট গণনা চলছে। নিরবচ্ছিন্নভাবে নির্বাচন প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে দুই প্লাটুন বিজিবি মোতায়েন।
অপরদিকে শিবির সমর্থিত প্যানেলের ভিপি প্রার্থী ইব্রাহিম রনি এক সাংবাদিক সম্মেলনে অভিযোগ করেন, ছাত্রদল ক্যাম্পাসের আশেপাশে বহিরাগত লোকজন জড়ো করে শঙ্কিত পরিস্থিতি সৃষ্টি করেছে। এছাড়া অমোচনীয় কালি ব্যবহার না করা ও কিছু কেন্দ্রে এলইডি স্ক্রিন সাময়িক বন্ধ ছিলো বলেও অভিযোগ করেন তিনি।
আচরণবিধি লঙ্ঘন করার পরও ছাত্রদল নেতাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা না নেওয়ায় বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন ও নির্বাচন কমিশনের বিরুদ্ধে পক্ষপাতের অভিযোগো তোলেন রনি।

এদিকে চাকসুর নির্বাচন কমিশনের প্রধান অধ্যাপক মনির উদ্দিন সাংবাদিকদের জানিয়েছেন, প্রায় ৭০ শতাংশ শিক্ষার্থী ভোট দিয়েছেন।
এই হিসাব সন্ধ্যা পর্যন্ত উল্লেখ করে তিনি জানান, এখনও আমাদের কাছে সব কেন্দ্রের তথ্য আসেনি। তবে সার্বিকভাবে বলা যায়, প্রায় ৭০ শতাংশ শিক্ষার্থী ভোট দিয়েছেন। সমাজবিজ্ঞান অনুষদ ভবনে ৬৭ দশমিক ১৭ শতাংশ, আইটি ভবনে ৭২ শতাংশ এবং বিজ্ঞান অনুষদ ভবনে ৬৯ শতাংশ ভোটারের ভোট পড়েছে।
রাত পৌনে ১১টার দিকে একটি সূত্র জানায়, চাকসু নির্বাচনে ২৭ হাজার ৫১৬ জন ভোটারের মধ্যে ১৭ হাজার ৭১৭ জন ভোট দিয়েছেন। ভোট পড়েছে ৬৪.২৪ শতাংশ।
হল সূত্র বলছে, সোহরাওয়ার্দী হলের মোট ভোটার চার হাজার ৩৬। তাদের মধ্যে ভোট দিয়েছেন দুই হাজার ৯০৮ জন।
শেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত শিল্পী আব্দুর রশিদ ছাত্রাবাসে মোট ভোট কাস্ট হয়েছে ১২৪টি। তার মধ্যে ভিপি পদে ছাত্রদলের হৃদয় ৩৪, শিবিরের রনি ২৭, জিএস পদে ছাত্রদলের শাফায়েত ১৪, শিবিরের সাঈদ বিন হাবিব ২৮, এজিএস পদে ছাত্রদলের তৌফিক ৩৮ ও শিবিরের মুন্না ১১ ভোট পেয়েছেন।
