প্রখ্যাত গীতিকার ও জ্যোতিষী কাওসার আহমেদ চৌধুরীর দাফন করা হয়েছে। বুধবার সকাল সাড়ে ১০টায় রাজধানীর আজিমপুর কবরস্থানে তাকে চিরশায়িত করা হয়।
এর আগে সকাল ৯টায় ধানমন্ডি তাকওয়া মসজিদে কাওসার আহমেদ চৌধুরীর জানাজা হয়। এরপর তার শেষ ইচ্ছানুযায়ীই তাকে আজিমপুর কবরস্থানে সমাহিত করা হয়।
এ সময় পরিবার ও আত্মীয় স্বজনের পাশাপাশি উপস্থিত ছিলেন সংগীতাঙ্গণের হাতে গোনা কয়েকজন। তারা হলেন ফুয়াদ নাসের বাবু, সামিনা চৌধুরীসহ আরো দু’একজন। তবে তার জানাজা ও দাফনে সঙ্গীতাঙ্গনের তেমন কাউকে না পেয়ে দু:খ প্রকাশ করেছেন অনেকে।
যেখানে সীমান্ত তোমার কিংবা কবিতা পড়ার প্রহর এসেছে- এর মত অসংখ্য জনপ্রিয় বাংলা গানের জনক কাওসার আহমেদ মঙ্গলবার ৭৭ বছর বয়সে একটি ক্লিনিকে মারা যান।
কোনো ডাকেই আর তাকে ‘ফেরানো যাবে না’। কথার পিঠে কথা সাজিয়ে যিনি বলেছেন বসন্তের কথা, ভালোবাসার কথা ফিরে আসবার কথা। কয়েক দশকের জনপ্রিয় গানের রচয়িতা কাওসার আহমেদ চৌধুরী নিজেই আজ না ফেরার দেশের বাসিন্দা।
আরও পড়ুন: গীতিকার কাওসার আহমেদ চৌধুরী আর নেই
দীর্ঘদিন ধরে তিনি কিডনির সমস্যা ও রক্তের সংক্রমণসহ একাধিক শারীরিক জটিলতায় ভুগছিলেন। এর আগে তিনি দুইবার স্ট্রোকও করেছিলেন। গত সপ্তাহে প্রথমে তাকে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি করা হয়। পরে ধানমন্ডি ক্লিনিকে স্থানান্তর করা হয়।
কাওসার আহমেদ চৌধুরী মূলত একজন গীতিকবি। জ্যোতিষী হিসেবেও তিনি সমান পরিচিত। একটি দৈনিকে ‘আপনার রাশি’ শিরোনামে রাশিফল গণনার মধ্য দিয়ে পাঠকদের কাছে একটি পরিচিত নাম হয়ে উঠেন তিনি।
কুমার বিশ্বজিতের যেখানে সীমান্ত তোমার, লাকী আখন্দের আমায় ডেকো না ফেরানো যাবে না, আইয়ুব বাচ্চুর রুপালী গিটার, সামিনা চৌধুরীর কবিতা পড়ার প্রহর প্রখ্যাত গানগুলোর স্রষ্টা কাওসার আহমেদ চৌধুরী।
মুক্তিযোদ্ধা ছিলেন কাওসার চৌধুরী। মুক্তিযুদ্ধের সময় মুজিবনগর সরকারের গোয়েন্দা হিসেবে তথ্য সংগ্রহের কাজ করতেন তিনি। ১৯৪৪ সালের ১৬ ডিসেম্বর সিলেট জেলায় জন্ম কাওসার আহমেদ চৌধুরীর। ছাত্র চারুকলার ছাত্র ছিলেন। লিখতেন কবিতাও।