বাঙালির হৃদয়ে যে গানগুলো চির অম্লান

দেশকে ভালোবেসে দেশের মাটির জন্য রচিত হয়েছে বহু গান। সেই গানে উদ্দীপনা পেয়েছিলেন মুক্তিকামী মানুষ। স্বাধীনতার যুদ্ধে অনুপ্রেরণার অন্যতম উৎস ছিল দেশের গান। বড় অস্ত্র ছিলো তখন গানের কথা-সুর-কণ্ঠ অনেক।

আজ স্বাধীনতার ৫৩ বছর পরও সেই গানগুলো যেন চির উজ্জ্বল ও অমূল্য সম্পদ। তবে দুখের বিষয়, আমরা হয়তো সেভাবে তার মূল্য দিচ্ছি না বা যত্নে লালন করছি না! সারাবছর তো দূরে থাক বিশেষ এই দিনগুলোতেও এখন আর সেই আকুল করা গানের সুর নানা দিক থেকে কানে ভেসে আসে না, কিন্তু কেন?! তবে কি দেশমাতৃকার প্রতি আমাদের সত্যিকারের মমতা নড়বড়ে?

শাহানাজ রহমতুল্লাহ

হয়তো বহুবার শুনেছেন, আবার একটু শুনে দেখেন তো শাহানাজ রহমতুল্লার কণ্ঠে- খান আতা রচিত- এক নদী রক্ত পেরিয়ে.. হয়তো বা ইতিহাসে তোমাদের নাম লেখা রবে না..’’ হৃদয়টা দুমড়ে-মুচড়ে ওঠে না?! এরকম অসংখ্য গান আছে যা আমাদের মনকে জাগ্রত করে, বাঙালি হিসেবে করে গর্বিত।

আবদুল জব্বারের কণ্ঠে ‘সালাম সালাম হাজার সালাম’ কিংবা ‘হাজার বছর পরে’ এবং আপেল মাহমুদের কণ্ঠে ‘মোরা একটি ফুলকে বাঁচাবো বলে যুদ্ধ করি’ কিংবা ‘তীর হারা এই ঢেউয়ের সাগর পাড়ি দেবোরে’, গাজী মাজহারুল আনোয়ারের লেখা ও আনোয়ার পারভেজের সুরে ‘জয় বাংলা বাংলার জয়’ প্রাণ জুগিয়েছে মুক্তিযুদ্ধে। গোবিন্দ হালদার রচিত ‘পূর্ব দিগন্তে সূর্য উঠেছে, মোরা একটি ফুলকে বাঁচাবো বলে যুদ্ধ করি।

আব্দুল জব্বার

এক সাগর রক্তের বিনিময়ে/বাংলার স্বাধীনতা আনলে যারা/আমরা তোমাদের ভুলবো না। গোবিন্দ হালদারের কথায় এই গানটির সুরারোপ করেন আপেল মাহমুদ। গানটি কণ্ঠে তোলে জনতার মাঝে দেশপ্রেমের চেতনা জাগান স্বপ্না রায়।

খান আতাউর রহমান

মার্কিন সংগীতশিল্পী জর্জ হ্যারিসন ‘বাংলাদেশ’ শিরোনামে কালজয়ী গানটি গেয়েছিলেন। এ গানটি বাঙালি জাতিকে অনুপ্রেরণা দিয়েছিল।

অন্যান্য গানের মধ্যে রয়েছে আবুল কাশেম সন্দ্বীপের লেখা ও সুজেয় শ্যামের সুরে ‘রক্ত দিয়ে নাম লিখেছি’, জীবনানন্দ দাশের ‘বাংলার মুখ আমি দেখিয়াছি’ এবং শহিদুল ইসলামের লেখা ও সুজেয় শ্যামের সুরে ‘বিজয় নিশান উড়ছে ঐ’।

গৌরি প্রসন্ন মজুমদারের লেখা ‘শোন একটি মুজিবুরের থেকে লক্ষ মুজিবুরের কণ্ঠস্বরের ধ্বনি’ গানটিতে সুর দিয়েছিলেন অংশুমান রায়। এটি গেয়েছিলেন শ্যামল মিত্র।

সিকান্দার আবু জাফরের লেখা ও শেখ লুতফর রহমানের সুরে ‘জনতার সংগ্রাম চলবে’, নঈম গহর রচিত ও সমর দাস সুরারোপিত ‘নোঙ্গর তোল তোল’, আবদুল লতিফের ‘সোনা সোনা সোনা লোকে বলে সোনা’সহ আরও অনেক গান প্রেরণা জুগিয়েছিল বাঙালির হৃদয়ে।

গোবিন্দ হালদার

মহসীন রেজার কথায় ও রথীন্দ্রনাথ রায়ের কণ্ঠে ‘ছোটদের বড়দের সকলের’ গানটিও বেশ জনপ্রিয়তা পায় তখন।

গণসংগীতের পাশাপাশি মুক্তিযুদ্ধে অনুপ্রেরণার উৎস হিসেবে জোরালো ভূমিকা রাখে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর, কাজী নজরুল ইসলাম, অতুলপ্রসাদ ও রজনীকান্তের দেশাত্মবোধক গানগুলো।

শ্রদ্ধা ভরে স্মরণ করি এই গুণী মানুষদের, যারা বাংলা এবং বাঙালির গর্ব, যাদের অবদান মানুষ অনন্তকাল মনে রাখবে সেই সাথে এই অমূল্য সম্পদের সঠিক চর্চার মধ্য দিয়ে প্রজন্ম থেকে প্রজন্মকে দেশপ্রেমে উদ্বদ্ধ করবে।