'দেবদাস', 'সাওয়ারিয়া' এবং 'গাঙ্গুবাই কাথিয়াওয়াড়ি' ছবির মাধ্যমে পরিচালক সঞ্জয় লীলা বনশালী পর্দায় বারবার তুলে ধরেছেন সমাজের যৌনকর্মীদের জীবন সংগ্রাম, তাদের দুঃখ-বেদনা এবং অসম্পূর্ণ প্রেমের কাহিনি। ঠিক একই ভাবে, তার প্রথম ওয়েব সিরিজ 'হীরামান্ডি; ‘দ্য ডায়মন্ড বাজার'-এ বনশালী সমাজের এই নিগৃহীত মানুষগুলোকে সম্মান ফিরিয়ে দেওয়ার কথা বলেছেন। ‘হীরামান্ডি’র প্লট ভারতের স্বাধীনতা সংগ্রামে বাইজি বাড়ির অবদান নিয়ে। যেখানে প্রেম, প্রতিশোধ এবং বিদ্রোহের কথা রয়েছে।
বনশালীর এই ছবিতে বহুদিন পর মুখ্য চরিত্রে অভিনয় করলেন মনীষা কৈরালা। এছাড়াও রয়েছেন সোনাক্ষী সিনহা, অদিতি রাও হায়দারি, রিচা চাড্ডা, শারমিন সেহগাল, ফারদিন খান প্রমুখ। ১৮ বছর আগে 'হীরামান্ডি' চলচ্চিত্র আকারে করতে চেয়েছিলেন বনশালী। আর সেইসময় রেখা, রানি ও কারিনাকে ভেবেই বানাতে চলেছিলেন এই ছবি। কিন্তু সে কাজ আর বাস্তবায়িত হয়নি।
সেই সময় ঐ মাপের কাস্ট সহ ছবির সেট থেকে শ্যুটিং সবকিছু করা ছিল বিপুল ব্যয়ভারের বিষয়। প্রযোজক পাওয়াও ছিল কঠিন। তাই বড়পর্দার জন্য আর তৈরি করতে পারেননি 'হীরামান্ডি'। তবে শুধু এই কাস্টেই থেমে থাকেনি সঞ্জয়ের স্বপ্নের প্রোজেক্ট। বারবার কাস্ট পরিবর্তন হয়ে শেষমেষ এটি সিরিজে রিলিজ হলো। পরিচালক বলেন, ‘আমার মনে একাধিক অভিনেতার নাম ছিল। আমি প্রথমে রেখাজি, করিনা কাপুর, রানি মুখোপাধ্যায়ের কথা ভেবেছিলাম। যদিও তখন সিরিজ হবে ভাবিনি। ছবি তৈরি করব ভেবেছিলাম। এরপরে পাকিস্তানি নায়িকা মাহিরা খান, নায়ক ইমরান আব্বাস ও ফাওয়াদ খানের কথা মাথায় আসে। যেহেতু গল্পের প্লটে রয়েছে স্বাধীনতা পূর্বযুগের লাহোর।’
ইমরান আব্বাস বনশালীর প্রস্তাব গ্রহণ করেছিলেন। কিন্তু ছবিটাই হল না। শুধু তাই নয়, ইমরান জানান তাকে 'গুজারিশ' ছবিতে আদিত্য রায় কাপুরের ভূমিকাটিরও প্রস্তাব দেওয়া হয়েছিল।
বর্তমান কাস্টে দীর্ঘদিন পর চ্যালেঞ্জিং চরিত্রে দেখা গিয়েছে মনীষা কৈরালাকে। তার অভিনয়ে ধরা পড়েছে কঠোর পরিশ্রম। ‘হীরামান্ডি’ সিরিজে মনীষা ছাড়াও রয়েছেন সোনাক্ষি সিনহা, রিচা চাড্ডা, শরমিন সেহগাল, অদিতি রাও এবং সনজিদা শেখ। এই সিরিজের হাত ধরেই বলিউডে ফিরলেন অভিনেতা ফারদিন খান।