বলিউডের জনপ্রিয় ‘ধুম’ সিনেমার সেই সুইটিকে মনে আছে? রিমি সেন অনেকদিন আগেই অভিনয় ছেড়ে দুবাইয়ে রিয়েল এস্টেট ব্যবসায় থিতু হয়েছেন। তবে সম্প্রতি এক সাক্ষাৎকারে নিজের পুরোনো সহকর্মী জন আব্রাহামকে নিয়ে এমন কিছু মন্তব্য করেছেন, যা নিয়ে সোশ্যাল মিডিয়ায় বেশ শোরগোল পড়ে গেছে।
অভিনয়কে বিদায় জানিয়ে এখন দুবাইয়ের সফল ব্যবসায়ী রিমি সেন। বলিউডের হার্টথ্রব জন আব্রাহামকে নিয়ে কথা বলতে গিয়ে রিমি যা বললেন, তাকে একাধারে প্রশংসা এবং চরম কটাক্ষ- দুই-ই বলা চলে। রিমির মতে, জন আব্রাহাম আসলে অভিনয় পারতেন না, কিন্তু তার বুদ্ধিমত্তা এতটাই প্রখর ছিল যে, তিনি অত্যন্ত চতুরতার সাথে নিজের ‘অভিনয় অক্ষমতা’ লুকিয়ে রাখতে পেরেছেন।
জন আব্রাহামের ক্যারিয়ারের শুরুটা মডেলিং দিয়ে। ২০০৩ সালে ‘জিসম’ দিয়ে বড় পর্দায় পা রাখেন তিনি। রিমি সেনের ভাষ্যমতে, শুরুতে জন জানতেন না কীভাবে অভিনয় করতে হয়। কিন্তু তিনি ছিলেন প্রচণ্ড বুদ্ধিমান। তিনি নিজের সীমাবদ্ধতাগুলো জানতেন। তাই তিনি এমন সব চরিত্র বেছে নিতেন যেখানে খুব বেশি অভিনয়ের দরকার নেই, বরং অ্যাকশন আর লুক দিয়ে বাজিমাত করা যায়।
রিমি আরও যোগ করেন, মানুষ যখন সমালোচনা করত, তিনি পাল্টা কিছু বলতেন না। বরং ধীরস্থিরভাবে এমন সব কাজ করতেন যাতে তাকে দেখতে ভালো লাগে। ফলে তার অভিনয় নিয়ে প্রশ্ন তোলার সুযোগ পেত না। দীর্ঘ সময় ক্যামেরার সামনে থাকায় মানুষ এমনিতেই অভিনয় শিখে যায়, জনও তাই করেছেন।
কটাক্ষের সুরে শুরু করলেও শেষে জনের স্ট্র্যাটেজির প্রশংসাই করেছেন রিমি। তিনি বলেন, ব্যক্তিগতভাবে আমি জানি তিনি কতটা বুদ্ধিমান। একজন মডেল থেকে অ্যাকশন হিরো, এরপর সফল প্রযোজক এবং সফল ব্যবসায়ী- এই যাত্রাটি তিনি খুব পরিকল্পনা করে পাড়ি দিয়েছেন। নিজের দুর্বলতাকে পুঁজি করে কীভাবে সফল হওয়া যায়, জন আব্রাহাম তার আদর্শ উদাহরণ।
মুম্বাইয়ের গ্ল্যামার জগৎ ছেড়ে দুবাইয়ের রিয়েল এস্টেট ব্যবসায় নাম লেখানো প্রসঙ্গে রিমি জানান, দুবাইয়ের জীবনযাত্রা তাকে অনেক বেশি টানে। তার মতে, দুবাই সবাইকে আপন করে নিতে জানে। এখানকার সুযোগ-সুবিধা আর মানুষের জীবন সহজ করার যে প্রচেষ্টা, তা মুম্বাইয়ে অভাব। উল্লেখ্য, রিমি সেন ‘ধুম’ ছাড়াও ‘হাঙ্গামা’, ‘গোলমাল’, ‘ফির হেরা ফেরি’র মতো সুপারহিট সিনেমায় অভিনয় করেছিলেন।