অরজিতের সুর থামছে না, পথ বদলাচ্ছে: শ্রেয়া ঘোষাল

বলিউড সংগীত জগতের এক উজ্জ্বল নক্ষত্র অরিজিৎ সিং। তার কণ্ঠ এক যুগেরও বেশি সময় ধরে কোটি মানুষের ভালোবাসা, বিরহ আর একাকিত্বের সঙ্গী হয়ে আছে। মঙ্গলবার আচমকাই ‘প্লেব্যাক সিঙ্গিং’ বা চলচ্চিত্রের গান থেকে বিদায় নেওয়ার ঘোষণা দিয়ে ভক্তদের স্তব্ধ করে দিয়েছেন এই শিল্পী।

বছরের শুরুতেই এ যেন এক বিনা মেঘে বজ্রপাত! বলিউডের জনপ্রিয় সংগীতশিল্পী অরিজিৎ সিং ঘোষণা করেছেন, তিনি আর নতুন কোনো চলচ্চিত্রের গানে (প্লেব্যাক) কণ্ঠ দেবেন না। ইনস্টাগ্রামে এক আবেগঘন বার্তায় নিজের দীর্ঘ পথচলার ইতি টানার কথা জানান তিনি।

মঙ্গলবার অরিজিৎ তার ভক্তদের নতুন বছরের শুভেচ্ছা জানিয়ে লেখেন, এত বছর ধরে শ্রোতা হিসেবে আপনারা আমাকে যে ভালোবাসা দিয়েছেন, তার জন্য অশেষ কৃতজ্ঞতা। আমি ঘোষণা করছি, এখন থেকে প্লেব্যাক গায়ক হিসেবে আমি আর নতুন কোনো কাজ নেব না। আমি এখানেই শেষ করছি। এটি একটি চমৎকার যাত্রা ছিল।

২০১১ সালে 'মার্ডার ২' সিনেমার 'ফির মহব্বত' দিয়ে হিন্দি সিনেমায় অভিষেক হয়েছিল তার। তবে ২০১৩ সালে 'আশিকি ২' ছবির 'তুম হি হো' গানটি তাকে রাতারাতি সুপারস্টারে পরিণত করে। এরপর দীর্ঘ এক যুগেরও বেশি সময় ধরে তিনি ছিলেন বলিউডের অপ্রতিদ্বন্দ্বী সুরের জাদুকর।

অরিজিতের এই আকস্মিক সিদ্ধান্তে ভক্তরা মুষড়ে পড়লেও, তার সহকর্মী ও জনপ্রিয় গায়িকা শ্রেয়া ঘোষাল বিষয়টিকে দেখছেন ইতিবাচক দৃষ্টিভঙ্গিতে। 

অরিজিতের পোস্টে মন্তব্য করে শ্রেয়া লেখেন, এটি অরিজিৎ সিংয়ের জীবনের এক নতুন অধ্যায়ের শুরু এবং এই জিনিয়াস শিল্পী ভবিষ্যতে কী সৃষ্টি করেন, তা শোনার ও অনুভব করার জন্য আমি সত্যিই উত্তেজিত! আমি কখনোই একে একটি 'যুগের সমাপ্তি' বলব না। তার মতো একজন শিল্পীকে কোনো প্রথাগত মাধ্যম বা ধরাবাঁধা ফর্মুলায় আটকে রাখা সম্ভব নয়। আরও উঁচুতে ওড়ার সময় এসেছে, প্রিয় অরিজিৎ।

প্লেব্যাক ছাড়ার অর্থ এই নয় যে, অরিজিৎ গান গাওয়া ছেড়ে দিচ্ছেন, বরং তিনি হয়তো স্বাধীনভাবে সংগীত বা নিজস্ব কোনো প্রজেক্টে মন দেবেন। তবে সিনেমার পর্দায় তার সেই চেনা আবেগি কণ্ঠ আর শোনা যাবে না ভেবে সামাজিক মাধ্যমে দুঃখ প্রকাশ করছেন লাখো অনুরাগী। 

অনেকের কাছেই এটি একটি স্বর্ণালী অধ্যায়ের সমাপ্তি। ২০০৫ সালে রিয়ালিটি শো 'ফেমে গুরুকুল'-এর মাধ্যমে যাত্রা শুরু করা মুর্শিদাবাদের সেই ছেলেটি আজ নিজেই একটি প্রতিষ্ঠান। প্লেব্যাক জগতকে বিদায় জানালেও ভক্তদের আশা, অরিজিৎ তার সুরের মায়ায় আমাদের আরও অনেক দিন আচ্ছন্ন করে রাখবেন—হয়তো ভিন্ন কোনো রূপে, ভিন্ন কোনো প্ল্যাটফর্মে।