প্লেব্যাক সম্রাট অরিজিৎ সিংয়ের সেরা পাঁচ গান

বলিউড সংগীতের এক সোনালী অধ্যায়ের মহাপ্রস্থান ঘটলো। সুরের জাদুকর অরিজিৎ সিং প্লেব্যাক সংগীত থেকে অবসরের ঘোষণা দিয়েছেন। মঙ্গলবার ২৭ জানুয়ারি ইনস্টাগ্রামে এক বার্তার মাধ্যমে তিনি জানান, চলচ্চিত্রের গানের এই চমৎকার যাত্রাটি তিনি এখানেই শেষ করছেন। তার এই বিদায়ে বিশ্বজুড়ে কোটি ভক্তের হৃদয়ে বিষাদের সুর বেজে উঠেছে। 

ভারতীয় সংগীতের অন্যতম প্রভাবশালী কণ্ঠস্বর অরিজিৎ সিং আর নতুন কোনো চলচ্চিত্রের গানে কণ্ঠ দেবেন না। তার এই ঘোষণাটি কেবল একটি খবর নয়, বরং কোটি সংগীতপ্রেমীর জন্য একটি আবেগের ইতি। ২০০৫ সালে 'ফেমে গুরুকুল' দিয়ে শুরু হওয়া সেই অদম্য যাত্রা শেষ হলো ২০২৬ সালে এসে।

অরিজিৎ সিং তার বিদায়ী বার্তায় লেখেন, শ্রোতা হিসেবে আপনারা আমাকে যে ভালোবাসা দিয়েছেন, তার জন্য কৃতজ্ঞতা। আমি ঘোষণা করছি যে, এখন থেকে প্লেব্যাক গায়ক হিসেবে আমি আর নতুন কোনো কাজ নেব না। যাত্রাটি চমৎকার ছিল। 

বর্তমানে তার গাওয়া 'বর্ডার ২' সিনেমার 'ঘর কব আওগে' এবং 'ব্যাটল অফ গালওয়ান' সিনেমার 'মাতৃভূমি' গানগুলো মানুষের মুখে মুখে ফিরছে। এমনকি বিশাল ভরদ্বাজের আসন্ন চলচ্চিত্র 'ও রোমিও'-তেও তার কণ্ঠের বৈচিত্র্য মুগ্ধ করেছে সবাইকে।

অরিজিতের ক্যারিয়ারের দিকে তাকালে দেখা যায় এক অবিস্মরণীয় সাফল্যের খতিয়ান।

তুম হি হো (আশিকি ২, ২০১৩): এই একটি গান অরিজিতের জীবন বদলে দিয়েছিল। এর জন্য তিনি প্রথম ফিল্মফেয়ার পুরস্কার পান।

চান্না মেরেয়া (অ্যায় দিল হ্যায় মুশকিল, ২০১৬): বিরহের এই গানটি বলিউডের অন্যতম 'ক্লাসিক' হিসেবে স্বীকৃত।

আগার তুম সাথ হো (তামাশা, ২০১৫): অলকা ইয়াগনিকের সাথে গাওয়া এই গানটিতে ভালোবাসার জটিলতা ও আবেগ অনন্য উচ্চতায় পৌঁছেছিল।

রাবতা (এজেন্ট বিনোদ, ২০১২): প্রীতমের সুরে এই রোমান্টিক গানটি আজও তরুণ প্রজন্মের পছন্দের শীর্ষে।

কেসারিয়া (ব্রহ্মাস্ত্র, ২০২২): আধুনিক বলিউডের অন্যতম বড় চার্টবাস্টার হিসেবে এটি অরিজিতের আধিপত্য বজায় রেখেছিল।

অরিজিৎ কেবল রোমান্টিক বা বিরহের গানেই সীমাবদ্ধ ছিলেন না। 'নাশে সি চাঢ গায়ি'-র মতো হাই-এনার্জি ট্র্যাক থেকে শুরু করে ভক্তিগীতি- সব কিছুতেই ছিল তার অবাধ বিচরণ। হিন্দি ছাড়াও বাংলা, তেলেগু, মারাঠি ও তামিল ভাষায় গান গেয়ে তিনি নিজেকে একজন সার্থক শিল্পী হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করেছেন।

অরিজিৎ সিংয়ের বিদায় মানে শুধু এক ব্যক্তির অবসর নয়, এটি একটি সুরের ঘরানার বিদায়। তিনি হয়তো প্লেব্যাক করবেন না, কিন্তু তার গাওয়া গানগুলো যুগে যুগে মানুষের বিরহ, ভালোবাসা আর একাকিত্বের চিরস্থায়ী সঙ্গী হয়ে থাকবে। ভক্তরা এখন তার গানগুলোর মধ্যেই প্রিয় গায়ককে খুঁজে ফিরছেন।