তিন বছরের অপেক্ষার পর অবশেষে গত ২০ ফেব্রুয়ারি ওটিটি প্ল্যাটফর্মে মুক্তি পেয়েছে অনুরাগ কাশ্যপের বহুল আলোচিত চলচ্চিত্র ‘কেনেডি’। কান চলচ্চিত্র উৎসবসহ বিশ্বের বিভিন্ন নামী উৎসবে প্রশংসা কুড়ানোর পর এবার ভারতীয় দর্শকদের সামনে হাজির হয়েছে এই ডার্ক থ্রিলার।
তবে এই ছবির সবচেয়ে বড় চমক হিসেবে আবির্ভূত হয়েছেন সানি লিওন, যিনি তাঁর 'চার্লি' চরিত্রটির মাধ্যমে অভিনয়ের এক নতুন ধারার পরিচয় দিয়েছেন।
সানি লিওন পরিচালক অনুরাগ কাশ্যপকে অত্যন্ত উঁচু আসনে বসিয়েছেন। তাঁর মতে, অনুরাগ কোনো কঠোর 'টাস্কমাস্টার' নন, বরং তিনি একজন অত্যন্ত বিচক্ষণ পরিচালক যিনি অভিনয়শিল্পীদের কাছ থেকে সঠিক কাজটি আদায় করে নিতে জানেন।
সানি জানান, অনুরাগ কাশ্যপের সাথে প্রস্তুতির সময় তাদের অনেক ব্যক্তিগত আলাপ হয়েছে, যেখানে তাঁরা নিজেদের জীবনের অনেক মিল খুঁজে পেয়েছেন। সানির ভাষায়, তিনি আপনাকে সময় দেন, যা হয়তো অন্য অনেক পরিচালক দেন না।
'
কেনেডি' ছবিতে সানি লিওনের চরিত্র 'চার্লি'-র অন্যতম বৈশিষ্ট্য হলো তার রহস্যময় এবং কিছুটা অদ্ভুত হাসি। সানি জানান, এই হাসির পেছনে ছিল দীর্ঘদিনের কঠোর পরিশ্রম। চরিত্রটির গভীরে ঢুকতে তিনি লিফট, বিমানবন্দর এমনকি শুটিং সেটের বাইরেও সারাক্ষণ ওইভাবে হাসার প্র্যাকটিস করতেন।
আশেপাশের মানুষ তাঁকে পাগল ভাবলেও সানি ছিলেন অবিচল। এই হাসির মাধ্যমেই চার্লি তাঁর ভেতরের ক্ষতগুলোকে ঢেকে রাখে, যা দর্শকদের নজর কেড়েছে।
২০২৩ সালে ৭৫তম কান চলচ্চিত্র উৎসবে 'কেনেডি'-র প্রিমিয়ার হয়। এরপর সিডনি, মেলবোর্ন, বুসান এবং মুম্বাইয়ের মামি উৎসবেও এটি সমাদৃত হয়। তবে ভারতে সিনেমাটি প্রেক্ষাগৃহে মুক্তি না পাওয়ায় বা ওটিটি-তে আসতে দেরি হওয়ায় কিছুটা আক্ষেপ থাকলেও সানি বিষয়টিকে ইতিবাচকভাবেই দেখছেন।
তাঁর স্বামী ড্যানিয়েল ওয়েবার তাঁকে আশ্বস্ত করেছিলেন, প্রতিটি সিনেমার একটি নির্দিষ্ট ঠিকানা থাকে, কেনেডিও তার সঠিক সময়ে নিজের জায়গা খুঁজে পাবে।
২০১১ সালে 'বিগ বস ৫' মৌমুসের মাধ্যমে ভারতীয় বিনোদন জগতে পা রাখা সানি লিওন আজ নিজেকে একজন শক্তিশালী অভিনেত্রী হিসেবে প্রমাণ করেছেন। ক্যারিয়ারের এই বাঁক বদল নিয়ে সানি বলেন, তাঁর জীবন কখনোই সহজ ছিল না। পর্ন থেকে বর্তমান অবস্থান, কোন অর্জনই সহজ ছিলো না।
ছোটবেলার সানিকে তিনি আজ বার্তা দিতে চান, তৈরি থেকো, পথটা খুব একটা মসৃণ হবে না। তিনি বিশ্বাস করেন, আজ পর্যন্ত কোনো কিছুই তিনি সহজে পাননি; লড়াই করে, বাধা পেরিয়ে তাঁকে নিজের জায়গা করে নিতে হয়েছে। প্রতিটি অর্জনের পেছনে নিজের ঘাম ঝরিয়েই অর্জন করতে হয়েছে।
'কেনেডি' মুক্তির পর থেকে চলচ্চিত্র জগতের সহকর্মী ও সমালোচকদের কাছ থেকে অভাবনীয় সাড়া পাচ্ছেন সানি। ওটিটি রিভিউগুলোতে ইতিবাচক মন্তব্য দেখে তিনি অভিভূত। সানি আশা করেন, 'কেনেডি' তাঁর ক্যারিয়ারে আরও ভালো কাজের সুযোগ তৈরি করে দেবে।