রুপালি পর্দার গ্ল্যামার ছাপিয়ে এবার আদালতের কাঠগড়ায় দক্ষিণ ভারতীয় ও বলিউড অভিনেত্রী হানসিকা মোতওয়ানি। তবে কোনো ছবির চিত্রনাট্য নয়, এবার বাস্তবের পারিবারিক কাদা ছোড়াছুড়ি নিয়ে আইনি লড়াইয়ে নামলেন তিনি। নিজের প্রাক্তন ভ্রাতৃবধূ তথা টেলিভিশন অভিনেত্রী মুসকান ন্যান্সি জেমসের বিরুদ্ধে দুই কোটি টাকার মানহানি মামলা ঠুকে দিয়েছেন হানসিকা। অভিনেত্রীর দাবি, স্রেফ ধারের টাকা ফেরত না দেওয়ার ফন্দি হিসেবেই তার ওপর কলঙ্ক লেপন করা হচ্ছে।
ঘটনার সূত্রপাত হানসিকার ভাই প্রশান্ত মোতওয়ানি এবং মুসকানের বৈবাহিক কলহ নিয়ে। ২০২০ সালে বিয়ের পর ২০২২ থেকেই তারা আলাদা থাকছেন। মুসকানের অভিযোগ ছিল ভয়াবহ, হানসিকা এবং তার ভাই নাকি তার ওপর ঘরোয়া নির্যাতন চালিয়েছেন।
এমনকি মুসকানের দাবি, বিয়ের পর শ্বশুরবাড়ির মানসিক অত্যাচারে তিনি 'বেল’স পালসি' (মুখের একদিকের পেশি অবশ হওয়া) নামক রোগে আক্রান্ত হয়েছেন। হানসিকার বিরুদ্ধে দামী উপহার দাবি এবং সংসারে অনধিকার চর্চার অভিযোগে একটি এফআইআরও দায়ের করেছিলেন মুসকান।
হানসিকা তার পিটিশনে এক বিস্ফোরক তথ্য সামনে এনেছেন। তার দাবি, মুসকান যখন তার ভাইয়ের স্ত্রী ছিলেন, তখন হানসিকার কাছ থেকে ২৭ লাখ টাকা ধার নিয়েছিলেন। সেই টাকা বারবার চেয়েও ফেরত পাননি অভিনেত্রী। হানসিকার আইনজীবীর দাবি, এই বিপুল পরিমাণ ধারের টাকা যাতে ফেরত দিতে না হয়, সেই উদ্দেশ্যেই হানসিকার জনপ্রিয়তাকে ঢাল বানিয়ে তার নামে সোশ্যাল মিডিয়ায় আজেবাজে কথা ছড়াচ্ছেন মুসকান।
নিজের সাফাইয়ে হানসিকা জানিয়েছেন, ভাইয়ের দাম্পত্য কলহের সাথে তার কোনো সম্পর্কই নেই। কারণ, তিনি ভাইয়ের সাথে এক বাড়িতে থাকতেন না। এমনকি ২০২২ সালে নিজের বিয়ের পর তিনি সম্পূর্ণ আলাদা সংসার করছেন। হানসিকার দাবি, মুসকানের সাথে তার যোগাযোগ ছিল নামমাত্র, তাই গার্হস্থ্য হিংসার অভিযোগ তোলা সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন এবং কেবল তার মানহানি করার একটি অপচেষ্টা।
হানসিকা কেবল ২ কোটি টাকার ক্ষতিপূরণই চাননি, বরং আদালতের কাছে অনুরোধ করেছেন যেন মুসকান ভবিষ্যতে তার বিরুদ্ধে আর কোনো মন্তব্য করতে না পারেন। সেই সঙ্গে তাকে প্রকাশ্যে ক্ষমা চাওয়ার দাবিও জানিয়েছেন অভিনেত্রী। এর আগে আন্ধেরি আদালতে একটি ফৌজদারি মানহানি মামলা এবং বোম্বে হাইকোর্টে মুসকানের করা এফআইআর খারিজের আবেদনও জানিয়েছেন হানসিকা।
হানসিকার আইনি দল থেকে জানানো হয়েছে, বিগত কয়েক মাস ধরে যেভাবে সংবাদমাধ্যম এবং সোশ্যাল মিডিয়ায় হানসিকার চরিত্রহনন করা হচ্ছে, তাতে তিনি গভীরভাবে মর্মাহত। ব্যক্তিগত বিবাদকে জনসমক্ষে এনে একজনের তিল তিল করে গড়া ক্যারিয়ার নষ্ট করার এই নোংরা খেলা বন্ধ হওয়া দরকার।
এখন দেখার বিষয়, আদালতের এজলাসে নুন-মরিচ মাখানো এই পারিবারিক নাটক কোন দিকে মোড় নেয়। হানসিকা কি পারবেন তার ওপর লাগা অপবাদের দাগ মুছে দিতে, নাকি মুসকানের অভিযোগের পাল্টা কোনো মোড় অপেক্ষা করছে সামনে? বিনোদন দুনিয়া এখন সেই উত্তরই খুঁজছে।