টালিউডের রুপোলি পর্দা কাঁপানো জনপ্রিয় অভিনেত্রী কোয়েল মল্লিককে ঘিরে পশ্চিমবঙ্গের রাজনৈতিক অলিন্দে শুরু হয়েছে তীব্র তোলপাড়। টলিপাড়ার মিষ্টি নায়িকা থেকে সরাসরি দিল্লির সংসদ ভবনে জায়গা করে নেওয়া এই অভিনেত্রীর রাজনৈতিক ক্যারিয়ার কি তবে এক বছরের মাথাতেই শেষের পথে?
রাজ্য রাজনীতির অন্দরে এখন কান পাতলেই শোনা যাচ্ছে এক বিস্ফোরক গুঞ্জন, তৃণমূল কংগ্রেসের রাজ্যসভার সংসদ সদস্য পদ থেকে নাকি ইস্তফা দিতে চলেছেন রঞ্জিত-কন্যা! আর এই পদত্যাগের জল্পনার আগুনে ঘি ঢেলে দিয়ে কোয়েলের আচমকা দিল্লি পাড়ি দেয়ার খবর ছড়াতেই বিনোদন ও রাজনৈতিক মহলে আলোচনার পারদ এখন তুঙ্গে।

যদিও এই হাই-প্রোফাইল পদত্যাগ ও দলবদলের গুঞ্জন নিয়ে খোদ অভিনেত্রী বা ঘাসফুল শিবিরের পক্ষ থেকে এখনও পর্যন্ত কোনো আনুষ্ঠানিক সিলমোহর বা বক্তব্য মেলেনি। তবে রাজনীতির চাণক্যরা বলছেন—‘যা রটে, তার কিছু তো বটে!’
ফিরে যাওয়া যাক গত ফেব্রুয়ারি মাসে। তৃণমূল কংগ্রেস যখন আসন্ন রাজ্যসভা নির্বাচনের জন্য তাদের প্রার্থী তালিকা প্রকাশ করে, তখন সবাইকে চমকে দিয়ে তালিকায় উদয় হয়েছিল কোয়েল মল্লিকের নাম।

রাজ্য পুলিশের সাবেক বিতর্কিত ডিজি রাজীব কুমার, সাবেক কেন্দ্রীয় মন্ত্রী তথা গায়ক বাবুল সুপ্রিয় এবং সুপ্রিম কোর্টের তুখোড় আইনজীবী মেনকা গুরুস্বামীর মতো হেভিওয়েটদের পাশে কোয়েলের নাম থাকাটা ছিল এক প্রকার বিনমেঘে বজ্রপাত।
কারণ, টালিউডের আর পাঁচজন প্রথম সারির তারকার মতো কোয়েল মল্লিককে কখনো সক্রিয় রাজনীতি বা দলীয় মঞ্চে দেখা যায়নি। এমনকি রাজনীতির প্যাঁচপয়জার নিয়ে তিনি কখনো কোনো আগ্রহও প্রকাশ করেননি। ফলে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ডাকে সাড়া দিয়ে তাঁর রাজ্যসভায় যাওয়া এবং সেই গুরুদায়িত্ব গ্রহণ করার বিষয়টি অনেক অনুরাগী ও রাজনৈতিক বিশ্লেষককে বিস্মিত করেছিল।

তখন কোয়েলের ঘনিষ্ঠ মহলে ফিসফাস শুরু হয়েছিল যে, এই প্রস্তাব মেনে নেওয়ার পেছনে নাকি পর্দার আড়ালে অন্য কোনো ‘বড় শক্তির’ বা প্রভাবশালীদের হাত ছিল। পদত্যাগের গুঞ্জন উঠতেই সেই পুরোনো গুঞ্জনগুলো আবার নতুন করে ডালপালা মেলতে শুরু করেছে।
পশ্চিমবঙ্গের বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি বেশ টালমাটাল। তৃণমূলের অন্দরে চোরা ভাঙন এবং বিভিন্ন স্তরের নেতাদের ঘনঘন অবস্থান পরিবর্তন ও দলবদলের হিড়িকের মাঝেই কোয়েল মল্লিকের এই সম্ভাব্য ইস্তফার খবর বিশেষ তাৎপর্য বহন করছে। তবে ঘাসফুল শিবির ছেড়ে কোয়েল কি অন্য কোনো বিরোধী বা বিদ্রোহী রাজনৈতিক শিবিরে নাম লেখাচ্ছেন?

এই প্রশ্নের জবাবে অভিনেত্রীর ঘনিষ্ঠ সূত্রগুলো একেবারেই অন্য ইঙ্গিত দিচ্ছে। তাদের দাবি, কোয়েল মল্লিক মূলত একজন আপাদমস্তক শিল্পী এবং অত্যন্ত মার্জিত ব্যক্তিত্বের অধিকারী। রাজনীতির কাদা ছোঁড়াছুঁড়ি বা দলীয় কোন্দলের নোংরা আবর্তে তিনি নিজেকে আর জড়াতে চান না।
কোনো বিদ্রোহী দলে যোগ দেওয়া তো দূর অস্ত, বরং কোনো বিতর্ক না বাড়িয়ে অত্যন্ত ‘সম্মানজনকভাবে’ সংসদ পদ ছেড়ে দিয়ে রাজনীতি থেকে একটি নিরাপদ ও স্থায়ী দূরত্ব বজায় রাখতেই তিনি বেশি আগ্রহী। এখন দেখার বিষয়, কোয়েলের এই দিল্লি সফর তাঁর পদত্যাগের আনুষ্ঠানিক ঘোষণা নিয়ে আসে, নাকি এর পেছনে লুকিয়ে আছে অন্য কোনো বড় রাজনৈতিক চিত্রনাট্য!
