যেভাবে বেঁচে গেলেন টাইগার শ্রফ, পয়েন্ট ব্লাঙ্ক রেঞ্জে বন্দুক জ্যাম!

বলিউড অভিনেতা টাইগার শ্রফকে লক্ষ্য করে চলন্ত গাড়িতে পয়েন্ট ব্লাঙ্ক রেঞ্জ থেকে প্রাণঘাতী হামলার চাঞ্চল্যকর ও রোমহর্ষক নতুন ভিডিও ফুটেজ সামনে এসেছে। মুম্বাইয়ের জুহু এলাকায় গত রোববার সন্ধ্যায় ফুটবল গ্রাউন্ড থেকে বিএমডব্লিউ সেডান গাড়িতে করে বের হওয়ার সময় দুই বন্দুকধারী তাঁকে লক্ষ্য করে সরাসরি উইন্ডশিল্ড ও সাইড উইন্ডো দিয়ে অন্তত পাঁচ রাউন্ড গুলি চালায়।

চরম সৌভাগ্যবশত ষষ্ঠ ছোঁড়া গুলিটির সময় আততায়ীর রিভলভার জ্যাম হয়ে যাওয়ায় কোনো ক্ষয়ক্ষতি ছাড়াই অলৌকিকভাবে বেঁচে গেছেন এই অভিনেতা।

Tiger Shroff 02
প্রকাশ পাওয়া ১৮ সেকেন্ডের সিসিটিভি ফুটেজে দেখা যায়, টাইগার শ্রফ তাঁর বিএমডব্লিউ গাড়ির সামনের প্যাসেঞ্জার সিটে বসার পরপরই বাইকে করে তিন ব্যক্তি সেখানে হাজির হয়। দুই বন্দুকধারী গাড়ি ঘেঁষে দাঁড়িয়ে সোজা উইন্ডশিল্ড ও জানালার কাচ লক্ষ্য করে গুলি ছুড়তে শুরু করে।

একেবারে কাছে এসে জানালার দিয়ে ষষ্ঠ গুলিটি চালানোর সময় হুট করেই শুটারের আগ্নেয়াস্ত্রটি জ্যাম হয়ে আটকে যায়। ততক্ষণে গুলিতে রক্তাপ্লুত হয়ে পড়েন টাইগারের ড্রাইভার ফেরদৌস। ড্রাইভার ছিটকে গাড়ি থেকে বেরিয়ে গেলে তৃতীয় সহযোগীর প্রস্তুত রাখা মোটরসাইকেলে চড়ে চম্পট দেয় দুই হামলাকারী।

অন্য একটি ১৪ সেকেন্ডের ক্লিপে ঘটনার হৃদয়বিদারক দৃশ্য ধরা পড়ে। আশপাশের সাধারণ মানুষ ও প্রত্যক্ষদর্শীরা আতঙ্কিত হয়ে ‘খুব খারাপ হয়ে গেল রে ভাই!’ বলে চিৎকার করতে থাকেন। চালক আহত হয়ে লুটিয়ে পড়লে রক্তে ভেসে যায় গাড়ি ও সড়কের কিছু অংশ।

এ সময় এক নারী চিৎকার করে বলতে থাকেন, টাইগার, জলদি ওকে নিয়ে যাও! অবস্থা বেগতিক দেখে টাইগার শ্রফ তাৎক্ষণিকভাবে নিজের সিট ছেড়ে ড্রাইভিং সিটে চলে আসেন এবং দ্রুত গাড়ি চালিয়ে সেখান থেকে বের হয়ে যান। হামলায় টাইগার সম্পূর্ণ অক্ষত থাকলেও তাঁর ড্রাইভার এবং পাশে থাকা আরও এক ব্যক্তি গুলিতে আহত হয়ে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।

Tiger Shroff 03
ঘটনার কিছুক্ষণের মধ্যেই লরেন্স বিষ্ণোই গ্যাং এই হামলার দায় স্বীকার করেছে। ছড়িয়ে পড়া একটি অডিও বার্তায় বিষ্ণোই গ্যাংয়ের অনিল পণ্ডিত নামে এক ব্যক্তি দাবি করে, টাইগার শ্রফকে তাদের নির্দেশ মেনে চলতে বলা হয়েছিল। কিন্তু তিনি তাদের কথা অমান্য করে সালমান খানের সঙ্গে কাজ চালিয়ে যাচ্ছিলেন, তাই তিনি তাদের ‘হিট লিস্টে’ ছিলেন।

উল্লেখ্য, কৃষ্ণসার হরিণ হত্যা মামলাকে কেন্দ্র করে গুজরাটের জেলে বন্দী গ্যাংস্টার লরেন্স বিষ্ণোই দীর্ঘদিন ধরেই সালমান খান ও তাঁর ঘনিষ্ঠ সঙ্গীদের প্রাণনাশের হুমকি দিয়ে আসছে।

হামলার ঘটনার পরপরই নড়েচড়ে বসেছে মহারাষ্ট্রের রাজ্য সরকার। জড়িতদের বিরুদ্ধে দ্রুত ও কঠোর ব্যবস্থা নেয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে প্রশাসন। পুলিশ বলছে, সিসিটিভি ফুটেজ বিশ্লেষণ করে ইতোমধ্যেই এক সন্দেহভাজনকে আটক করা হয়েছে এবং পুরো এলাকায় নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে।

তথ্যসূত্র: এনডিটিভি