মিডিয়া থেকে দূরে থেকেও কীভাবে ভক্তদের হৃদয়ে শাহরুখ?

আট বছর আগের কথা ভাবুন। শাহরুখ খানের কোনো সিনেমা আসছে মানেই শুধু রূপালী পর্দায় ‘লাস্ট অফ দ্য সুপারস্টার’কে দেখা নয়, সঙ্গে ফ্রি পাওয়া যেত একগুচ্ছ চরম বুদ্ধিদীপ্ত, হাস্যরসে ভরা ও গভীর সব সাক্ষাৎকার! সাংবাদিকরা মুখিয়ে থাকতেন তাঁর একটি ডায়ালগ বা দুষ্টু জবাবের জন্য। অথচ ২০২৬ সালে দাঁড়িয়ে ছবিটা একেবারেই উল্টো। ২০১৮ সাল থেকে সাক্ষাৎকার দেয়া প্রায় বন্ধই করে দিয়েছেন শাহরুখ।

যে তারকা একসময় সাক্ষাৎকার দিয়ে আলোচনার শীর্ষে থাকতেন, তিনিই এখন মিডিয়াকে নীরবতায় ভুলিয়ে রেখে চুটিয়ে চালাচ্ছেন ‘ব্র্যান্ড এসআরকে’। সাক্ষাৎকার না দিয়েও কীভাবে খবরের শিরোনামে থাকতে হয়, তা শাহরুখের চেয়ে ভালো আর কেই-বা জানেন!

Shahrukh Khan 02
অনবদ্য রসিকতা ও অপ্রতিরোধ্য বাচনভঙ্গি:
বলিউডের যে কোনো মেজাজের জন্য শাহরুখের একটা না একটা পুরোনো সাক্ষাৎকার হিট। নব্বাই দশকের লেহরেঁ রেট্রোর উন্মাদের মতো সাক্ষাৎকার থেকে শুরু করে ২০১৭ সালে ‘অল ইন্ডিয়া বাকচোদ’-এর সঙ্গে খোলামেলা আড্ডা, সবখানেই তিনি ছিলেন অনবদ্য।

কিং খানের এক সময়ের পাবলিকিস্ট মান্ডবী শর্মার ভাষায়, শাহরুখ শুধু প্রশ্নের উত্তর দিতেন না, আড্ডায় মেতে উঠতেন। এক মুহূর্তে হাসাতেন, পরমুহূর্তেই গভীর কিছু ভাবিয়ে তুলতেন। এমনকি জ্যেষ্ঠ সাংবাদিক অনুপমা চোপড়াও স্মৃতিচারণ করে বলেন, ২০১৭ সালে ‘জব হ্যারি মেট সেজাল’-এর প্রচারে সাক্ষাৎকার দেও=য়ার সময় একটি রাস্তার কুকুর ঘেউ ঘেউ করে উঠলে রসিক শাহরুখ নাকি নিজেও কুকুরটার দিকে তাকিয়ে খেউ খেউ করে উঠেছিলেন!

Shahrukh Khan 06
মিডিয়া সাক্ষাৎকারে যে কারণে অনীহা:
তাহলে কেন সাক্ষাৎকারের মঞ্চ ছাড়লেন কিং খান? বিনোদন সাংবাদিকদের মতে, বর্তমান যুগের ‘ক্লিকবেইট’ এবং প্রসঙ্গের বাইরে গিয়ে মুখরোচক শিরোনাম বানানোর প্রবণতাই এর বড় কারণ। গভীর আলোচনা ও গঠনমূলক কথা শোনার মতো ধৈর্যের অভাব এখন চারদিকে।

তাছাড়া, সোশ্যাল মিডিয়া এসে ছবিটাই বদলে দিয়েছে। যেমনটা বলিউডের শাহেনশাহ অমিতাভ বচ্চনও তাঁর ব্লগে লেখেন- ‘এখন আর মিডিয়ার মুখাপেক্ষী হতে হয় না, সোশ্যাল মিডিয়াই আমাদের সংবাদপত্র’। শাহরুখও এখন মধ্যস্বত্বভোগী সাংবাদিকদের এড়িয়ে সরাসরি এক্সে ‘#AskSRK’ সেশনের মাধ্যমে ভক্তদের সঙ্গে কানেক্ট করেন। ভক্তরাও ওনার ক্ষুরধার রসিকতায় বুঁদ হয়ে থাকেন।

Shahrukh Khan 05
নতুনরা অনুকরণ করতে গিয়ে বিপদে:
শাহরুখ সাক্ষাৎকার দেয়া বন্ধ করেছেন বলে অনেক নতুন তারকারাও ভাবছেন, সাক্ষাৎকার না দেয়াই বুঝি সুপারস্টার হওয়ার লক্ষণ! কিন্তু বিশ্লেষকদের মতে, শাহরুখ বহু বছর ধরে নিজের জীবন, ভাবনা ও স্মৃতি মানুষকে উজাড় করে দিয়ে এই ভালবাসা অর্জন করেছেন। মানুষ তাঁকে চেনে বলেই আজ তাঁর নীরবতাকেও সম্মান জানায়। না চিনে সোজা চুপ হয়ে গেলে ভালোবাসা মিলবে না।

২০২৩ সালে একটি অনুষ্ঠানে ইঙ্গিতপূর্ণভাবে শাহরুখ বলেছিলেন, শান্ত থাকুন, চুপচাপ থাকুন এবং সম্মানের সাথে কঠোর পরিশ্রম করুন। যখন ভাববেন সব ঠিক চলছে, জীবন হঠাৎ এসে ধাক্কা দেবে। এই মন্ত্রেই ছেলে আরিয়ান খানের ওপর দিয়ে ঝড় বয়ে যাওয়ার পর নিশ্চুপ থেকে কাজের মাধ্যমে ঘুরে দাঁড়িয়েছিলেন তিনি।

Shahrukh Khan 04
আসন্ন ছবি ‘কিং’-এর মুক্তির আগেও বড় কোনো সাক্ষাৎকারে তাঁকে দেখা যাবে কি না, তা নিয়ে ঘোর সংশয়। তবে সাংবাদিক থেকে শুরু করে কোটি কোটি ভক্ত, সবাই এখনও পথ চেয়ে বসে আছেন, ‘কিং খান’ হয়তো আবার কোনো একদিন দিলখোলা মেজাজে সাক্ষাৎকার দিতে মাইকের সামনে বসবেন!

তথ্যসূত্র: ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস