২০২৩ সালের জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার বিজয়ীদের তালিকা প্রকাশ

ঘোষিত হলো ২০২৩ সালের জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার। চলচ্চিত্র শিল্পে গৌরবোজ্জ্বল ও অসাধারণ অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ এ বছর ২৮টি ক্যাটেগরিতে মোট ৩২ জন বিশিষ্ট শিল্পী ও কলাকুশলীকে এই মর্যাদাপূর্ণ পুরস্কারের জন্য মনোনীত করা হয়েছে।

গত দুই জুন তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের চলচ্চিত্র-১ শাখা থেকে প্রকাশিত এক প্রজ্ঞাপনে চূড়ান্ত বিজয়ী ও মনোনীতদের এই তালিকা প্রকাশ করা হয়।

এবারের জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কারে যৌথভাবে আজীবন সম্মাননা পাচ্ছেন চারজন গুণী ব্যক্তিত্ব। তারা হলেন— বিশিষ্ট অভিনেত্রী ঝর্ণা বসাক শবনম ও প্রখ্যাত চলচ্চিত্র সম্পাদক ফজলে হক। পাশাপাশি মরণোত্তর আজীবন সম্মাননায় ভূষিত করা হচ্ছে প্রখ্যাত নির্মাতা মরহুম তারেক মাসুদ এবং মরহুম আব্দুল লতিফ বাচ্চুকে।

এবার প্রধান দুই শাখায় বাজিমাত করেছে খন্দকার সুমনের ‘সাঁতাও’ এবং রায়হান রাফীর ‘সুড়ঙ্গ’। ‘সাঁতাও’ চলচ্চিত্রের জন্য শ্রেষ্ঠ চলচ্চিত্র ও শ্রেষ্ঠ চলচ্চিত্র পরিচালকের পুরস্কার পাচ্ছেন কে এম হালিমুজ্জামান (খন্দকার সুমন)। আর এই ছবির জন্যই শ্রেষ্ঠ অভিনেত্রী (প্রধান চরিত্র) নির্বাচিত হয়েছেন আইনুন নাহার (আইনুন পুতুল)।

অন্যদিকে, বক্স অফিস কাঁপানো ‘সুড়ঙ্গ’ চলচ্চিত্রের জন্য ক্যারিয়ারের প্রথম জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার হিসেবে শ্রেষ্ঠ অভিনেতা (প্রধান চরিত্র) নির্বাচিত হয়েছেন আহাম্মেদ ফজলে রাব্বি আফরান নিশো (আফরান নিশো)। এছাড়াও ছবিটির ঝুলিতে গেছে আরও বেশ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ পুরস্কার।

২৮টি ক্যাটাগরিতে বিজয়ী যারা

২০২৩ সালের জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কারে ২৮টি ক্যাটেগরিতে মোট ৩২ জন বিজয়ী হয়েছেন, যেখানে ‘সাঁতাও’ চলচ্চিত্রের জন্য কে এম হালিমুজ্জামান (খন্দকার সুমন) শ্রেষ্ঠ চলচ্চিত্র ও শ্রেষ্ঠ চলচ্চিত্র পরিচালক এবং একই সিনেমার জন্য আইনুন নাহার (আইনুন পুতুল) শ্রেষ্ঠ অভিনেত্রী (প্রধান চরিত্র) নির্বাচিত হয়েছেন। ‘সুড়ঙ্গ’ চলচ্চিত্রের জন্য প্রথমবার শ্রেষ্ঠ অভিনেতা (প্রধান চরিত্র) হিসেবে পুরস্কৃত হচ্ছেন আহাম্মেদ ফজলে রাব্বি আফরান নিশো (আফরান নিশো), একই সিনেমার জন্য মনির আহাম্মেদ (শাকিল) শ্রেষ্ঠ অভিনেতা (পার্শ্বচরিত্র), শহীদুজ্জামান সেলিম শ্রেষ্ঠ কৌতুক চরিত্র, অবন্তী দেব সিঁথি শ্রেষ্ঠ গায়িকা, সুমন কুমার সরকার শ্রেষ্ঠ চিত্রগ্রাহক, শহীদুল ইসলাম শ্রেষ্ঠ শিল্প নির্দেশক এবং বীথি আফরীন শ্রেষ্ঠ পোশাক ও সাজ-সজ্জা ক্যাটেগরিতে পুরস্কার পাচ্ছেন; এছাড়া যৌথভাবে শ্রেষ্ঠ সংলাপ রচয়িতা হয়েছেন রায়হান রাফী ও সৈয়দ নাজিম উদ দৌলা। ‘ওরা সাত জন’ চলচ্চিত্রের জন্য নাজিয়া হক (নাজিয়া হক অর্ষা) শ্রেষ্ঠ অভিনেত্রী (পার্শ্বচরিত্র) ও মো. সালাহ উদ্দিন আহমেদ বাবু শ্রেষ্ঠ সম্পাদক নির্বাচিত হয়েছেন। ‘প্রিয়তমা’ চলচ্চিত্রের গান ও গল্পের জন্য কাজী মো. আলী জাহাঙ্গীর (বালাম) শ্রেষ্ঠ গায়ক, মুনির মাহমুদ প্রিন্স (প্রিন্স মাহমুদ) শ্রেষ্ঠ সুরকার, মো. অলিউল্লাহ (সোমেশ্বর অলি) শ্রেষ্ঠ গীতিকার এবং ফারুক হোসেন শ্রেষ্ঠ কাহিনিকারের পুরস্কার পাচ্ছেন। ‘অ্যাডভেঞ্চার অব সুন্দরবন’ চলচ্চিত্রের জন্য খন্দকার রশিদ আহমেদ (আশীষ খন্দকার) শ্রেষ্ঠ খল চরিত্র এবং মোস্তাফিজুর রহমান চৌধুরী ইমন (ইমন চৌধুরী) শ্রেষ্ঠ সংগীত পরিচালক হয়েছেন। ‘আম কাঁঠালের ছুটি’ চলচ্চিত্রের জন্য মো. লিয়ন শ্রেষ্ঠ শিশু শিল্পী এবং আরিফ হাসান আনাইরা খান শিশু শিল্পী শাখায় বিশেষ পুরস্কার পাচ্ছেন। এছাড়াও শ্রেষ্ঠ চিত্রনাট্যকার হিসেবে মো. তাসনীমুল হাসান (রক্তজবা), শ্রেষ্ঠ শব্দগ্রাহক হিসেবে সুজন মাহমুদ (সাঁতাও), শ্রেষ্ঠ নৃত্য পরিচালক হিসেবে হাবিবুর রহমান (লাল শাড়ি) এবং শ্রেষ্ঠ মেক-আপম্যান হিসেবে সবুজ (প্রিয়তমা) মনোনীত হয়েছেন। সমান্তরাল ধারার চলচ্চিত্রে ‘মরিয়ম’-এর জন্য চৈতালী সমদ্দার শ্রেষ্ঠ স্বল্পদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্র এবং ‘লীলাবতী নাগ: দ্য রেবেল’-এর জন্য এলিজা বিনতে এলাহী শ্রেষ্ঠ প্রামাণ্য চলচ্চিত্র পুরস্কারের জন্য নির্বাচিত হয়েছেন।

অন্য বিভাগ ও কারিগরি শাখায় বিজয়ীরা

শ্রেষ্ঠ স্বল্পদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্র: চৈতালী সমদ্দার (চলচ্চিত্র: ‘মরিয়ম’)

শ্রেষ্ঠ প্রামাণ্য চলচ্চিত্র: এলিজা বিনতে এলাহী (চলচ্চিত্র: ‘লীলাবতী নাগ: দ্য রেবেল’)

বিশেষ পুরস্কার (শিশু শিল্পী শাখা): আরিফ হাসান আনাইরা খান (চলচ্চিত্র: ‘আম কাঁঠালের ছুটি’)

শ্রেষ্ঠ নৃত্য পরিচালক: হাবিবুর রহমান (চলচ্চিত্র: ‘লাল শাড়ি’)

শ্রেষ্ঠ সংলাপ রচয়িতা (যুগ্মভাবে): রায়হান রাফী চৌধুরী (রায়হান রাফী) ও সৈয়দ নাজিম উদ দৌলা (চলচ্চিত্র: ‘সুড়ঙ্গ’)

শ্রেষ্ঠ শিল্প নির্দেশক: শহীদুল ইসলাম (চলচ্চিত্র: ‘সুড়ঙ্গ’)

শ্রেষ্ঠ শব্দগ্রাহক: সুজন মাহমুদ (চলচ্চিত্র: ‘সাঁতাও’)

শ্রেষ্ঠ পোশাক ও সাজ-সজ্জা: বীথি আফরীন (চলচ্চিত্র: ‘সুড়ঙ্গ’)

শ্রেষ্ঠ মেক-আপম্যান: সবুজ (চলচ্চিত্র: ‘প্রিয়তমা’)