গোল্ডেন গ্লোব অ্যাওয়ার্ডসের জমকালো আয়োজনে নিজের তিক্ত অভিজ্ঞতার কথা শেয়ার করেছেন আশির দশকের জনপ্রিয় ও লাস্যময়ী হলিউড তারকা পামেলা অ্যান্ডারসন। গেলো রোববার অনুষ্ঠিত এই পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানে অভিনেতা সেথ রোগেনের খুব কাছাকাছি আসনে বসতে হওয়ায় তিনি বেশ অস্বস্তি ও বিরক্তি প্রকাশ করেছেন বলে জানিয়েছেন নব্বই দশকের আবেদনময়ী এই তারকা।
গোল্ডেন গ্লোব অ্যাওয়ার্ডসে পামেলা অ্যান্ডারসনের উপস্থিতি যেমন প্রশংসিত হয়েছে, তেমনি পর্দার পেছনের এক অস্বস্তিকর ঘটনা এখন আলোচনার কেন্দ্রে। পামেলার জীবনের এক অত্যন্ত যন্ত্রণাদায়ক অধ্যায় নিয়ে নির্মিত সিরিজ ‘প্যাম অ্যান্ড টমি’-এর নির্বাহী প্রযোজক ও অভিনেতা সেথ রোগেনের কাছাকাছি আসনে বসতে হওয়ায় তিনি নিজের ক্ষোভ উগরে দিয়েছেন।
২০২২ সালে হুলু প্ল্যাটফর্মে মুক্তি পাওয়া ‘প্যাম অ্যান্ড টমি’ সিরিজটি পামেলা ও তার প্রাক্তন স্বামী টমি লি’র মধুচন্দ্রিমার ব্যক্তিগত ভিডিও চুরির স্ক্যান্ডাল নিয়ে নির্মিত। পামেলার অভিযোগ, তার জীবনের সেই ‘ভয়াবহ’ সময়ের ঘটনা নিয়ে সিরিজ বানানোর আগে কেউ তার অনুমতি নেয়া তো দূরের কথা, কথাও বলেনি।
সিরিয়াস এক্সএম-এ অ্যান্ডি কোহেনকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে পামেলা বলেন, সেথ রোগেন আমার সাথে কোনো কথা না বলেই ওই সিরিজটি বানিয়েছে। একজন মানুষের জীবনের কঠিনতম সময় নিয়ে কেউ কীভাবে টিভি সিরিজ বানাতে পারে? আমি তো একজন রক্ত-মাংসের জ্যান্ত মানুষ, তাই নয় কি!
গোল্ডেন গ্লোব চলার সময় সেথ রোগেন তার খুব কাছেই বসে ছিলেন। পামেলা জানান, এই পরিস্থিতি তাকে মানসিকভাবে বিষণ্ণ করে তুলেছিল। তিনি বলেন, সেথ রোগেন অনুষ্ঠানে সামনের সারিতে ছিল, তাই আমরা খুব কাছাকাছি ছিলাম। আমার খুব ‘ইয়াকি’ বা অস্বস্তিকর লাগছিল। আমি শুধু একটি পুরস্কার প্রদান করেই সোজা বাসায় গিয়ে ঘুমিয়ে পড়েছি, বাকি অনুষ্ঠান আর দেখিনি।
পামেলা যোগ করেন, অনেকের জন্য এ বিষয়গুলো আর্থিকভাবে লাভজনক হতে পারে, তাই হয়তো বিবেক কাজ করে না। আমার জীবনের এক দুঃসহ সময়কে বিনোদনের মাধ্যম হিসেবে বেছে নেয়া হয়েছে এবং সেই কাজের জন্য মানুষ এমিতে মনোনীতও হয়েছে! উল্লেখ্য, ওই সিরিজটি ১০টি এমিতে মনোনীত হয়েছিল।
দীর্ঘদিন পর্দার আড়ালে থাকার পর পামেলা বর্তমানে ক্যারিয়ারের এক নতুন সোনালী সময় পার করছেন। জিয়া কোপোলার ‘দ্য লাস্ট শোগার্ল’ সিনেমায় দুর্দান্ত অভিনয়ের জন্য তিনি এবার গোল্ডেন গ্লোবে মনোনয়ন পেয়েছেন। নিজের এই সাম্প্রতিক সাফল্যকে পামেলা ‘সেরা প্রতিশোধ’ হিসেবে দেখছেন।
তিনি বলেন, এখন আমি আমার কাজের জন্য পরিচিতি ও স্বীকৃতি পাচ্ছি, জীবনের সেই পুরোনো বিব্রতকর মুহূর্তগুলোর জন্য নয়। এটাই আমার জন্য সবচেয়ে বড় পাওয়া।