বাংলাদেশের সাংবাদিকতার ইতিহাসে এক নতুন অধ্যায় রচিত হলো। একাত্তর টেলিভিশনের বিশেষ প্রতিনিধি পার্থ সনজয় বাংলাদেশের প্রথম টেলিভিশন সাংবাদিক হিসেবে মর্যাদাপূর্ণ ৮৩তম গোল্ডেন গ্লোব অ্যাওয়ার্ডসের ভোটার হিসেবে মনোনীত হয়েছেন।
গত ৩১ জুলাই গোল্ডেন গ্লোবের অফিসিয়াল ওয়েবসাইটে প্রকাশিত নতুন ভোটারদের তালিকায় তার নাম অন্তর্ভুক্ত করা হয়। এই অর্জন বাংলাদেশের বিনোদন সাংবাদিকতার জন্য একটি গৌরবময় মুহূর্ত।
গোল্ডেন গ্লোব অ্যাওয়ার্ডস বিশ্বের অন্যতম সম্মানজনক পুরস্কার হিসেবে স্বীকৃত, যা চলচ্চিত্র ও টেলিভিশন শিল্পের সেরা কাজগুলোকে সম্মানিত করে। পার্থ সনজয়ের দায়িত্ব হবে শর্টলিস্ট হওয়া আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্রগুলো পর্যালোচনা ও মূল্যায়ন করা। ভোটারদের দেওয়া রায়ের ভিত্তিতেই চূড়ান্ত মনোনয়ন ও বিজয়ী নির্বাচিত হবে। আগামী ১১ জানুয়ারি ২০২৬-এ লস অ্যাঞ্জেলেসে অনুষ্ঠিত হবে এই মর্যাদাপূর্ণ আয়োজন।
পার্থ সনজয় দুই দশকেরও বেশি সময় ধরে সাংবাদিকতায় নিয়োজিত রয়েছেন। বিনোদন সাংবাদিকতায় তার অবদান সর্বজনবিদিত। তিনি বাংলাদেশের হয়ে সর্বোচ্চ আটবার কান চলচ্চিত্র উৎসব কাভার করেছেন, যা দেশের সাংবাদিকতার ইতিহাসে একটি বিরল কৃতিত্ব। এছাড়াও তিনি বুসান আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসব, টরন্টো চলচ্চিত্র উৎসবসহ বিশ্বের বিভিন্ন প্রথম সারির আয়োজন থেকে সংবাদ সংগ্রহ করেছেন। চলচ্চিত্র, সাহিত্য ও সংস্কৃতি বিষয়ে তার প্রতিবেদন দেশ-বিদেশে প্রশংসিত হয়েছে। মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক সাংবাদিকতায় অবদানের জন্য তিনি বজলুর রহমান স্মৃতি পুরস্কারে ভূষিত হয়েছেন।
এর আগে বাংলাদেশ থেকে সাংবাদিক জনি হক, চলচ্চিত্র সমালোচক সাদিয়া খালিদ রীতি, সাংবাদিক আদর রহমান এবং মঞ্জুরুল আলম গোল্ডেন গ্লোব অ্যাওয়ার্ডসের ভোটার হিসেবে মনোনীত হয়েছিলেন। পার্থ সনজয়ের এই মনোনয়ন তাদের সঙ্গে যুক্ত হয়ে বাংলাদেশের সাংবাদিকতাকে আন্তর্জাতিক মঞ্চে আরও উজ্জ্বল করেছে।
পার্থ সনজয় বলেন, ‘গোল্ডেন গ্লোবের ভোটার হিসেবে মনোনীত হওয়া আমার জন্য একটি বিরাট সম্মান। এটি শুধু আমার নয়, বাংলাদেশের সাংবাদিকতা ও চলচ্চিত্র সংস্কৃতির জন্যও গর্বের বিষয়। আমি আমার দায়িত্ব পালনে সর্বোচ্চ নিষ্ঠার সঙ্গে কাজ করবো।
গোল্ডেন গ্লোবের অফিসিয়াল ওয়েবসাইটে প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, ভোটার নির্বাচন প্রক্রিয়া অত্যন্ত কঠোর এবং স্বচ্ছ। পার্থ সনজয়ের মতো অভিজ্ঞ ও দক্ষ সাংবাদিকদের মাধ্যমে এই পুরস্কারের বিশ্বাসযোগ্যতা আরও সুদৃঢ় হয়। এই অর্জন বাংলাদেশের সাংবাদিকতা ও চলচ্চিত্র সম্প্রদায়ের জন্য একটি উৎসাহব্যঞ্জক মাইলফলক।
