কামাসক্ত ও নিষ্ঠুর এক শিকারী অভিনেতা রাসেল ব্র্যান্ড

যুক্তরাজ্যের এক সময়ের অত্যন্ত জনপ্রিয় গণমাধ্যম ব্যক্তিত্ব ও হলিউড তারকা রাসেল ব্র্যান্ডের বিরুদ্ধে এক নারীকে ধর্ষণ এবং আরও তিন নারীকে যৌন নিপীড়নের মারাত্মক অভিযোগ প্রমাণিত হয়েছে। বৃহস্পতিবার লন্ডনের সাউথওয়ার্ক ক্রাউন কোর্টে চার সপ্তাহব্যাপী টানটান শুনানির পর বিচারকমণ্ডলী (জুরি) ৫১ বছর বয়সী এই ব্রিটিশ কমেডিয়ান ও অভিনেতাকে দোষী সাব্যস্ত করেন।

আদালতের বিচারক জোয়েল বেনাতান ব্র্যান্ডের জামিন আবেদন নামঞ্জুর করে তাঁকে আগামী সোমবার দীর্ঘ মেয়াদী কারাদণ্ড প্রদান করা হবে বলে ঘোষণা দেন।

প্রসিকিউটরদের তথ্য অনুযায়ী, আমেরিকান পপ তারকা কেটি পেরির সাবেক স্বামী রাসেল ব্র্যান্ড ছিলেন তীব্র যৌনাসক্ত ও অত্যন্ত চতুর এক শিকারী। তিনি নিজের জনপ্রিয়তা ও ক্ষমতার অপব্যবহার করে নারীদের শুধু দৈহিক আকাঙ্ক্ষা মেটানোর হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করেছিলেন।

২০০৪ থেকে ২০০৯ সালের মধ্যে একাধিক নারীর ওপর চালানো শারীরিক নির্যাতন ও পাশবিক আচরণের ভয়াবহ বর্ণনা উঠে আসে আদালতে। এক ভুক্তভোগী নারী জানান, ব্র্যান্ড তাঁকে পশুর মতো আচরণ করেছিলেন এবং অপর এক ভক্তকে সম্মতির ভিত্তিতে মেলামেশার পর জোরপূর্বক কায়দায় ধর্ষণ করে রক্তভেজা চাদর পরিষ্কার করতে বাধ্য করেছিলেন।

যদিও নিজেকে সব অভিযোগ থেকে নির্দোষ দাবি করে রাসেল ব্র্যান্ড বলেন, দুই দশক আগের ঘটনাগুলো সম্পূর্ণ পারস্পরিক সম্মতির ভিত্তিতেই হয়েছিল। তবে প্রসিকিউশন দল এবং মেট্রোপলিটন পুলিশ স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে, তারকা বা প্রভাবশালী হলেও কেউ আইনের ঊর্ধ্বে নয়।

১৬ বছর বয়সী এক কিশোরীসহ আরও দুটি ধর্ষণের অভিযোগে রাসেল ব্র্যান্ডের বিরুদ্ধে বর্তমানে তদন্ত চালিয়ে যাচ্ছে পুলিশ। সাবেক এই তারকার বিরুদ্ধে আরও ভুক্তভোগী নারী অভিযোগ নিয়ে সামনে আসতে পারেন বলে ধারণা করা হচ্ছে।

তথ্যসূত্র: রয়টার্স