হলিউডের সবচেয়ে চর্চিত ও রোমান্টিক জুটি 'ব্র্যাঞ্জেলিনা' ভাঙার পর দীর্ঘদিন মুখ বুজে সব সহ্য করেছেন ব্র্যাড পিট। প্রাক্তন স্ত্রী অ্যাঞ্জেলিনা জোলি এবং তাঁদের ছয় সন্তানের সাথে সম্পর্কের চরম টানাপোড়েন ও দূরত্ব নিয়ে এতদিন ‘স্পিকটি নট’ ছিলেন তিনি।
কিন্তু অবশেষে সেই নীরবতা ভেঙে এক বিস্ফোরক সাক্ষাৎকারে নিজের জীবনের অন্ধকারতম সময়ের স্মৃতি রোমান্থন করলেন ৬২ বছর বয়সী এই মেগাস্টার!

সম্প্রতি নামজাদা ম্যাগাজিন এস্কয়ারকে দেওয়া এক দীর্ঘ ও খোলামেলা সাক্ষাৎকারে ব্র্যাড পিট স্বীকার করেছেন, পরিবারের ভেতরের সেই তিক্ত মানসিক যন্ত্রণা সহ্য করতে না পেরে এক সময় চরম মানসিক বিষাদ ও আত্মহত্যার চিন্তায় ডুবে গিয়েছিলেন তিনি।
নিজের অনুভূতি প্রকাশ করে পিট বলেন, আমি কখনোই মানসিক দিক থেকে আত্মঘাতী প্রকৃতির মানুষ ছিলাম না। বরং কিছুটা জন্মগতভাবেই আশাবাদী বা অপটিমিস্টিক বলা চলে। কিন্তু জীবনের এক ছোট্ট কালপর্বে আমি আত্মহত্যার কথা ভেবেছিলাম... তখন কোনো পথই দেখতে পাচ্ছিলাম না।

তিনি আরও যোগ করেন, জীবনের সেই সময়টিতে যন্ত্রণার চাপ এতটাই দমবন্ধ করা বা অমানবিক ছিল যে, তিনি মাথায় বুলেটের ঠান্ডা স্পর্শের কথা কল্পনা করেছিলেন। যদিও তিনি স্পষ্ট করেছেন যে বাস্তবে নিজেকে শেষ করার কোনো পদক্ষেপ তিনি নেননি, তবে সেই ঘটনার পর থেকে আত্মহত্যা করতে চাওয়া মানুষের ভেতরের অসহ্য যন্ত্রণাকে তিনি গভীরভাবে উপলব্ধি করতে পারেন।
যখন সরাসরি জানতে চাওয়া হয়, এই দুঃসহ যন্ত্রণা কি তাঁর ৬ সন্তানের সাথে দূরত্বের কারণে? পিট মাথা নেড়ে সংক্ষিপ্ত উত্তর দেন, পরিবারের ঝামেলা... এই প্রসঙ্গটা এখানেই না হয় থাক।
অ্যাঞ্জেলিনা জোলি ও ব্র্যাড পিটের বৈবাহিক জীবন ছিল ৫ বছরের, তবে তাঁদের দীর্ঘ আইনি ও ডিভোর্স লড়াই গড়ায় কয়েক বছর ধরে, যার কিছু অংশ এখনও বিচারাধীন।

এই দম্পতির ছয় সন্তান- ম্যাডক্স, প্যাক্স, নক্স, জাহারা, শাইলো এবং ভিভিয়েন, বিগত কয়েক বছরে একে একে তাদের নামের পাশ থেকে বাবার পদবী ‘পিট’ ছেঁটে ফেলেছে! গত জুলাইয়ে কনিষ্ঠ সন্তানও ১৮ বছরে পা দেওয়ায় এখন আইনি বাধা অনেকটাই কেটে গেছে।
কাস্টডি সংক্রান্ত আইনি বাধ্যবাধকতার কারণে এতদিন জোলি ক্যালিফোর্নিয়াতে বসবাস করছিলেন। তবে সন্তানরা প্রাপ্তবয়স্ক হওয়ার পর তিনি চিরতরে যুক্তরাষ্ট্র ছেড়ে কম্বোডিয়াতে নিজের স্থায়ী আবাসে পাড়ি জমানোর পরিকল্পনা করছেন।
সন্তানদের পর পর বিচ্ছেদ ও বিষাদের এই ঝড়ে ব্র্যাড পিটের দীর্ঘদিনের মাদক ও মদ ছেড়ে স্বাভাবিক জীবনে ফেরার যাত্রাতেও বড় ধাক্কা লেগেছে। ২০১৬ সালে তিনি মদ খাওয়া সম্পূর্ণ ছেড়ে দিয়েছিলেন, যার পেছনে বন্ধু ব্র্যাডলি কুপারের অবদানকে কৃতিত্ব দিয়েছিলেন তিনি।

তবে সাক্ষাৎকারে স্বীকার করেছেন, ৭ বছর অ্যালকোহল মুক্ত থাকার পর তিনি আবারও গ্লাসে চুমুক দিচ্ছেন! পিট বলেন, আমি ৭ বছর সোবার ছিলাম। কিন্তু তারপর আবার নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ফেলি। অবশ্য এখন খুব সীমিত পরিমাণে খাই। খুব আত্মবিশ্বাসী হয়ে ভাবতাম সমস্যা হবে না, কিন্তু বেশি খেলে ক্ষতি হয়। এখন পেশাদারদের মতো সামান্য এক-দুই গ্লাস ওয়াইনেই নিজেকে আটকে রাখি।
ব্যক্তিগত জীবনের এই চরম ভাঙন ও বিষাদের সুর নিয়েই জীবনের নতুন অধ্যায়ে নিজেকে খাপ খাইয়ে নেওয়ার চেষ্টা করছেন 'এফ ওয়ান' সিনেমার এই হেভিওয়েট তারকা!
