দেশে ডেঙ্গু পরিস্থিতির কোনো উন্নতি তো নেই-ই, বরং হাসপাতালগুলোতে বাড়ছে আক্রান্ত ও মুমূর্ষু রোগীর ভিড়। মশাবাহিত এই জ্বরে আক্রান্ত হয়ে গত ২৪ ঘণ্টায় সারাদেশে আরও ছয়জনের মৃত্যু হয়েছে। একই সময়ে ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে নতুন করে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন এক হাজার ৮৬৬ জন। সব মিলিয়ে চলতি বছরে ডেঙ্গুতে মৃতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৪৪৫ জনে এবং মোট আক্রান্তের সংখ্যা পৌঁছেছে এক লাখ ৪২ হাজার ৭৭৫ জনে।
বুধবার স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের দেয়া নিয়মিত বিজ্ঞপ্তিতে ডেঙ্গু পরিস্থিতির এই উদ্বেগজনক চিত্র তুলে ধরা হয়।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তর জানায়, মঙ্গলবার সকাল ৮টা থেকে বুধবার সকাল ৮টা পর্যন্ত ২৪ ঘণ্টায় যে আট শতাধিক নতুন রোগী হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন, তার সিংহভাগই রাজধানীসহ ঢাকা বিভাগের। এ সময়ে ঢাকা বিভাগে ৮৬৮ জন, বরিশালে ২০৬ জন, চট্টগ্রামে ২৫৬ জন, খুলনায় ২১৫ জন, ময়মনসিংহে ৬৬ জন, রাজশাহীতে ১৭১ জন, রংপুরে ১৯৭১ জন এবং সিলেট বিভাগে ১৩ জন রোগী হাসপাতালে ভর্তি হন।
গত একদিনে ডেঙ্গুতে মারা যাওয়া ছয়জনের তথ্য বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে, তাদের মধ্যে চারজন ঢাকা বিভাগের এবং দুজন খুলনা বিভাগের বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় শেষ নিশ্বাস ত্যাগ করেন। বর্তমানে দেশের সরকারি ও বেসরকারি হাসপাতালগুলোতে মোট ৫ হাজার ৯৩৬ জন ডেঙ্গু রোগী ভর্তি আছেন।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মাসভিত্তিক পরিসংখ্যান অনুযায়ী, এ বছরের শুরু থেকে ডেঙ্গুর সংক্রমণ কম থাকলেও বর্ষার পর তা মারাত্মক আকার ধারণ করে। জানুয়ারি ও ফেব্রুয়ারিতে দুজন করে এবং মে মাসে একজন মারা গেলেও মার্চ ও এপ্রিলে ডেঙ্গুতে কোনো মৃত্যুর খবর মেলেনি।
তবে জুন মাস থেকে পরিস্থিতি খারাপ হতে শুরু করে; জুনে ১৩ জন, জুলাইয়ে ৩৬ জন, আগস্টে ৪৩ জন এবং সেপ্টেম্বরে ১৪৮ জনের মৃত্যু হয়। বিদায়ী অক্টোবর মাসে মারা গেছেন ১৭৪ জন, যা চলতি বছরে এক মাসে ডেঙ্গুতে সর্বোচ্চ মৃত্যুর রেকর্ড। আর চলতি নভেম্বর মাসের শুরুতেই মাত্র কয়েক দিনে মৃতের সংখ্যা ইতিমধ্যে ২৬ জনে পৌঁছেছে।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, নিয়মিত মশা নিধন অভিযান জোরদার না করলে এবং ব্যক্তিগত সচেতনতা না বাড়ালে ডেঙ্গুর এই বিপজ্জনক প্রকোপ কমানো কঠিন হয়ে পড়বে।