দেশের প্রাথমিক শিক্ষা ব্যবস্থায় ইতিবাচক পরিবর্তনের ছোঁয়া আনতে আগামী ২০২৭ শিক্ষাবর্ষ থেকে প্রাথমিক শিক্ষায় ‘ক্রীড়া’ ও ‘সংস্কৃতি’ শিক্ষা নামে দুটি নতুন বিষয় অন্তর্ভুক্ত করা হচ্ছে। নতুন শিক্ষাবর্ষে চতুর্থ শ্রেণির শিক্ষার্থীদের পাঠ্যক্রমে এই দুটি বিষয় যুক্ত হবে বলে জানিয়েছেন প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ। আগামী ২৪ ডিসেম্বর বার্ষিক পরীক্ষার ফলাফল প্রকাশের সাথে সাথেই শিক্ষার্থীদের হাতে ২০২৭ সালের নতুন পাঠ্যবই তুলে দেয়া হবে বলেও নিশ্চিত করেন তিনি।
বুধবার হবিগঞ্জ শিল্পকলা একাডেমিতে আয়োজিত ‘পাঠচক্র: আনন্দ পাঠের আসর-২০২৬’ এবং শিক্ষার মানোন্নয়নবিষয়ক এক সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে প্রতিমন্ত্রী এই নতুন উদ্যোগের কথা জানান।
প্রাথমিক স্তর থেকে ঝরে পড়া শিশুদের ক্লাসরুমে ফিরিয়ে আনার পরিকল্পনার কথা তুলে ধরে ববি হাজ্জাজ বলেন, যেসব শিশু আট বছর বয়সেও প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষায় যুক্ত হতে পারেনি, তাদের জন্য ‘আলো’ নামে একটি বিশেষ কর্মসূচি চালু করা হয়েছে। এই প্রকল্পের আওতায় ৮ থেকে ১৪ বছর বয়সী পিছিয়ে পড়া শিশুদের বিশেষ ব্যবস্থাপনায় ভাষা ও গণিতে প্রয়োজনীয় দক্ষতা বাড়িয়ে মূলধারার প্রাথমিক ও মাধ্যমিক শিক্ষায় ফিরিয়ে আনা হবে।
হবিগঞ্জের জেলা প্রশাসক ড. জি. এম. সরফরাজের সভাপতিত্বে আয়োজিত এই আলোচনা সভায় জেলা পুলিশ সুপার মো. তারেক মাহমুদ এবং সিভিল সার্জন রত্নদ্বীপ বিশ্বাসসহ স্থানীয় প্রশাসনের বিভিন্ন স্তরের কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
এর আগে সকালে হবিগঞ্জের মাধবপুর এলাকার বিভিন্ন সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের পাঠদান কার্যক্রম, শিক্ষার্থীদের নিয়মিত স্বাস্থ্য পরীক্ষা ও ‘স্কুল ফিডিং’ কর্মসূচি সরেজমিনে পরিদর্শন করেন প্রতিমন্ত্রী। প্রথমে তিনি এসএম ফয়সল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় পরিদর্শন করেন, যেখানে শিক্ষক ও শিক্ষার্থীরা তাঁকে উষ্ণ অর্ভ্যথনা জানান।
পরবর্তীতে দুপুরে তিনি জগদীশপুর চা-বাগান সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে যান এবং সেখানে শিক্ষার্থীদের স্বাস্থ্য পরীক্ষা কার্যক্রম প্রত্যক্ষ করার পাশাপাশি শিক্ষক ও কোমলমতি শিক্ষার্থীদের সঙ্গে কুশল বিনিময় করেন। এ সময় হবিগঞ্জ-৪ আসনের সংসদ সদস্য সৈয়দ মোহাম্মদ ফয়সল, জাতিসংঘের বিশ্ব খাদ্য কর্মসূচি (ডব্লিউএফপি)-এর কান্ট্রি ডিরেক্টর কোকো উশিয়ামাসহ প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তর ও স্থানীয় প্রশাসনের প্রতিনিধিরা প্রতিমন্ত্রীর সঙ্গে উপস্থিত ছিলেন।
