শতাব্দি পর ঋণ খেলাপি হতে যাচ্ছে রাশিয়া

রাশিয়ার ওপর পশ্চিমা বিশ্বের নিষেধাজ্ঞার প্রভাব ইতোমধ্যেই পড়তে শুরু করেছে দেশটির অর্থনীতির ওপর। বলশেভিক বিপ্লবের পর এই প্রথমবারের মতো সময়মত আন্তর্জাতিক ঋণ পরিশোধ করতে পারছে না রাশিয়া। 

বুধবার (১৬ মার্চ) এ ঋণ পরিশোধ করার শেষদিন ছিল। 

রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২০১৩ সালে বিক্রি করা দু'টি বন্ডের ওপর ১১৭ মিলিয়ন ডলারের সুদ পরিশোধ করার কথা ছিল রাশিয়ার। তবে আন্তর্জাতিক নিষেধাজ্ঞার কারণে ডলারের পরিবর্তে রুবলে শোধ করতে হতে পারে বলে জানিয়েছে ক্রেমলিন, যার ফলে ঋণ খেলাপের দায়ে পড়তে হবে রাশিয়াকে। 

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ঋণ পরিশোধে রাশিয়াকে ৩০ দিনের 'গ্রেস পিরিয়ড' দেয়া হবে। তবে তাতেও সমস্যার সমাধান না হয়ে বরং আরও দীর্ঘমেয়াদি হতে পারে বলে মত তাদের। 

মার্কেট পোর্টফলিও ম্যানেজার গুইডো চামোরো বলেন, গ্রেস পিরিয়ডের কারণে আগামী ১৫ এপ্রিলের আগে জানা যাবে না আসলে কি হবে। এই সময়ে যেকোনো কিছু ঘটতে পারে। 

প্রায় তিন সপ্তাহ আগে ইউক্রেনে পুতিনের 'বিশেষ সামরিক অভিযানের' আগ পর্যন্ত রাশিয়ার ঋণ খেলাপের বিষয়টি ছিল অচিন্তনীয়। সাড়ে ছয়শ' বিলিয়ন ডলারের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভের সাথে বিশ্ববাজারে তেল ও গ্যাস বিক্রি করে রাশিয়ার দৈনিক আয় ছিল কয়েক মিলিয়ন ডলার। 

তবে ইউক্রেন আক্রমণের পরে রাশিয়াকে একের পর এক নিষেধাজ্ঞার জালে জড়িয়ে ফেলে যুক্তরাষ্ট্রসহ ইউরোপের বেশ কয়েকটি মিত্র দেশ। এর ফলে বিদেশে মজুত রাশিয়ান রিজার্ভের প্রায় দুই-তৃতীয়াংশ অকেজো হয়ে পড়ে। 

বিশেষজ্ঞদের মতে, রাশিয়া এ ঋণ পরিশোধ করতে না পারলে তা বিশ্ববাজারে বিরূপ প্রভাব ফেলতে পারে। কেননা, পৃথিবীর অন্যতম প্রধান উৎপাদনশীল দেশ হওয়ার কারণে এর ওপর আরোপিত আন্তর্জাতিক নিষেধাজ্ঞা পৃথিবীব্যাপী দ্রব্যমূল্য এবং মুদ্রাস্ফীতির হার বাড়িয়ে দিচ্ছে।

আগামী কয়েকদিনে রাশিয়াকে আরও বেশ কয়েকটি ঋণ পরিশোধ করতে হবে। এর মধ্যে রয়েছে মার্চ মাসে আরও ছয়শ' ১৫ মিলিয়ন ডলার, এবং আগামী ৪ এপ্রিল দুই বিলিয়ন ডলারের বন্ডের ঋণ পরিশোধ। 

আরও পড়ুন: রুশ হামলায় ইউক্রেনের ক্ষতি ৫০০ বিলিয়ন ডলার

এই পরিস্থিতিতে রাশিয়ার কাছে তিনটি পথ খোলা আছে। এক, মস্কো ডলারে তাদের পূর্ণ ঋণ পরিশোধ করবে। এক্ষেত্রে এখনকার মতো তাদের আর ঋণ খেলাপির ভয় থাকবে না।

দুই, রুবলে ঋণ পরিশোধ। যদিও ঋণের শর্ত অনুযায়ী রুবলে পরিশোধ করলেও তা ঋণ খেলাপি হিসেবে গণ্য হবে। 

তিন, ঋণ পরিশোধ না করে ৩০ দিনের গ্রেস পিরিয়ড শেষ হওয়ার জন্য অপেক্ষা করা। সেক্ষেত্রে পরিণতি দেখার জন্য সে পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হবে। 


একাত্তর/এসজে