ফিনল্যান্ড ও সুইডেনের প্রধানমন্ত্রী
দ্বিতীয় বিশ্ব যুদ্ধের পর ফিনল্যান্ড এবং সুইডেনের নেতারা তাদের দেশকে কোনো সামরিক জোটে যুক্ত না করার সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন। কিন্তু চলমান ইউক্রেন আগ্রাসন শুরুর পর থেকে দেশ দুইটি আঞ্চলিক নিরাপত্তা নিয়ে শঙ্কায় রয়েছে। ফলে সামরিক জোটে যুক্ত হওয়ার বিষয়ে আগের সিদ্ধান্ত পুনঃবিবেচনা করছে ফিনল্যান্ড এবং সুইডেন।
উত্তর আটলান্টিক নিরাপত্তা জোট বা ন্যাটোর সাথে তাদের দেশের সম্পর্ক নিয়ে আলোচনা করতে বুধবার (১৩ এপ্রিল) দেশ দুইটির নেতারা স্টকহোমে এক বৈঠকে মিলিত হন। যদিও ফিনল্যান্ড এবং সুইডেন ন্যাটো জোটের অংশীদার দেশ, তবে তারা সদস্য নয়।
ফিনল্যান্ড এবং রাশিয়া প্রতিবেশি দেশ। ফিনল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রী সানা মারিন বলেন, নিরাপত্তা পটভূমিতে পরিবর্তন আসার ফলে “শান্তি নিশ্চিত” করার লক্ষ্যে সর্বোত্তম উপায় বিশ্লেষণ করে দেখা প্রয়োজন হয়ে পড়েছে।
মারিন আরও বলেন, তার সরকারের অবশ্যই উচিত হবে “সবধরনের পদক্ষেপের” জন্য প্রস্তুত থাকা। সামরিক জোটে যুক্ত হওয়ার জন্য আবেদন করা হবে কিনা, সংসদের সদস্যরা আগামী কয়েক সপ্তাহের মধ্যে সেই সিদ্ধান্ত নেবেন বলে ধারণা করা হচ্ছে।
এদিকে সুইডেনের ক্ষমতাসীন সোশাল ডেমোক্রেটরা ঐতিহ্যগত ভাবে ন্যাটোর সদস্য পদ লাভের বিরোধিতা করে এসেছে।
দেশটির প্রধানমন্ত্রী ম্যাগডালেনা অ্যান্ডারসন বলেন, সুইডেনের লোকজনকেও তাদের নিরাপত্তার জন্য সবচেয়ে ভালো উপায় কি তা নিয়ে চিন্তা ভাবনা করতে হবে।
জাপানের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম এনএইচকে এক প্রতিবেদনে জানায়, ন্যাটোর অংশীদার এবং সদস্য হওয়ার মধ্যে পরিষ্কার পার্থক্য আছে বলে অ্যান্ডারসন এবং মারিন দুজনেই সম্মত হয়েছেন। ন্যাটোর অধীনে থাকা ছাড়া নিরাপত্তার নিশ্চয়তা পাওয়ার অন্য কোনো বিকল্প নেই বলেও এ দুই নেতা একমত পোষণ করেছেন।
আরও পড়ুন: বাবার কোলে থাকা শিশুকে গুলি করে হত্যা, আটক তিন
এদিকে প্রতিবেশিদের ন্যাটো প্রীতিকে সরল ও স্বাভাবিকভাবে দেখে না রাশিয়া।
রাশিয়ার পক্ষ থেকে সাফ জানিয়ে দেওয়া হয়েছে, প্রতিবেশি কোনো দেশ যদি রাশিয়ার আঞ্চলিক নিরাপত্তার বিষয়টি উপেক্ষা তাহলে তাদের সামরিক এবং রাজনৈতিক পরিণাম ভোগ করতে হবে।
ইউক্রেনে রুশ আগ্রাসন শুরুর পর নতুন করে আর কোনো দেশকে সদস্যপদ দেয়নি ন্যাটো। তবে রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা বলছেন, সুযোগ পেলেই ন্যাটো ইউরোপে তার শক্তি বাড়াবে।
একাত্তর/আরবিএস