‘ডাইনি’ অপবাদে নারীকে মারধর, বিশ্বাস করে পুলিশও!

ভারতের রাজস্থানে 'ডাইনি' অপবাদে এক নারীকে বেধড়ক মারধর করেছেন তার পরিবারের লোকজন। প্রায় এক বছর ধরে ওই নারীর জা, দেওর এবং তাদের ছেলেরা তাকে মারধর করে আসছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। 

ভারতীয় সংবাদমাধ্যম ইন্ডিয়া টুডে জানিয়েছে, শনিবার রাজস্থান রাজ্যের ভিলওয়ারা জেলায় এ ঘটনা ঘটে। পরে আহতবস্থায় তাকে হাসপাতালে ভর্ত করা হয়।

এদিকে এ ঘটনায় আহত নারী পুলিশের বিরুদ্ধে অভিযোগ করে জানান, মারধরের পর স্বামীকে নিয়ে থানায় অভিযোগ জানাতে গেলে পুলিশ তাদের অভিযোগ না নিয়ে উল্টো তাদের হাসপাতালে ছেড়ে দিয়ে আসে। অপরাধীদের কাউকেই গ্রেপ্তারও করেনি পুলিশ। 

অন্যদিকে ওই নারীর এক আত্মীয়র অভিযোগ, ওই নারীর জন্যই তার ছেলের মৃত্যু হয়েছে। এর পরই 'ডাইনি' অপবাদে তাকে মারধর শুরু করেন পরিবারের সদস্যরা। প্রায় এক বছর ধরে চলেছে এ অত্যাচার। এক সময় ওই নারীকে গ্রাম ছেড়ে চলে যেতে বলা হয়। শনিবারও তাকে বেধড়ক মারধর করা হয়।

পুলিশের সহযোগিতা না পেয়ে শেষ পর্যন্ত 'সখী সেন্টারে' গিয়ে অভিযোগ জানান আক্রান্ত নারী। নির্যাতনের শিকার নারীদের সহায়তায় কাজ করে সংস্থাটি। এই সংস্থার মাধ্যমেই তাকে হাসপাতালে ভর্তি করানো হয়।

সখী সেন্টারের কর্মকর্তা সুশীলা শর্মা বলেন, ওই নারীকে ডাইনি বলে হেনস্থা ও মারধর করা হতো। এক বছর ধরে আত্মীয়রা তাকে ডাইনি অপবাদ দিয়ে অত্যাচার করতেন। এমনকি তাকে গ্রাম ছেড়ে চলে যেতে হতো। আমরা বিষয়টি পুলিশ সুপারকে জানিয়েছি। 

যদিও এ বিষয়ে পুলিশ এখনও কোনো পদক্ষেপ গ্রহণ করেনি। 

আরও পড়ুন: সংগ্রাম আর রক্তপাত ছাড়া দাবি আদায় হয় না: ফখরুল

নির্যাতনের শিকার একাধিক নারী ও মানবাধিকার সংস্থাগুলোর অভিযোগ, ক্ষেত্র বিশেষে পুলিশও এ ধরনের কুসংস্কার বিশ্বাস করে। ফলে এসব ঘটনার বিচার পাচ্ছেন না অনেকে। ভারতের প্রান্তিক অঞ্চলে এসব ঘটনা বাড়ছে।  

এর আগে চলতি বছরের জানুয়ারি মাসে ঝাড়খণ্ডের সিমডেগা জেলার এক গ্রামে, ৬০ বছর বয়সী এক নারীকে স্থানীয়রা আগুনে নিক্ষেপ করে। তাদের সন্দেহ, ওই নারী জাদুবিদ্যা অনুশীলন করেছিল। এছাড়া, প্রায় একই সময়ে এবং একই ধরনের অভিযোগে ৩২ বছর বয়সী আরেক ব্যক্তিকে পাথর ছুঁড়ে এবং আগুনে পুড়িয়ে হত্যা করা হয়। 


একাত্তর/আরবিএস