পাঁচশ' বছরে সবচেয়ে ভয়াবহ খরার কবলে ইউরোপ

বিগত ৫০০ বছরের মধ্যে সবচেয়ে ভয়াবহ খরার কবলে পড়েছে ইউরোপ। মহাদেশটির প্রায় দুই-তৃতীয়াংশ অঞ্চল বর্তমানে খরা সতর্কতার অধীনে রয়েছে।

মঙ্গলবার (২৩ আগস্ট) গ্লোবাল ড্রাউট অবজারভেটরির সর্বশেষ প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মহাদেশটির ৪৭ শতাংশ অঞ্চলে খরা দেখা দিয়েছে। এছাড়া আরও ১৭ শতাংশ এলাকায় গুরুতর খরার সতর্কতা জারি করা হয়েছে।

প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, চলতি বছরের শুরুতে ইউরোপের বহু এলাকায় খরার ইঙ্গিত দেখা দেয় এবং অগাস্ট মাসের শুরুতে পরিস্থিতি গুরুতর আকার ধারণ করে। ইতালির উত্তরাঞ্চল, ফ্রান্সের দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চল ও হাঙ্গেরিসহ একাধিক এলাকার অবস্থা সবচেয়ে ভয়াবহ।

খরার কারণে স্থলপথে পরিবহন ও বিদ্যুতের উত্পাদন হ্রাস পেয়েছে। স্থানীয় ভুট্টার উত্পাদন গত পাঁচ বছরের গড় উত্পাদনের তুলনায় কমেছে ১৬ শতাংশ।

ইউরোপীয় রিসার্চ কমিশনের প্রধান মারিয়া গ্যাব্রিয়েল বলেছেন, পানির ঘাটতি ও চলমান তাপপ্রবাহ পুরো ইউরোপের পানির স্তরের উপর অভূতপূর্ব চাপ সৃষ্টি করেছে।


তিনি যোগ করেন, আমরা বর্তমানে গড়ের চেয়ে বেশি সংখ্যায় দাবানল দেখছি এবং ফসল উৎপাদনের উপর একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব লক্ষ্য করছি। প্রতি বছর জলবায়ু পরিবর্তন নিঃসন্দেহে আরও বেশি লক্ষণীয়। 

আরও পড়ুন: ইভিএম বিরোধীরা কারচুপিমুক্ত নির্বাচন চায় না: কাদের

প্রতিবেদনে সতর্ক করা হয়েছে যে, ইতালি, স্পেন, পর্তুগাল, ফ্রান্স, জার্মানি, নেদারল্যান্ডস, বেলজিয়াম, লুক্সেমবার্গ, রোমানিয়া, হাঙ্গেরি, উত্তর সার্বিয়া, ইউক্রেন, মলদোভা, আয়ারল্যান্ড এবং যুক্তরাজ্যসহ আশপাশের দেশগুলোতে পরিস্থিতি আরও খারাপ হচ্ছে।

এদিকে স্থানীয় গণমাধ্যমের খবরে বলা হয়েছে, নদীগুলোতে পানি শুকিয়ে যাওয়ার কারণে মাছসহ অন্যান্য জলজ প্রাণিদের মৃত্যু হচ্ছে। কৃষি কাজে নতুন করে দেখা দিয়েছে অনিশ্চতা। অন্যদিকে বাড়ছে দাবানল, রাষ্ট্রগুলো দ্রুত পদক্ষেপ না নিলে ভবিষ্যতে আরও বিপদ হবে শাঙ্কা প্রকাশ করেছে বিশেষজ্ঞরা। 


একাত্তর/আরবিএস