ইসরাইলি সেনাবাহিনী প্রথমবারের মতো স্বীকার করলো যে তাদের একজন সেনা সাংবাদিক শিরিন আবু আকলেহকে ‘জঙ্গি’ ভেবে গুলি করেন। স্থানীয় সময় সোমবার (৫ সেপ্টেম্বর) ইসরাইলি সেনাবাহিনীর চূড়ান্ত প্রতিবেদনে এমনটি জানানো হয়েছে।
প্রতিবেদনটিতে বলা হয়েছে, ইসরাইলি প্রতিরক্ষা বাহিনীর (আইডিএফ) বন্দুকের গুলিতে ‘দুর্ঘটনাবশত’ আবু আকলেহ শিরিন আহত হয়েছিলেন। কিন্তু সশস্ত্র ফিলিস্তিনি বন্দুকধারী হিসাবে চিহ্নিত সন্দেহভাজনদের লক্ষ্য করে গুলি চালানো হয়েছিল সেদিন।
ইসরাইলের দখলকৃত পশ্চিম তীরের জেনিন শহরে গত ১১ মে অভিযান চালায় দেশটির সেনারা। সংবাদ সংগ্রহের জন্য সেখানে ছিলেন ৫১ বছর বয়সী শিরিন আবু আকলেহ। প্রত্যক্ষদর্শী ও তার সহকর্মীদের অভিযোগ, ইসরাইলের এক সেনা মাথায় গুলি করলে শিরিন আবু আকলেহ প্রাণ হারান।
সাংবাদিক শিরিনের হত্যাকাণ্ডের কয়েক মাস পর এমন স্বীকারোক্তি এলো ইসরাইলের। আলোচিত হত্যাকাণ্ডের তদন্তের পরিকল্পনা ছিল না ইসরাইলের সামরিক বাহিনীর বলে আগে জানিয়েছল তারা। সেসময় ইসরাইল কর্তৃপক্ষ দাবি করে, সশস্ত্র ফিলিস্তিনি গোষ্ঠীর গুলিতেই প্রাণ হারিয়েছেন শিরিন।
ইসরাইলের একজন শীর্ষ সামরিক কর্মকর্তা জানিয়েছেন, ‘আমাদের উপসংহার হলো যে, কোন বন্দুকের গুলিতে তিনি নিহত তা নির্ণয় করা সম্ভব নয়, তবে একজন আইডিএফ সেনার ‘ভুলবশত’ গুলিতে তিনি আঘাত পেয়েছিলেন। যিনি তাকে একজন সাংবাদিক হিসাবে চিহ্নিত করতে পারেননি।
ফিলিস্তিনি কর্তৃপক্ষও উত্তর-পশ্চিম তীরের জেনিন শরণার্থী শিবিরে ইসরাইল ইচ্ছাকৃতভাবে প্রতিবেদককে হত্যা করেছে বলে অভিযোগ করে। যেখানে ইসরাইল জোর দিয়ে বলে যে একজন সেনা এলোপাতাড়ি গুলি করলেও এটি ইচ্ছাকৃত ছিল না।
আরও পড়ুন: ট্রাস আসার আগেই দুই ব্রিটিশ এমপির পদত্যাগ
সোমবার ইসরাইলের একজন জ্যেষ্ঠ সেনা কর্মকর্তা সাংবাদিকদের বলেন যে, সেনারা গুলি চালাচ্ছিল এবং আবু আকলেহকে তারা ফিলিস্তিনি ‘জঙ্গি’ বলে ‘ভুল’ করেছিল। তিনি আরও দাবি করেন ‘যখন তারা তার দিকে গুলি চালায় তখন তারা জানতো না যে তিনি একজন সাংবাদিক, এটি একটি ভুল ছিল, তারা ভেবেছিল যে তারা সন্ত্রাসীদের লক্ষ্য করে গুলি ছুড়ছে।
তিনি আরও বলেন, এ ঘটনায় দুঃখপ্রকাশ করছেন তিনি। ‘উদ্দেশ্যমূলকভাবে এটি করা হয়নি, এটি সম্পূর্ণ পরিষ্কার বলেও দাবি করেন এই কর্মকর্তা।
যদিও আবু আকলেহ ইসরায়েলি সেনা অভিযানের সময় ‘প্রেস’ চিহ্নিত একটি বুলেটপ্রুফ ভেস্ট এবং একটি হেলমেট পরিহিত ছিলেন।
সেনাবাহিনীর প্রতিবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে সাংবাদিক শিরিনের পরিবার অভিযোগ করে যে ইসরাইল ‘হত্যার দায় নিতে অস্বীকার করছে’। তারা আরও বলেন, ‘আমরা গভীরভাবে মর্মাহত এবং হতাশ। তারা মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের প্রতি ‘বিশ্বাসযোগ্য’ তদন্তের আহ্বান জানান।
একাত্তর/এসএ