যেভাবে কড়া পাহারায় ওয়াশিংটন পৌঁছালেন জেলেনস্কি

১০ মাসে আগে যুদ্ধ শুরুর পর এই প্রথমবারের মতো বিদেশ সফর করলেন ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি। একদিনের এই সফরে তাকে নিরাপদে যুক্তরাষ্ট্র পৌঁছাতে যে ধরণের ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে তা দেখেই অনুমান করা যায়, দুই দেশের জন্যই তাদের মধ্যকার সম্পর্ক কতটা গুরুত্বপূর্ণ। 

শুক্রবার (২৩ ডিসেম্বর) কিয়েভে ফিরেছেন জেলেনস্কি। দেশে ফিরে টেলিগ্রাম পোস্টে এক ভিডিওবার্তায় তিনি বলেন, তারা বিজয়ের লক্ষ্যে কাজ করে চলেছেন। 

এর আগে মঙ্গলবার (২০ ডিসেম্বর) ইউক্রনের পূর্বাঞ্চলে বাখমুত শহরের যুদ্ধক্ষেত্র পরিদর্শনের পর ট্রেনে করে পোল্যান্ডে পৌঁছান জেলেনস্কি। 

রাতভর ট্রেনযাত্রার পর মার্কিন বিমান বাহিনীর একটি যুদ্ধবিমানে চড়ে ওয়াশিংটনের উদ্দেশ্যে যাত্রা শুরু করেন তিনি। ধারণা করা হচ্ছে, এসময় তার যাত্রায় সঙ্গ দেয় একটি ন্যাটো গোয়েন্দা বিমান ও একটি এফ-১৫ ফাইটার জেট। 

এ সপ্তাহের শুরুর দিক থেকেই জেলেনস্কির যুক্তরাষ্ট্র সফর নিয়ে গুঞ্জন শোনা যাচ্ছিল। তবে বুধবার সকালে তিনি নিরাপদে ওয়াশিংটনের উদ্দেশ্যে যাত্রা শুরু করার পরই এ ব্যাপারে নিশ্চিত করেন মার্কিন কর্মকর্তারা। 

গত কয়েকমাস ধরেই এই সফরের ব্যাপারে আলোচনা চলছিলো। তবে ১১ ডিসেম্বর দুই দেশের প্রেসিডেন্টের ফোনালাপের পর এ নিয়ে চূড়ান্ত প্রস্তুতি শুরু হয়। তিন দিন পর আনুষ্ঠানিকভাবে জেলেনস্কিকে সফরের নিমন্ত্রণ পাঠানো হয়। সফরের কথা নিশ্চিত হওয়ার পরই চূড়ান্ত পরিকল্পনা বাস্তবায়ন শুরু করা হয়। 

অনুমিতভাবেই জেলেনস্কির যাত্রার ব্যাপারে কোনও আনুষ্ঠানিক তথ্য প্রকাশ করা হয়নি। শান্তির সময়েই যেখানে প্রেসিডেন্টের সফর নিয়ে কড়া নিরাপত্তা বজায় রাখা হয়, সেখানে যুদ্ধ চলাকালে ঝুঁকি তো আরও বহুগুণে বেশি। 

ইউক্রেনের আকাশসীমায় রাশিয়ান মিসাইল হামলার হুমকি থাকায় জেলেনস্কি গোপনে ট্রেনে করে পোল্যান্ড পর্যন্ত পৌঁছান। বুধবার ভোরে তাকে সীমান্তবর্তী প্রজেমিসল শহরের ট্রেন স্টেশনে দেখা যায়। 

পোলিশ টেলিভিশনে প্রচারিত ছবিতে দেখা গেছে, স্টেশনের প্ল্যাটফর্মে একটি হলুদ-নীল ট্রেনের সামনে দিয়ে হেঁটে চলেছেন জেলেনস্কি ও তার সাঙ্গপাঙ্গরা। এরপর তারা অপেক্ষমান কতগুলো গাড়িতে ওঠেন, যার মধ্যে ছিল কালো শেভরোলে সাবআরবান। মার্কিন প্রশাসনের প্রিয় গাড়ি হিসেবে পরিচিত এগুলো। 

ফ্লাইট ডাটা থেকে জানা যায়, এর কিছুক্ষণ পরই মার্কিন বিমান বাহিনীর একটি বোয়িং সি-৪০বি বিমান স্টেশন থেকে ৮০ কিলোমিটার দূরের রজেসজো বিমানবন্দর থেকে উড্ডয়ন করে। 

এরপর বিমানটি যুক্তরাজ্যের দিকে যাত্রা করে। তবে উত্তর সাগরের উপরে আকাশসীমায় প্রবেশের আগে ন্যাটোর একটি গোয়েন্দা বিমান ওই এলাকা স্ক্যান করে। উত্তর সাগরে রাশিয়ান সাবমেরিন টহল দেয় বলে ধারণা করা হয়। 

ইংল্যান্ডের একটি ঘাঁটি থেকে উড্ডয়ন করা একটি মার্কিন এফ-১৫ ফাইটার জেট যাত্রার কিছু অংশ জেলেনস্কির বিমানকে পাহারা দেয়। 

অবশেষে প্রায় ১০ ঘণ্টার বিমানযাত্রার পর স্থানীয় সময় দুপুরের দিকে জেলেনস্কিকে নিয়ে বিমানটি ওয়াশিংটনের কাছে অবতরণ করে। 

আরও পড়ুন: ইসরাইলি বাহিনীর গুলিতে ফিলিস্তিন ফুটবলারের মৃত্যু

ওয়াশিংটনে পৌঁছানোর পর অন্য সব রাষ্ট্রপ্রধানের মতই জেলেনস্কিকে নিরাপত্তা দেন মার্কিন সিক্রেট সার্ভিসের সদস্যরা। তবে যুদ্ধরত একটি দেশের প্রেসিডেন্ট হিসেবে তার ব্যাপারে অতিরিক্ত সতর্ক ছিলেন তারা। 

অনিশ্চয়তা সত্ত্বেও জেলেনস্কির মার্কিন সফর কোনও বিঘ্ন ছাড়াই সম্পন্ন হয়েছে। বৃহস্পতিবার দেশে ফেরার পথে তিনি পোল্যান্ডে দেশটির প্রেসিডেন্ট আন্দ্রে দুদার সাথে সাক্ষাৎ করেন। 


একাত্তর/এসজে