ধ্বংস হওয়া ফুকুশিমা পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র থেকে এক মিলিয়ন টনের বেশি তেজস্ক্রিয় পানি এবছর সমুদ্রে নিষ্কাশন করার কথা জানিয়েছে জাপান।
শুক্রবার (১৩ জানুয়ারি) জাপানের প্রধান মন্ত্রিপরিষদ সচিব হিরোকাজু মাতসুনো বলেন, এই বসন্ত বা গ্রীষ্মের মধ্যে কোন এক সময় এটি করা হবে বলে আশা করা হচ্ছে।
তবে তার আগে দেশটির সরকার আন্তর্জাতিক পরমাণু শক্তি সংস্থার (আইএইএ) কাছ থেকে একটি 'বিস্তারিত প্রতিবেদনের' জন্য অপেক্ষা করবে বলে জানান তিনি।
আন্তর্জাতিক পরমাণু শক্তি সংস্থা (আইএইএ) এ প্রস্তাবকে নিরাপদ বললেও, প্রতিবেশী দেশগুলো এ নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে।
২০১১ সালের ফুকুশিমা বিপর্যয় ছিল চেরনোবিলের পর সবচেয়ে ভয়াবহ পারমাণবিক দুর্ঘটনা। বিদ্যুৎ কেন্দ্রটির ডিকমিশনিং প্রক্রিয়া ইতোমধ্যে শুরু হলেও সেটি শেষ হতে চার দশক সময় লাগতে পারে৷
প্রতিদিন প্ল্যান্টটি ১০০ ঘনমিটার দূষিত পানি উত্পাদন করে। ভূগর্ভস্থ পানি ও সমুদ্রের পানির এই মিশ্রণ চুল্লিগুলোকে ঠাণ্ডা রাখতে ব্যবহৃত হয়।
এরপর তা ফিল্টার করে ট্যাঙ্কে সংরক্ষণ করা হয়। এই পানি সংরক্ষণের জন্য সাইটে এক দশমিক তিন মিলিয়ন ঘনমিটারেরও বেশি স্থান থাকলেও তা দ্রুতই ফুরিয়ে যাচ্ছে।
প্রতিবেশী দেশ এবং স্থানীয় জেলেরা এই প্রস্তাবের বিরোধিতা করেছেন, যা ২০২১ সালে জাপান সরকার অনুমোদন করেছিল।
স্বচ্ছতার অভাবের অভিযোগে প্যাসিফিক দ্বীপপুঞ্জ ফোরাম জাপানের সমালোচনা করেছে।
ফোরামের সেক্রেটারি জেনারেল হেনরি পুনা বলেন, প্রশান্ত মহাসাগরীয় মানুষরা উপকূলীয় মানুষ, এবং সমুদ্র তাদের জীবিকা নির্বাহের অবিচ্ছেদ্য অংশ হয়ে চলেছে।
আরও পড়ুন: চীনে করোনা সংক্রমণ ৯০ কোটি ছাড়ালো
তিনি বলেন, '২০২১ সালে যখন আমরা আমাদের উচ্চ পর্যায়ের শীর্ষ সম্মেলন করেছিলাম তখন জাপানের নেতারা যে প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল তা তারা ভঙ্গ করছে। আমরা সম্মত হয়েছিলাম যে এই পানি নির্গত করার আগে আমাদের সমস্ত স্বাধীন বৈজ্ঞানিক এবং যাচাইযোগ্য বৈজ্ঞানিক প্রমাণগুলো দেখতে দেয়া হবে। দুর্ভাগ্যবশত, জাপান সহযোগিতা করছে না।'
উল্লেখ্য, ২০১১ সালে উত্তর-পূর্ব জাপানে ৯ মাত্রার ভূমিকম্পে সৃষ্ট সুনামি ফুকুশিমা দাইচি পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্রে আঘাত হানে, তিনটি চুল্লি প্লাবিত করে এবং একটি বড় বিপর্যয়ের জন্ম দেয়।