'চীন পারমাণবিক প্রতিযোগিতায় জড়াবে না'

ইউক্রেন যুদ্ধকে কেন্দ্র করে বিশ্বজুড়ে রোজই বাড়ছে পারমাণবিক ঝুঁকি। জাতিসংঘসহ একাধিক আন্তর্জাতিক সংস্থা এ শঙ্কার কথা আগেই জানিয়েছে। রাশিয়ার পাশাপাশি যুক্তরাষ্ট্র-চীনের দিকে আঙুল সংস্থাগুলোর। এমন পরিস্থিতিতে পারমাণবিক অস্ত্র নিয়ে নিজেদের অবস্থান স্পষ্ট করেছে চীন।   

চীনা প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র থান খ্য ফেই বলেছেন, চীন যেকোনো সময় ও পরিস্থিতিতে পারমাণবিক অস্ত্র প্রথমে ব্যবহার না করার নীতি মেলে চলে। পাশাপাশি পারমাণবিক অস্ত্রবিহীন দেশ ও অঞ্চলে পারমাণবিক অস্ত্র ব্যবহার না করার প্রতিশ্রুতি দেয়।

চীনা রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম সিআরআই জানায়, বৃহস্পতিবার অনুষ্ঠিত নিয়মিত সাংবাদিক সম্মেলনে ফেই এ কথা বলেন।  

ফেই বলেন, চীনের পারমাণবিক নীতি উচ্চ মানের স্থিতিশীলতা, ধারাবাহিকতা ও পূর্বাভাসের যোগ্যতা রাখে। চীন কোনো দেশের সঙ্গে পারমাণবিক অস্ত্র প্রতিযোগিতায় জড়াবে না এবং জাতীয় নিরাপত্তার জন্য ন্যূনতম প্রয়োজনীয় পর্যায়ের পারমাণবিক শক্তি ধরে রাখবে। 

তিনি আরও বলেন, যুক্তরাষ্ট্রে বিশ্বের বৃহত্তম পারমাণবিক অস্ত্রাগার আছে, এখনও বিপুল পরিমাণ অর্থ বিনিয়োগ করে পারমাণবিক শক্তি উন্নত করা হচ্ছে, পারমাণবিক অস্ত্র ব্যবহারের সীমানা কমছে এবং পারমাণবিক প্রতিরক্ষামূলক ছাতা জোরদার করেছে। যুক্তরাষ্ট্র বারবার তথাকথিত ‘চীনের পারমাণবিক হুমকি’ তুলে ধরে শুধুমাত্র তার পারমাণবিক অস্ত্রাগার প্রসারিত করার ও সামরিক আধিপত্য বজায় রাখার জন্য অজুহাত খোঁজে।

আরও পড়ুন: ইউক্রেন যুদ্ধের এক বছর, অবিলম্বে সেনা প্রত্যাহারের আহ্বান

এদিকে গত সপ্তাহে মার্কিন গণমাধ্যমে এক সাক্ষাৎকারে যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রমন্ত্রী অ্যান্টনি ব্লিঙ্কেন বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্রের কাছে গোয়েন্দা তথ্য রয়েছে যে, চীন রাশিয়াকে অস্ত্র সরবরাহের পরিকল্পনা করছে। এমন কিছু করলে চীনকে ভয়াবহ পরিণতি ভোগ করতে হবে বলেও তিনি হুঁশিয়ারি দেন।

তবে মার্কিন হুমকিকে গুরুত্ব না দিয়ে চীনা পররাষ্ট্রমন্ত্রী ওয়াং ই বলেছেন, রাশিয়া ও চীন একটি ‘মাল্টি পোলার’ বা বহু মেরুর বিশ্ব প্রতিষ্ঠায় বদ্ধপরিকর যেখানে কোনো দেশের একক আধিপত্য থাকবে না। 


একাত্তর/আরবিএস