অনাস্থা ভোটে ফরাসি প্রেসিডেন্ট ইমান্যুয়েল ম্যাক্রোঁর নেতৃত্বাদীন সরকার টিকে যাওয়ার পর বিক্ষোভ হয়েছে রাজধানী প্যারিসে।
স্থানীয় সময় সোমবার প্যারিসের গুরুত্বপূর্ণ বিভিন্ন এলাকার সড়কে বিক্ষোভকারীরা আবর্জনা স্তূপ করে তাতে আগুন ধরিয়ে দেয়।
এ সময় আগুন নেভাতে ফায়ার ফাইটার এবং পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর বেশ বেগ পেতে হয়। ফ্রান্সে অবসরের বয়সসীমা বৃদ্ধি নিয়ে ফ্রান্সের রাজপথে গত এক সপ্তাহ যাবত বিক্ষোভ হচ্ছে। পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষে জড়ানোয় এখন পর্যন্ত ১০১ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
বিক্ষোভকারীরা সোমবার রাতে প্যারিসের কেন্দ্রে মিছিল করে। এ সময় দাঙ্গা পুলিশ সেখানকার সড়ক ঘেরাও করে রাখে। এতে আরও বিক্ষোভকারীদের বিক্ষোভে যোগ দেয়া কঠিন হয়ে পড়ে। তবে দেশটির বামপন্থি নেতারা বিক্ষোভে যোগ দেন।
ম্যাক্রোঁর সরকারের বিরুদ্ধে প্রথম অনাস্থা ভোটটি উত্থাপন করেন মধ্যপন্থি এমপিরা। এই ভোটে ম্যাক্রোঁর প্রতি অনাস্থা জানান ২৭৮ জন এমপি। তার সরকারের পতনের জন্য প্রয়োজন ছিল ২৮৭টি ভোট। যদি অনাস্থা ভোটে হেরে যেতেন তাহলে প্রেসিডেন্ট ম্যাক্রোঁকে নতুন সরকার গঠন করতে হতো অথবা নতুন নির্বাচনের তারিখ ঘোষণা করতে হতো।
আরও পড়ুন: মুক্তি পেলেন অপহৃত ফরাসি সাংবাদিক ও মার্কিন ত্রাণকর্মী
এছাড়া মেরিন লঁ পেন্সের উগ্রডানপন্থি ন্যাশনাল র্যালি পার্টির উত্থাপিত দ্বিতীয় অনাস্থা ভোটও সফল হয়নি। এখন যেহেতু অনাস্থা ভোট ব্যর্থ হয়েছে, ফলে ম্যাক্রোঁর পেনশন বয়সসীমা বৃদ্ধির বিষয়টি দ্রুত সময়ে আইনে রূপ নেবে।
সরকারের এ সিদ্ধান্ত সাধারণ মানুষকেও ক্ষিপ্ত করে তোলে। রাজধানী প্যারিসসহ ফ্রান্সের বিভিন্ন শহরে অবস্থান নেন তারা। এ সময় পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়েন অনেকে। এছাড়া রাস্তায় ব্যারিকেড দেন বিক্ষোভকারীরা। সোমবার অনাস্থা ভোট ব্যর্থ হলে আবারও বিক্ষোভ শুরু হয়।
একাত্তর/এসি