উত্তর ইতালির ট্রেন্টিনো প্রদেশের একটি আদালত ১৭ বছর বয়সী এক মহিলা ভাল্লুকের হত্যার আদেশ স্থগিত করেছে। চলতি মাসের শুরুতে জঙ্গলে জগিং (দৌড়ানো) করার সময় এক ব্যাক্তিকে হত্যা করেছিল ভাল্লুকটি।
সংবাদমাধ্যম দ্য গার্ডিয়ান জানায়, ২৬ বছর বয়সী আন্দ্রেয়া পাপি আধুনিক সময়ে ইতালির প্রথম ব্যক্তি, যিনি ভাল্লুকের আক্রমণে নিহত হলেন। তিনি গত ৭ এপ্রিল মারা যান এবং গেলো বুধবার তার শেষকৃত্য অনুষ্ঠিত হয়েছে।
আক্রমণে পাপির ঘাড়ে, বাহুতে এবং বুকে গভীর ক্ষত হয়েছে এবং গত সপ্তাহে করা একটি ময়নাতদন্তে এ তথ্য উঠে এসেছে যে, ভাল্লুকের আক্রমণেই তার মৃত্যু হয়েছে। জেজে৪ (জেজে ফোর) নামের ভাল্লুকটিই এর জন্য দায়ি বলে নিশ্চিত হয়েছেন আইনজীবীরা।
এদিকে হামলার পর ওই অঞ্চলের প্রাদেশিক গভর্নর ও অতি-ডানপন্থী লীগের সদস্য মাউরিজিও ফুগাত্তি ভাল্লুকটিকে ধরে নিয়ে হত্যা করার আদেশ দেন।
তার আদেশে ৪০জনের বেশি রেঞ্জারকে ক্যালডেস গ্রামের নিকটবর্তী বনে মোতায়েন করা হয়েছিল। এসময় সেখানে টিউব ফাঁদও পাতা হয়েছিল, যা সাধারণত ভাল্লুক ধরার জন্য ব্যবহৃত হয়।
কিন্তু শুক্রবার একটি স্থানীয় প্রশাসনিক আদালত জেজে৪ -এর মৃত্যুদণ্ড কার্যকরে স্থগিতাদেশ দিয়েছে। একাধিক অ্যাক্টিভিস্ট এবং প্রাণী অধিকার গোষ্ঠীর আইনি পদক্ষেপের কারণে আদালত এ মৃত্যুদণ্ড স্থগিত করেছে।
তবে এই নিয়ে দ্বিতীয়বার আদালত জেজে৪'কে রক্ষা করলো। এর আগে ২০২০ সালে ভাল্লুকটি মাউন্ট পেলেরতে বাবা ও ছেলেকে আক্রমণ করে আহত করেছিল।
ইন্টারন্যাশনাল অর্গানাইজেশন ফর অ্যানিমেল প্রোটেকশনের (ওআইপিএ) ট্রেন্টিনো প্রতিনিধি ওরনেলা ডরিগাট্টি এই রায়কে স্বাগত জানিয়েছেন।
তিনি বলেন, আমরা আনন্দিত যে প্রশাসনিক আদালত ভাল্লুকটিকে হত্যার আদেশ স্থগিত করেছে। আপনি এই প্রাণীদের হত্যা করতে পারেন না। তবে (আমাদের অবশ্যই) তাদের সাথে বসবাসের জন্য একটি প্রকল্প শুরু করতে হবে।
ভাল্লুকরা ট্রেন্টিনো-আল্টো অ্যাডিজ অঞ্চলে সংস্কৃতি ও ইতিহাসের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে। সেন্ট রোমেডিয়াস, চতুর্থ শতাব্দীর একজন সন্ন্যাসী যাকে প্রায়শই তার পাশে একটি ভাল্লুকের সাথে চিত্রিত করা হয়, তাকে এই এলাকার স্বর্গীয় রক্ষাকর্তাদের একজন বলা হয়। কিংবদন্তী আছে যে, বিশপের সাথে দেখা করার জন্য রোমেডিয়াস ট্রেন্টোতে যাচ্ছিলেন, যখন তার ঘোড়া একটি ভাল্লুক দ্বারা আক্রান্ত হয়েছিল। তখন সন্ন্যাসী ভাল্লুকটিকে বশ করেন এবং তার ভাল্লুকের পিঠে চড়ে (বিয়ারব্যাক) গন্তব্যে পৌঁছান।
আন্দ্রেয়া পাপি ও জেজে৪
আরও পড়ুন: খার্তুমে থমথমে পরিস্থিতি, আকাশে উড়ছে ফাইটার
কিন্তু ১৭ শতক থেকে শিকারের ফলে ইতালিতে বাদামী ভাল্লুকের সংখ্যা অনেক কমে যায়। শহরের গভর্নররা পশুদের হত্যার জন্য অর্থও দান করতেন। ১৯৯৮ সাল নাগাদ ট্রেন্টিনোতে মাত্র চারটি বন্য ভাল্লুক ছিল।
ভাল্লুকগুলো বিলুপ্তির পথে থাকায়, স্লোভেনিয়া থেকে নয়টি ভাল্লুককে ট্রেন্টিনোতে আনা হয়েছিল। যারমধ্যে তিনটি পুরুষ এবং ছয়টি মহিলা। পড়ে ২০০০ সালের গোড়ার দিকে এ অঞ্চলে প্রথম ভাল্লুক শাবকের জন্ম হয়েছিল। ওই এলাকায় এখন প্রায় একশটি ভাল্লুক রয়েছে।
ডব্লিউডব্লিউএফ বলেছে যে, গত ২০ বছরে ইতালিতে ভাল্লুক দ্বারা সাতজন আক্রান্ত হয়েছেন, তবে এটিই প্রথম মারাত্মক আক্রমণ।
একাত্তর/আরবিএস