এক কিশোর ভুল করে অন্য বাড়ির ডোরবেল বাজিয়েছিলো। এরপর যা ঘটলো সেটি সে কখনও কল্পনাও করতে পারেনি। ৮৪ বছরের এক বৃদ্ধ বন্দুক হাতে বেরিয়ে এলেন। কোন কথা না বলে সোজা কিশোরের মাথা ও হাতে গুলি করে দিলেন। ভাগ্যক্রমে কিশোরটির জীবন বেঁচে গেছে।
আমেরিকার মিসৌরি রাজ্যের এই অমানবিক ঘটনা দেশটিতে আবারও বর্ণবিদ্বেষ বিতর্ক উসকে দিয়েছে। কারণ কিশোরটি কৃষ্ণাঙ্গ, আর হামলাকারি শ্বেতাঙ্গে। যদিও ঘটনায় দায়ের করা মামলার নালিশে কোথাও বর্ণবিদ্বেষের অভিযোগ আনা হয়নি।
১৫ বছর বয়সি এক কিশোরকে গুলি করার অভিযোগ ৮৫ বছর শ্বেতাঙ্গ বৃদ্ধকে গ্রেফতার করা হয়েছে। ভুলবশত ওই বৃদ্ধের বাড়িতে নিজের ভাইদের খুঁজতে গিয়েছিল ওই কৃষ্ণাঙ্গ কিশোরটি। সেই ‘অপরাধে’ দু’বার গুলি চালান ওই বৃদ্ধ।
এরিমধ্যে আমেরিকার কানসাস শহরের এই ঘটনার প্রতিবাদে শামিল হয়েছেন জনতা। এছাড়া আরও কয়েকটি শহর থেকে ক্ষোভের খবর এসেছে। যদিও মিসৌরির পুলিশ বারবার দাবি করছে, কিশোরকে গুলির সঙ্গে বর্ণবিদ্বেষের কোন সম্পর্ক নেই।
পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, আহত যুবকের নাম র্যালফ ইয়ার্ল। ১৫ বছর বয়সি এই কিশোর তার স্কুলে অত্যন্ত সম্ভাবনাময় সংগীতশিল্পী হিসাবে পরিচিত। কয়েকদিন আগেই যমজ ভাইকে খুঁজতে এক বৃদ্ধের বাড়িতে উপস্থিত হয়। কিন্তু দরজায় কড়া নাড়ার সঙ্গে সঙ্গেই তাকে লক্ষ্য করে গুলি চালান অ্যান্ড্রু লেস্টার নামে এক বৃদ্ধ। র্যালফের হাতে গুলি লাগে।
আরও পড়ুন: ল্যাভরভের লাতিন আমেরিকা সফর শুরু, ব্রাজিলে লুলার সাথে বৈঠক
এই ঘটনায় অভিযোগ দায়ের করে র্যালফের পরিবার। লেস্টারকে গ্রেপ্তার করে খুনের চেষ্টার অভিযোগ আনার আবেদন করেছেন পরিবারের আইনজীবী।
তবে প্রশাসনের তরফে এই ঘটনা নিয়ে বিস্তারিত কিছুই জানা যায়নি। শুধু বলা হয়েছে, এই ঘটনার নেপথ্যে অবশ্যই জাতিবিদ্বেষ রয়েছে। একবার গ্রেপ্তার করেও অভিযুক্ত লেস্টারকে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে বলেই খবর। যদিও এই ঘটনার তদন্ত চলবে।
অন্যদিকে, আহত র্যালফকে চিকিৎসার পর হাসপাতাল থেকে ছেড়ে দেয়া হয়েছে। এ ঘটনার পর দু’দিন কানসাসের পথে নেমে বিক্ষোভ দেখিয়েছেন সাধারণ মানুষ। অভিযুক্ত লেস্টারের বাড়ির সামনে দাঁড়িয়ে পোস্টার হাতে প্রতিবাদ করেন অনেকে।
গুলি চালানোর ঘটনা নিয়ে টুইট করেন আমেরিকার ভাইস প্রেসিডেন্ট কমলা হ্যারিস। তিনি বলেন, শুধুমাত্র ভুল দরজায় কলিং বেল বাজালেই গুলি খেতে হবে, কোনও শিশুকে যেন এই পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে বেড়ে উঠতে না হয়।
একাত্তর/এসজে