খার্তুম থেকে কূটনীতিকদের সরিয়ে নিলো যুক্তরাষ্ট্র

সুদানের যুদ্ধবিধ্বস্ত রাজধানী খার্তুম থেকে নিরাপত্তার স্বার্থে মার্কিন দূতাবাসের কর্মী (কূটনীতিক) ও তাদের পরিবারের সদস্যদের সরিয়ে নেয়া হয়েছে।

মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন বলেছেন, সুদানের সেনাবাহিনী এবং আধাসামরিক র‌্যাপিড সাপোর্ট ফোর্সেসের (আরএসএফ) মধ্যকার লড়াই দ্বিতীয় সপ্তাহে প্রবেশ করেছে এবং এরইমধ্যে শতাধিক নিহত ও কয়েক হাজার লোক আহত হয়েছে। 

এক বিবৃতিতে বাইডেন বলেন, আমার নির্দেশে, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনী খার্তুম থেকে মার্কিন সরকারের কর্মীদের বের করার জন্য একটি অভিযান পরিচালনা করেছে।

সুদানের আধাসামরিক বাহিনী আরএসএফ জানায়, মার্কিন সামরিক মিশনের সাথে সমন্বয় করে মার্কিন কূটনীতিক এবং তাদের পরিবারকে সুদান থেকে সরিয়ে নেয়া হয়েছে।

আরএসএফ এক টুইট বার্তায় জানায়, র‌্যাপিড সাপোর্ট ফোর্সেস কমান্ড রোববার সকালে মার্কিন কূটনীতিক এবং তাদের পরিবারকে সরিয়ে নেওয়ার জন্য ছয়টি বিমান সমন্বিত ইউএস ফোর্সেস মিশনের সাথে সমন্বয় করেছে। 

এদিন মার্কিন দূতাবাসের কর্মীদের ইথিওপিয়ার একটি অজ্ঞাত স্থানে বিমানে করে নিয়ে যাওয়া হয়েছে, মিশনটির সাথে জড়িতে দুই মার্কিন কর্মকর্তা অ্যাসোসিয়েটেড প্রেস নিউজ এজেন্সিকে এ তথ্য জানিয়েছেন। 

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, এখন পর্যন্ত প্রায় ৭০ জন মার্কিন নাগরিককে সুদান থেকে সরিয়ে নেয়া হয়েছে।

এদিকে দূতাবাসের কর্মীদের চলে যাওয়ার সাথে সাথে, ওয়াশিংটন খার্তুমে মার্কিন মিশন অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ করে দিয়েছে। 

মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী অ্যান্টনি ব্লিঙ্কেন এক টুইট বার্তায় বলেছেন, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র সুদানে "আমেরিকানদের নিজেদের নিরাপত্তার জন্য পরিকল্পনা করতে সহায়তা করতে থাকবে" এবং "সুদানি জাতির আরও ক্ষতি রোধ করতে" যুদ্ধবিরতির জন্য চাপ দেবে।

সুদান থেকে বেসামরিক নাগরিকদের সরিয়ে নেওয়ার প্রথম ঘোষণায় শনিবার বিভিন্ন দেশের ১৫০ জনেরও বেশি মানুষ সৌদি আরবের পৌঁছেছে।

সৌদি আরবের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় শনিবার কুয়েত, কাতার, সংযুক্ত আরব আমিরাত, মিশর, তিউনিসিয়া, পাকিস্তান, ভারত, বুলগেরিয়া, বাংলাদেশ, ফিলিপাইন, কানাডা এবং বুরকিনা ফাসোসহ একাধিক দেশের ৯১ জন নাগরিকের "নিরাপদ আগমন" নিশ্চিত করেছে।

এর আগে সুদানের সেনাপ্রধান আবদেল ফাত্তাহ আল-বুরহান এবং তার ডেপুটি মোহাম্মদ হামদান দাগালো, যিনি আরএসএফ-এর নেতৃত্ব দেন, তাদের মধ্যে ক্ষমতার লড়াইয়ের পর শনিবার (১৫ এপ্রিল) এ সহিংসতার সূত্রপাত হয়।

আরও পড়ুন: ঝড়ের পূর্বাভাস, ২০ অঞ্চলের নদীবন্দরে সতর্কতা

২০২১ সালের অক্টোবরে একটি অভ্যুত্থানের পর থেকে সুদান পরিচালনা করছেন সামরিক জেনারেলরা। ডি ফ্যাক্টো নেতা জেনারেল আবদেল ফাত্তাহ আল-বুরহানের অনুগত সেনা ইউনিট এবং সুদানের ডেপুটি লিডার মোহাম্মদ হামদান দাগালোর নেতৃত্বে হেমেদতি নামে পরিচিত আরএসএফ-এর মধ্যে পরিচালিত হচ্ছে।

জেনারেল দাগালো বলেছেন, সমস্ত সেনা ঘাঁটি দখল না করা পর্যন্ত তার সৈন্যরা লড়াই চালিয়ে যাবে।

প্রতিক্রিয়ায় সুদানের সশস্ত্র বাহিনী ‘আধাসামরিক আরএসএফ বিলুপ্ত না হওয়া পর্যন্ত’ আলোচনায় বসতে অস্বীকৃতি জানিয়েছে। 


একাত্তর/আরবিএস