সার্ব বিক্ষোভকারীদের সঙ্গে সংঘর্ষে ন্যাটোর ৩৪ সেনা আহত

দক্ষিণ-পূর্ব ইউরোপের বালকান অঞ্চলের দেশ কসোভোতে সার্ব বিক্ষোভকারীদের সাথে সংঘর্ষে ন্যাটোর শান্তিরক্ষা মিশনের অন্তত ৩৪ জন সেনা আহত হয়েছে।

বার্তা সংস্থা রয়টার্স ও সিএনএন জানিয়েছে, সংঘর্ষের ঘটনার পরপরই সার্বিয়ার প্রেসিডেন্ট আলেক্সান্ডার ভুচিক সেনাবাহিনীকে সর্বোচ্চ যুদ্ধ সতর্কাবস্থায় থাকার নির্দেশ দিয়েছেন। 

ন্যাটোর কসোভো ফোর্স (কেএফওআর) সোমবারের এ সহিংসতার নিন্দা জানিয়েছে।

এক বিবৃতিতে বলা হয়েছে, বিক্ষোভকারীদের মধ্যে সবচেয়ে সহিংস অংশকে সামলানোর সময় কেএফওআর বহরে থাকা ইতালি ও হাঙ্গেরির একাধিক সেনা বিনা উসকানিতে আক্রমণের শিকার হয়েছে। এসময় সংঘর্ষে আহত হওয়ার পাশপাশি তারা দাহ্য পদার্থের বিস্ফোরণে দগ্ধ হয়েছে। 

হাঙ্গেরির প্রতিরক্ষা মন্ত্রী ক্রিস্টফ সজালে-বব্রোভনিস্কি বলেছেন, সাত হাঙ্গেরিয়ান সেনা গুরুতর আহত হয়েছে এবং তাদের চিকিৎসার জন্য হাঙ্গেরিতে নিয়ে যাওয়া হবে।

তিনি আরও জানান, সংঘর্ষে ইতালীয় সেনাদের পাশাপাশি আরও ২০ সেনা আহত হয়েছে। 


ইতালির প্রধানমন্ত্রী জর্জিয়া মেলোনি এক বিবৃতিতে বলেছেন, যা ঘটছে তা একেবারেই অগ্রহণযোগ্য এবং দায়িত্বজ্ঞানহীন। কসোভো কর্তৃপক্ষের দিক থেকে একতরফা সিদ্ধান্ত এড়ানো খুবই গুরুত্বপূর্ণ এবং সব পক্ষের উচিত পিছু হটে উত্তেজনা প্রশমিত করা।  

সার্বিয়ার প্রেসিডেন্ট আলেকসান্ডার ভুচিক বলেছেন, ৫২ জন সার্ব আহত হয়েছে, যাদের মধ্যে তিন জনের অবস্থা গুরুতর।

কসোভোর প্রেসিডেন্ট ভজোসা ওসমানি কসোভোকে অস্থিতিশীল করার জন্য সার্বিয়ান প্রতিপক্ষ আলেকসান্ডার ভুচিককে অভিযুক্ত করেছেন।

ওসমানি এক টুইট বার্তায় বলেন, সার্বদের অবৈধ সংগঠনগুলো অপরাধীদের সংগঠনে পরিণত হয়েছে। তারা কসোভো পুলিশ, কেএফওআর (শান্তি রক্ষাকারী) কর্মকর্তা ও সাংবাদিকদের ওপর আক্রমণ করেছে। যারা কসোভোর উত্তরাঞ্চলকে অস্থিতিশীল করার জন্য ভুচিকের নির্দেশ পালন করছে, তাদের অবশ্যই বিচারের মুখোমুখি হতে হবে। 

অন্যদিকে ভুচিক কসোভোর প্রধানমন্ত্রী আলবিন কুর্তিকে উত্তেজনা সৃষ্টির জন্য অভিযুক্ত করেছেন। পাশপাশি ন্যাটো সৈন্যদের সঙ্গে সংঘর্ষ এড়াতে তিনি কসোভোতে সার্বদের আহ্বান জানিয়েছেন।


গত সপ্তাহে জাতিগতভাবে আলবেনীয় মেয়ররা উত্তর কসোভোর দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকেই ওই অঞ্চলে উত্তেজনা বেড়েছে। শুক্রবার চারটি শহরের তিনটিতে আলবেনীয় মেয়ররা পুলিশ পাহারায় তাদের কার্যালয়ে যান। এসময় সেখানে বিক্ষোভ দেখায় সার্বরা। 

ওই মেয়ররা যে নির্বাচনে জিতেছিলেন, সে নির্বাচন বয়কট করেছিল সার্বরা। ফলে আলবেনীয় মেয়রদের চায় না তারা। 

এদিন জেভেকানে সার্ব বিক্ষোভকারীরা ন্যাটো সৈন্যদের লক্ষ্য করে কাঁদুনে গ্যাস ও স্টান গ্রেনেড নিক্ষেপ করে। এসময় বিক্ষোভকারীরা ন্যাটোর অনেক গাড়িতে স্প্রে দিয়ে ‘জেড’ লিখে দেয়, যা ইউক্রেন যুদ্ধে রাশিয়ার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ প্রতীক।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছেন, ন্যাটো শান্তিরক্ষীরা ক্ষুব্ধ সার্বদের হাত থেকে জুবিন পোটোক শহরের টাউন হলকে রক্ষায় চারপাশের এলাকা ঘিরে রেখেছে। 


এদিকে সার্বিয়ার প্রতিরক্ষামন্ত্রী জানান, সশস্ত্র বাহিনীর সর্বাধিনায়ক প্রেসিডেন্ট ভুচিক সেনাবাহিনীকে সর্বোচ্চ যুদ্ধ প্রস্তুতিতে থাকার নির্দেশ দিয়েছেন।

কসোভোয় সার্বদের সবচেয়ে বড় দল সার্ব লিস্টের উপপ্রধান ইগর সিমিচ উত্তরাঞ্চলে ঘটনার দায় কসোভোর প্রধানমন্ত্রী কুর্তিকে দিয়েছেন।

সিমিচ বলেন, আমরা শান্তি চাই। ওইসব এলাকায় যে আলবেনীয়রা থাকেন, তারাও শান্তি চান। কেবল কুর্তিই চান অরাজকতা তৈরি হোক। 

আরও পড়ুন: দাবানলে পুড়ছে কানাডার পূর্বাঞ্চল, ঘর ছাড়লো হাজারো মানুষ

উল্লেখ্য, কসোভো ইউরোপের বলকান অঞ্চলের একটি রাষ্ট্র, যা পূর্বে সার্বিয়ার একটি প্রদেশ ছিলো। প্রদেশটি ১৯৯৯ সাল থেকে জাতিসংঘ প্রশাসনের তত্ত্বাবধানে রয়েছে। যদিও আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় প্রদেশটির ওপর সার্বিয়ার সার্বভৌমত্বের স্বীকৃতি দিয়েছে, কার্যত এটির ওপর সার্বীয় শাসনের প্রয়োগ নগণ্য। ২০০৮ সালের ফেব্রুয়ারি মাসে কসোভোকে স্বাধীন ঘোষণা করা হয়। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্যসহ বেশ কিছু দেশ কসোভোকে রাষ্ট্র হিসাবে স্বীকৃতি দিয়েছে।

কসোভোর উত্তরে সংখ্যাগরিষ্ঠ সার্বরা ২০০৮ সালে অঞ্চলটির সার্বিয়া থেকে বিচ্ছিন্ন হওয়াকে কখনোই মেনে নেয়নি। তারা এখনও বেলগ্রেডকেই তাদের রাজধানী মনে করে।


একাত্তর/আরবিএস