রাশিয়ার বিরুদ্ধে ইউক্রেনের পাল্টা হামলায় সহযোগিতা করতে জাপানের কাছে ১৫৫ মিলিমিটার কামানের গোলার জন্য ট্রাই-নাইট্রো টলুইন (টিএনটি) বিস্ফোরক চাইছে বাইডেন প্রশাসন।
শুক্রবার বিষয়টি সম্পর্কে অবগত দুই ব্যক্তির বরাতে এমন তথ্য জানিয়েছে বার্তা সংস্থা রয়টার্স। খবর: রয়টার্স।
তবে বিস্ফোরকসহ সামরিক ক্ষেত্রে ব্যবহৃত পণ্য রপ্তানিতে জাপানে নিষেধাজ্ঞা রয়েছে। প্রাণঘাতী সরঞ্জাম, কামানের গোলাসহ যেকোনো অস্ত্র রপ্তানিতেও রয়েছে আইনি নিষেধাজ্ঞা। মূলত দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর এমন পদক্ষেপ নিয়েছে জাপান। এই নিষেধাজ্ঞা অনুযায়ী ওয়াশিংটনকে বিস্ফোরক দিতে পারবে না টোকিও।
ইউক্রেনের পাল্টা হামলায় সহযোগিতার জন্য নানা ধরণের অস্ত্র ও গোলাবারুদ সরবরাহ করছে যুক্তরাষ্ট্র। এর মধ্যে হাউইটজার কামানের গোলা অন্যতম যা প্রায় প্রতিদিনই রুশ দখলকৃত দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলে নিক্ষেপ করে ইউক্রেন।
বিষয়টি নিয়ে চলমান আলোচনা সম্পর্কে অবগত এক ব্যক্তি জানান, জাপানের কাছ থেকে বিস্ফোরক কেনার একটি পথ রয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের। শুধু সামরিক ক্ষেত্রে ব্যবহৃত না হওয়া সরঞ্জামের ক্ষেত্রে নিষেধাজ্ঞা তেমন কঠোর নয়। নিয়মের এই ফাঁকের মাধ্যমেই সামরিক বাহিনীর ব্যবহারের জন্য জাপান থেকে প্যানাসনিক ল্যাপটপ কেনে যুক্তরাষ্ট্র।
এদিকে মার্কিন সরকারকে টোকিও বলছে, টিএনটির ওপর নিষেধাজ্ঞা শিথিল করবে দেশটি। কেননা বিস্ফোরকটির সামরিক ব্যবহার ছাড়াও বিভিন্ন ক্ষেত্রে ব্যবহার রয়েছে। মার্কিন টিএনটি সরবরাহ চেইনেও জাপানি একটি কোম্পানিকে চাইছে যুক্তরাষ্ট্র। সে বিষয়ে ব্যবস্থা নেয়ার কোনো সুনির্দিষ্ট আশ্বাস অবশ্য দেয়নি টোকিও।
জাপানি কোনও কোম্পানি সে চেইনে যুক্ত হবে কি না, তা নিয়ে কিছু জানায়নি টোকিওর অর্থনীতি, শিল্প ও বাণিজ্য মন্ত্রণালয়। জাপানের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় এ বিষয়ে মন্তব্য করতে অস্বীকৃতি জানিয়েছে। মার্কিন প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ও বিষয়টি নিয়ে সরাসরি কিছু জানায়নি।
আরও পড়ুন: ইউক্রেনকে সদস্য করতে ন্যাটোর সব সদস্য সম্মত
এর আগে, গত এপ্রিলে দক্ষিণ কোরিয়ার কাছে ১৫৫এমএম কামানের গোলা চেয়েছিলো ওয়াশিংটন। সেসময় বিক্রির বদলে যুক্তরাষ্ট্রকে পাঁচ লাখ ১৫৫এমএম কামানের গোলা ধার দিতে একটি সমঝোতায় পৌঁছে দক্ষিণ কোরিয়া।
একাত্তর/জো