টাইটান নিখোঁজ শুনেই বুঝেছিলাম কী ঘটেছে: জেমস ক্যামেরন

পাঁচদিন আগে সমুদ্রের গভীরে নিখোঁজ হওয়া ডুবোজাহাজ টাইটানের পরিণতি সম্পর্কে এরইমধ্যে নিশ্চিত হয়ে গেছে সবাই। অতল সমুদ্রে পানির চাপ সহ্য করতে না পেরে অল্প কিছুক্ষণের মধ্যেই বিস্ফোরিত হয়েছে সেটি। 

যেই টাইটানিকের ধ্বংসাবশেষ দেখতে এই দুঃসাহসী অভিযানে নেমেছিলেন টাইটানের পাঁচ আরোহী, সেটি নিয়ে অস্কারজয়ী সিনেমা বানানো পরিচালক জেমস ক্যামেরন জানিয়েছেন, টাইটানের তৈরিকারী প্রতিষ্ঠান ওশানগেটকে সতর্ক করা হয়েছিলো অনেক আগেই। 

ক্যামেরন বলেন, টাইটানের নিখোঁজ হওয়ার খবর শুনেই তিনি হাড়েহাড়ে টের পেয়েছিলেন, খুব খারাপ কিছু একটা হয়েছে এর সাথে। 

রোববার যখন টাইটান নিখোঁজ হয়, তখন ক্যামেরন ছিলেন একটি জাহাজে। নিখোঁজ খবর তিনি জানতে পারেন পরদিন। 

যখন তিনি জানতে পারেন যে সাবটি একই সময়ে তার ন্যাভিগেশন এবং যোগাযোগ উভয়ই হারিয়ে ফেলেছে, তখন তিনি অবিলম্বে একটি বিপর্যয়ের কথা সন্দেহ করেন।

‘আমি আমার হাড়ের মধ্যে অনুভব করছিলাম কি ঘটেছে। সাবের ইলেকট্রনিক্স, যোগাযোগ ব্যবস্থা এবং এর ট্র্যাকিং ট্রান্সপন্ডার একইসাথে ব্যর্থ হওয়ার অর্থ, সেটি আর নেই’। 

ক্যামেরন মোট ৩৩ বার টাইটানিকের ধ্বংসাবশেষের কাছে গিয়েছেন। 

তিনি বলেন, ‘আমি অবিলম্বে গভীর ডুবোযানের সাথে সম্পর্কিত লোকজনকে ফোন করি। প্রায় এক ঘণ্টার মধ্যে আমি যেসব তথ্য পাই তা হলো- তারা নিচের দিকে যাচ্ছিল। ৩৫০০ মিটার গভীরতায় থেকে তারা ৩৮০০ মিটারের দিকে এগিয়ে যাচ্ছিলো’। 

‘অত্যন্ত শক্তিশালী বিপর্যয়মূলক ঘটনা ছাড়া যোগাযোগ এবং ন্যাভিগেশন একসাথে হারাতে পারেনা। এবং প্রথম যে জিনিসটি আমার মনে আসে তা হলো অভ্যন্তরীণ বিস্ফোরণ’। 

বৃহস্পতিবার মার্কিন নৌবাহিনীর একজন কর্মকর্তা বলেন, টাইটানের সাথে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হওয়ার কিছুক্ষণ পরেই নৌবাহিনী ‘বিস্ফোরণের সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ আওয়াজের অসঙ্গতি’ সনাক্ত করেছে।

ক্যামেরন আরও বলেন, টাইটানের এই পরিণতির সঙ্গে ১৯১২ সালে টাইটানিকের ডুবে যাওয়ার মিল রয়েছে।

‘আমাদের হাতে এখন আরেকটি ধ্বংসাবশেষ রয়েছে, যা দুর্ভাগ্যবশত সতর্কতা না মেনে চলার কারণে হয়েছে। ওশানগেটকে সতর্ক করা হয়েছিল।’

আরও পড়ুন: বিস্ফোরণে খান খান টাইটান, বেঁচে নেই কেউ

কোম্পানিটিতে কাজ করা অনেকেই পদত্যাগ করেছিলেন বলে জানালেও, এর কারণ উল্লেখ করেননি তিনি। 

তিনি বলেন, ডুবোযান নিয়ে কাজ করা অনেকেই ওশানগেটকে একটি চিঠি লিখেছিলেন, যেখানে তারা বলেছিলেন যে ‘ওশানগেট বিপর্যয়ের পথে যাচ্ছে’।


একাত্তর/এসজে