আটলান্টিক মহাসাগরে টাইটানিকের ধ্বংসাবশেষ দেখতে গিয়ে নিখোঁজ সাবমেরিন টাইটান বিস্ফোরণে খা খান হয়েছে। এতে থাকা থাকা পাঁচ আরোহীর কেউই আর জীবিত নেই।
বৃহস্পতিবার এক সংবাদ সম্মেলনে এই খবর জানিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের কোস্ট গার্ডের কর্মকর্তা রিয়ার অ্যাডমিরাল জন মাগার। সাবমেরিন পরিচালনাকারী সংস্থা ওশেনগেট থেকেও খবরটি নিশ্চিত করা হয়েছে।
ধারণা করা হচ্ছে, পানির প্রচণ্ড চাপে ডুবোযানটি বিধ্বস্ত হয়। বৃহস্পতিবার টাইটানিকের কাছে ছোট আকারের কিছু ধ্বংসাবশেষ আবিষ্কার করে উদ্ধারকারী দল। তখনই অনেকটা নিশ্চিত হওয়া যায় যে টাইটান এবং ভেতরে থাকা পাঁচজনের পরিণতি।

টাইটান ধ্বংসের কারণ স্পষ্ট করতে না পারলেও অ্যাডমিরাল জন মাগার ধারণা করছেন, ভয়ঙ্কর অন্তর্মুখী বিস্ফোরণে ভেঙে টুকরো টুকরো হয়ে গেছে।
অত্যন্ত দুঃখের সঙ্গে তিনি বলেন, ‘ওই পাঁচজনের লাশ হয়ত কখনো পাওয়া যাবে না। কারণ সেখানকার পরিবেশ অবিশ্বাস্য রকমের প্রতিকূল।
ওই পাঁচ আরোহী ‘হারিয়েই গেছেন’ বলে ওশেনগেটের এক বিবৃতিতে জানানো হয়েছে।
পাঁচ আরোহী নিয়ে কানাডা থেকে গত রোববার সাবমারসিবল ডুবোযান টাইটান উপকূলীয় আটলান্টিক মহাসাগরের তলদেশে যায়। ১৯১২ সালে আটলান্টিক মহাসাগরে ডুবে যাওয়া পর্যটক জাহাজ টাইটানিকের ধ্বংসাবশেষ দেখতে সাবমেরিনে উঠেছিলেন পাঁচ পর্যটক।

যাত্রা শুরুর পৌনে দুই ঘণ্টার মাথায় সাবমেরিনটির সঙ্গে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। নিখোঁজ সাবমেরিনের খোঁজে এরপর থেকেই ব্যাপক তল্লাশি চালানো হচ্ছে। ওশেনগেট জানিয়েছেন, সাবমেরিনটিতে সংরক্ষিত অক্সিজেন বৃহস্পতিবার সকালের মধ্যে শেষ হয়ে যাওয়ার কথা।
তাই টাইটানে থাকা যাত্রীদের বেঁচে থাকার কোনো সম্ভাবনাই দেখছেন না উদ্ধারকারী দলের সদস্যরা। বৃহস্পতিবার সকালে টাইটানের খোঁজে একটি রিমোটলি অপারেটেড ভেহিকেল বা আরওভি আটলান্টিকের তলদেশে পৌঁছায়। আরওভির পাঠানো তথ্য বিশ্লেষণ করার সংবাদ সম্মেলনে আসেন যুক্তরাষ্ট্রের কোস্ট গার্ডের কর্মকর্তা রিয়ার অ্যাডমিরাল জন মাগার।
তিনি জানান, টাইটানিকের ধ্বংসাবশেষ থেকে প্রায় ১৬০০ ফুট দূরে টাইটানের ধ্বংসস্তূপ খুঁজে পাওয়া গেছে সেটি।

টাইটানে গভীর আটলান্টিক ভ্রমণে যাওয়া পাঁচ পর্যটকের মধ্যে রয়েছেন- সাবমেরিন পরিচালনাকারী সংস্থা ওশেনগেটের সহপ্রতিষ্ঠাতা ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা স্টকটন রাশ, ব্রিটিশ ধনকুবের ও বিমান সংস্থা অ্যাকশন এভিয়েশনের চেয়ারম্যান হামিশ হার্ডিং, পাকিস্তানের এংরো করপোরেশনের ভাইস চেয়ারম্যান শাহজাদা দাউদ, তার ছেলে সুলেমান দাউদ এবং ফরাসি পর্যটক পল অঁরি নারজিলে।
একাত্তর/আরবি
