বলা নেই কয়া নেই, সরাসরি রাশিয়ার ক্ষমতার কেন্দ্র ক্রেমলিনের বিরুদ্ধে বিদ্রোহ ঘোষণা। শুধু কি তাই, পুতিনকে দেখে নেয়ার হুংকার দিয়ে মস্কোর অভিমুখে সমর যাত্রা! মুহূর্তে দুনিয়ার চোখে নিজের দিকে নিয়ে নেন ভাড়াটে সেনা দল ওয়াহনার গ্রুপের প্রধান ইয়েভগেনি প্রিগোজিন।
এরপর আরও অবাক করে পিছুটান। অতঃপর রাশিয়া থেকে পলায়ন। গেলো দুই তিন ধরে রাশান এই অলিগার্চের নামই ঘুরে ফিরে এসেছে সংবাদে শিরোনামে। তবে গেলো ২৪ ঘণ্টায় প্রিগোজিন নাম কোথাও উচ্চারিত হয়নি। উল্টো প্রশ্ন, এখন কোথায় কেমন আছেন এই রুশ ব্যবসায়ী।
ইয়েভগেনি প্রিগোজিনকে সবশেষ একটি গাড়িতে করে দক্ষিণ রাশিয়ার রোস্তভ-অন-ডন শহর ত্যাগ করতে দেখা যায়। এ সময় তাকে বেশ হাসিখুশি দেখা যায়। স্থানীয় বাসিন্দাদের উদ্দেশে হাত নাড়ছিলেন তিনি। এরপর থেকেই তিনি একেবারেই লাপাত্তা।
রুশ সামরিক নেতৃত্ব উৎখাতে ইউক্রেন থেকে মস্কোর দিকে অভিযান শুরু করেন প্রিগোজিন। পথে বেশ কয়েকটি শহর দখলে নেয় ওয়াগনার গ্রুপের যোদ্ধারা। পরে বেলারুশের প্রেসিডেন্ট আলেক্সান্দার লুকাশেঙ্কোর মধ্যস্থতায় শনিবার রাতে অভিযান বন্ধের ঘোষণা দেন তিনি।
ক্রেমলিনের সঙ্গে সমঝোতা অনুযায়ী প্রিগোজিনের পরবর্তী গন্তব্য বেলারুশ। তবে, ইউক্রেন যুদ্ধের কারণে, রাশিয়ার দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলে বিমান উড্ডয়ন নিষিদ্ধ। এর অর্থ রোস্তভের সবচেয়ে কাছের বিমানবন্দরগুলো রয়েছে রাশিয়ার ভলগোগ্রাদ ও সোচি শহরে।
তবে দুটি বিমানবন্দরই রোস্তভ থেকে ৪০০ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত। এই ক্ষেত্রে প্রিগোজিনকে হয়তো গাড়ি বা ট্রেনে করে বেলারুশে যেতে হতে পারে। সেজন্য তাকে দীর্ঘ পথ পাড়ি দিতে হবে। আর সংশ্লিষ্ট সূত্রের ধারণা, ট্রেনে বা পাড়িতে চেপেই রাশিয়ার সীমান্ত পাড়ি দেবেন তিনি।
এদিকে, রাশিয়ার সংবাদমধ্যমগুলো জানিয়েছে, ভাড়াটে সেনাদল ওয়াগনার গ্রুপের প্রধান নেতা ইয়েভজেনি প্রিগোজিন রুশ সরকারের বিরুদ্ধে সশস্ত্র বিদ্রোহের ফলে ফেডারেল সিকিউরিটি সার্ভিস (এফএসবি) দ্বারা তদন্তের মুখে রয়েছে। এরিমধ্যে তদন্ত শুরুও হয়েছে।
আরও পড়ুন: লাগামহীন কোকেন ও মেথের বাজার, জাতিসংঘের সতর্কতা
ফলে সহজেই ছাড় পাচ্ছেন না প্রিগোজিন। এদিকে ইউক্রেনে সামরিক অভিযানে জড়িত রাশিয়ান সৈন্যদের সাথে দেখা করেছেন রাশিয়ার প্রতিরক্ষা মন্ত্রী সের্গেই শোইগু। এ সপ্তাহের শুরুতে ওয়াগনার গ্রুপের বিদ্রোহের পর সৈন্যদের মাঝে এটা তার প্রথম প্রকাশ্য উপস্থিতি।
একাত্তর/আরএ