টাইটানকাণ্ডে ভাটা পড়েছে মালদ্বীপের সাবমেরিন পর্যটনে

টাইটানিকের ধ্বংসাবশেষ দেখতে যাওয়া ডুবোযান টাইটানের মর্মান্তিক দুর্ঘটনার পর বিশ্বজুড়ে সাবমেরিন পর্যটন ব্যবসায় খানিকটা ভাটা পড়েছে। যেসব দেশে এই পর্যটন ব্যবস্থা রয়েছে তাদের মধ্যে অন্যতম হলো মালদ্বীপ, যেখানে রয়েছে বিশ্বের সবচে বড় পর্যটন সাবমেরিন। 

দেশটিতে মাত্র ১০০ ডলারের বিনিমিয়ে সাবমেরিনে করে সাগরতলে বেড়িয়ে আসার সুযোগ রয়েছে। তবে লোকসানের মুখে পড়ে সেই টিকেটের দাম এখন সত্তর-আশি ডলারে নেমে এসেছে। তারপরও টাইটান ট্র্যাজেডির পর পর্যটক টানতে পারছে না তারা। 

মালদ্বীপের রাজধানী মালে থেকে বিশ্বের সবচেয়ে পর্যটক সাবমেরিন হোয়েলে চড়ে যেতে হয় মাঝসমুদ্রে, যেখানে করা হয়েছে সাবমেরিন জেটি। ছোট শিশু থেকে শুরু করে অশীতিপর বুড়ো, সবাই হতে পারে এর যাত্রী।

এই ডুবোজাহাজে একসাথে ৫০ জন পর্যটক প্রতিদিন দুই বেলা করে সাগরের তলদেশে ঘুরে আসেন। এটি এই দেশটির পর্যটনের অন্যতম আকর্ষণ। তবে টাইটান দুর্ঘটনার পর সমুদ্রের তলদেশ দেতে আগ্রহীদের সংখ্যা কমার আশঙ্কা করা হচ্ছে। 


এই সাবমেরিনের যাত্রীদের হতে হবে মানসিকভাবে শক্ত। ডুবোজাহাজ যখন সমুদ্রের অতলে নামতে শুরু করবে তখন ভয় পেলে চলবে না। যাত্রা শুরুর সময়ই যাত্রীদের জানিয়ে দেয়া হয় জরুরী পরিস্থিতিতে করনীয় সম্পর্কে। 

নীল জলে ডুব দেয়ার সময় যাত্রীদের বুকে ধুকপুকানি যতই থাকুক না কেন, রংবেরঙের বিচিত্র চেহারার প্রাণী যখন চোখের সামনে ঘুরে বেড়ায়, তখন তাদের চোখে মুখে ফুটে ওঠে অপার বিস্ময়। ভয়-আনন্দ আর রোমাঞ্চের এক মিশ্র অনুভূতির দোলায় দোলেন পর্যটকরা। রং বেরংয়ের মাছের পাশাপাশি অক্টোপাস, লবস্টার, আর তলদেশে অনধিকার প্রবেশের ফলে রাগান্বিত মারাত্মক সি-ঈলসহ নাম না জানা প্রাণীদের দেখা মিলবে নীলঅতল এই যাত্রায়। 


সাবমেরিন হোয়েলের সিনিয়র পাইলট আমিরা বললেন, মালদ্বীপের পর্যটন শিল্পে এই সাবমেরিন যাত্রা এক অনন্য সংযোজন। এটি বিশ্বের সবচেয়ে বড় পর্যটক সাবমেরিন, যা সর্বোচ্চ ৫০ পর্যটককে নিয়ে সমুদ্রের ১৫০ ফুট গভীর পর্যন্ত চলে যায়। 

আরও পড়ুন: অশান্ত পাহাড় থেকে মুখ ফিরিয়ে নিয়েছে পর্যটক

ছোট পর্যটন সাবমেরিন টাইটানের দুর্ঘটনার পর, বড় সাবমেরিন হোয়েলে পানির নীচে ৪৫ মিনিটের রোমাঞ্চ যাত্রার ১০০ ডলারের টিকেটের দাম এখন ৭০-৮০ ডলারে বিকোচ্ছে। তবে মালদ্বীপের পর্যটন সংশ্লিষ্টরা বলছেন, এই ভাটা সাময়িক। 


একাত্তর/এসজে