সলোমন আইল্যান্ডস ঘিরে চীন-মার্কিন প্রতিযোগিতা বাড়ছে

প্রশান্ত মহাসাগরের ক্ষুদ্র দ্বীপ-রাষ্ট্র সলোমন আইল্যান্ডসকে ঘিরে প্রতিযোগিতা বাড়ছে চীন ও যুক্তরাষ্ট্রের। সম্প্রতি চীনের সঙ্গে দেশটির প্রতিরক্ষা এবং অর্থনৈতিক সম্পর্কের জোরদার প্রক্রিয়া দেখে ওয়াশিংটনও সেখানে তাদের দূতাবাস পুনরায় চালু করেছে।

রোববার সলোমন আইল্যান্ডসের প্রধানমন্ত্রী মানাসিহ সোগাভারে চীনের সঙ্গে একটি নিরাপত্তা চুক্তিতে সই করার পর পশ্চিমা দেশগুলো সন্দেহ করছে ক্ষুদ্র এই দ্বীপরাষ্ট্রকে ঋণের ফাঁদে ফেলে চীন সেখানে সামরিক ঘাঁটি গড়ে তুলতে চায়। খবর বিবিসির।

চীনের সঙ্গে সলোমন আইল্যান্ডস যে নিরাপত্তা চুক্তি করেছে তার অধীনে চীন ঐ দ্বীপরাষ্ট্রে তাদের দূতাবাসের নিরাপত্তা বাড়াতে নানা পদক্ষেপ নিতে পারবে। পশ্চিমা দেশগুলোর আশঙ্কা এর ফলে চীন প্রশান্ত মহাসাগরে তাদের প্রথম স্থায়ী সামরিক ঘাঁটি তৈরির সুযোগ পাবে।

সলোমন আইল্যান্ডসকে ঘিরে চীন এবং যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে এই প্রতিযোগিতার মধ্যে ওয়াশিংটনও সেখানে তাদের দূতাবাস আবার চালু করেছে। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় সলোমন আইল্যান্ডসের গুডালকানাল দ্বীপে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনীর ঘাঁটি ছিল।

তবে প্রধানমন্ত্রী মানাসিহ সোগাভারে বলছেন, যুক্তরাষ্ট্র এবং চীনের এই ক্রমবর্ধমান প্রতিদ্বন্দ্বিতার মধ্যে তারা নিরপেক্ষ থাকতে চান এবং নিজ দেশের উন্নয়নকেই তিনি অগ্রাধিকার দিচ্ছেন।

পশ্চিমা বিশ্লেষকরা বলছেন, নিরাপত্তা চুক্তি করার পর বেইজিংয়ে সোগাভারে বেশ উষ্ণ অভ্যর্থনা পাবেন। এই চুক্তি যুক্তরাষ্ট্র, অস্ট্রেলিয়া এবং নিকটবর্তী কিছু প্রতিবেশী দেশকে বেশ দুশ্চিন্তায় ফেলেছে।

সলোমন আইল্যান্ডসের অবস্থান প্রশান্ত মহাসাগরের এমন একটি জায়গায়, যা কৌশলগতভাবে বেশ গুরুত্বপূর্ণ। এই দ্বীপকে ঘিরে চীনের নৌবাহিনীর বড় কোন পরিকল্পনা আছে বলে সন্দেহ করে পশ্চিমা দেশগুলো।

চীনের সঙ্গে সলোমন আইল্যান্ডসের এই ক্রমবর্ধমান ঘনিষ্ঠতায় উদ্বিগ্ন হয়ে ওয়াশিংটন বেশ তাড়াহুড়ো করে গত মাসে পাপুয়া নিউগিনির সঙ্গে একটি প্রতিরক্ষা চুক্তি করে।

সলোমন আইল্যান্ডস ব্রিটেনের কাছ থেকে স্বাধীনতা পায় ৪৫ বছর আগে। গত শুক্রবার স্বাধীনতার ৪৫ তম বার্ষিকীতে প্রধানমন্ত্রী সোগাভারে তার ভাষণে বলেছেন, বড় দেশগুলো তার দেশে প্রভাব বিস্তারের জন্য প্রতিযোগিতায় নেমেছে, কিন্তু তিনি তার দেশের অবকাঠামো উন্নয়নের বিষয়টিকেই বেশি গুরুত্ব দিচ্ছেন।

আরও পড়ুন: ব্রিটেনের সাথে যুক্তরাষ্ট্রের সম্পর্ক 'রক-সলিড': বাইডেন

তিনি বলেন, আমরা নিরপেক্ষ থাকতে চাই, কারণ কোন দেশের পক্ষ নেয়া আমাদের দেশ বা জনগণের স্বার্থের জন্য ভালো হবে না। আমাদের জাতীয় স্বার্থ হচ্ছে আমাদের দেশের উন্নয়ন।


একাত্তর/আরএ