ইইউ-ন্যাটোকে যে শর্ত দিলেন এরদোয়ান

ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) সদস্য হতে চায় তুরস্ক। ২০০৫ সালে এ নিয়ে সংলাপ শুরু হলেও আঙ্কারার সদস্যপদ নিয়ে এখনও একমত হয়ে পারেনিন ইইউ নেতারা। এমন পরিস্থিতিতে ইইউ ও ন্যাটো সামরিক জোটকে বিশেষ শর্ত দিয়েছেন তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়েপ এরদোয়ান।  

লিথুয়ানিয়ার রাজধানী ভিলনিয়াসে ন্যাটো শীর্ষ সম্মেলনের আগমুহূর্তে এরদোয়ান বলেন, তুরস্ক সুইডেনের ন্যাটো প্রার্থিতাকে সমর্থন করবে, যদি ইউরোপীয় ইউনিয়ন আঙ্কারার সঙ্গে দীর্ঘদিন ধরে বন্ধ থাকা সদস্যপদ নিয়ে আবার আলোচনা শুরু করে।  

সোমবার দেশ ছাড়ার আগে তিনি সাংবাদিকদের বলেন, প্রথমে তুরস্কের ইইউ সদস্য হওয়ার দ্বার উন্মুক্ত করতে হবে, তারপর সুইডেনের ন্যাটোতে যোগদানের বিষয়ে এগোবে আঙ্কারা। 

রোববার মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনকেও ফোনে একই কথা বলেছেন বলে জানান তিনি। খবর আল জাজিরার। 


এরদোয়ান বলেন, তুরস্ক ৫০ বছর ধরে ইইউর দরজায় অপেক্ষা করছে।

তিনি আরও বলেন, ন্যাটোর প্রায় সব সদস্যই ইইউ সদস্য। আমি এখন এই দেশগুলোর কথা বলছি, যারা তুরস্ককে ৫০ বছরেরও বেশি সময় ধরে অপেক্ষা করতে বাধ্য করেছে। ভিলনিয়াসে আমি আবারও তাদের কথা বলবো।

প্রতিরক্ষা বিশ্লেষক প্যাট্রিক রুবি বলছেন, বাইডেনের নেতৃত্বাধীন ন্যাটো সামরিক জোটের অনেক সদস্য তুরস্কের ওপর চাপ বাড়াচ্ছে।

এ বিষয়ে হোয়াইট হাউস তুরস্ককে সমর্থন দিলেও মূলত ইইউ ব্লকের ২৭টি দেশই শেষ পর্যন্ত চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নিবে। 

হোয়াইট হাউস ন্যাশনাল সিকিউরিটি কাউন্সিলের একজন মুখপাত্র বলেছেন, আমাদের ফোকাস সুইডেনের দিকে, যেটি ন্যাটো জোটে যোগ দিতে প্রস্তুত।

আরও পড়ুন: ভারতে স্কুলবাস-জিপের মুখোমুখি সংঘর্ষ, শিশুসহ নিহত ছয়

অন্যদিকে ইউরোপীয় কমিশনের একজন মুখপাত্র বলেছেন, ন্যাটো এবং ইইউ সদস্যপদ "পৃথক বিষয়" যা "সংযুক্ত করা যাবে না"।

ইইউ সদস্য হওয়ার জন্য ১৯৮৭ সালে প্রথমবারের মতো আবেদন করেছিল তুরস্ক। ১৯৯৯ সালে ইইউ প্রার্থী হিসবে সমর্থনও পেয়েছিল দেশটি। ২০০৫ সালে আনুষ্ঠানিকভাবে জোটের সঙ্গে সদস্যপদ পাওয়ার ব্যাপারে আলোচনা শুরু করে আঙ্কারা। কিন্তু ২০১৬ সালে তুরস্কে ব্যর্থ অভ্যুত্থানের পর দেশটির মানবাধিকার পরিস্থিতি ও আইনের শাসনের অবনতির সমালোচনা করে সংলাপ স্থগিত করে ইইউ। 


একাত্তর/আরবিএস