সাগরে একাধিক ক্রুজ মিসাইল ছুঁড়ল উত্তর কোরিয়া

কোরীয় উপদ্বীপের পশ্চিমে সমুদ্রের দিকে বেশ কয়েকটি ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র ছুঁড়েছে উত্তর কোরিয়া। দক্ষিণ কোরিয়ার বন্দরে পারমাণবিক অস্ত্রধারী মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সাবমেরিনের আগমনের পর এটি ক্ষেপণাস্ত্র উৎক্ষেপণের দ্বিতীয় ঘটনা।

শনিবার স্থানীয় সময় ভোর ৪টায় উৎক্ষেপণগুলো শনাক্ত করা হয় বলে দক্ষিণ কোরিয়ার জয়েন্ট চিফস অফ স্টাফ (জেসিএস) জানিয়েছে। 

জেসিএসের বরাতে দক্ষিণ কোরিয়ার বার্তাসংস্থা ইয়োনহাপ জানায়, সামরিক বাহিনী মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সাথে ঘনিষ্ঠভাবে সহযোগিতা করে এবং দৃঢ় প্রস্তুতির ভঙ্গি বজায় রেখে নজরদারি ও সতর্কতা বৃদ্ধি করেছে।

বুধবার উত্তর কোরিয়া রাজধানী পিয়ংইয়ংয়ের কাছে একটি এলাকা থেকে দুটি স্বল্প-পাল্লার ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করে। কোরিয়ান উপদ্বীপের পূর্ব দিকে সাগরে অবতরণের আগে তারা প্রায় সাড়ে পাঁচ কিলোমিটার পথ অতিক্রম করে। 

এই ক্ষেপণাস্ত্রগুলোর গতিপথের দূরত্ব মোটামুটিভাবে পিয়ংইয়ং এবং দক্ষিণ কোরিয়ার বন্দর শহর বুসানের মধ্যে দূরত্বের সাথে মিলে যায়, যেখানে আশির দশকের পর প্রথমবার পারমাণবিক অস্ত্র-সজ্জিত মার্কিন সাবমেরিন ইউএসএস কেনটাকি সফর করে।

তবে শনিবার ক্ষেপণাস্ত্রগুলো যে দূরত্ব অতিক্রম করে তা জেসিএস তাৎক্ষণিকভাবে প্রকাশ করেনি।

প্রতিরক্ষা সহযোগিতা বাড়ানোর লক্ষ্যে উন্নত স্টেলথ জেটসহ যৌথ সামরিক মহড়া পরিচালনা করছে সিউল ও ওয়াশিংটন। 

উত্তর কোরিয়ার প্রতিরক্ষামন্ত্রী কাং সান-নাম বৃহস্পতিবার হুমকি দিয়ে বলেন, দক্ষিণ কোরিয়ায় কেন্টাকির ডকিং উত্তরের পারমাণবিক হামলার কারণ হতে পারে।

উত্তর কোরিয়ার সরকারী নামের সংক্ষিপ্ত রূপ ব্যবহার করে তিনি বলেন, ওহাইও শ্রেণির সাবমেরিনের মোতায়েন ‘পরমাণু শক্তি নীতিতে ডিপিআরকে আইনে নির্দিষ্ট পারমাণবিক অস্ত্র ব্যবহারের শর্তে’ পড়তে পারে।

আরও পড়ুন: ইসরাইলি বাহিনীর গুলিতে দুই ফিলিস্তিনি তরুণ নিহত

শুক্রবার দক্ষিণ কোরিয়ার প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় উত্তর কোরিয়ার হুমকি মোকাবেলায় কেনটাকি মোতায়েন এবং ওয়াশিংটন ও সিউলের মধ্যে পারমাণবিক জরুরি পরিকল্পনা বৈঠককে ‘প্রতিরক্ষামূলক প্রতিক্রিয়া ব্যবস্থা’ হিসাবে বর্ণনা করেছে।

তারা বলে, উত্তর কোরিয়ার দ্বারা পারমাণবিক অস্ত্রের যেকোনো ব্যবহার একটি ‘তাত্ক্ষণিক এবং সিদ্ধান্তমূলক প্রতিক্রিয়া’ ত্বরান্বিত করবে যার ফলে কিম জং উনের শাসনের ‘শেষ’ হবে।


একাত্তর/এসজে