ব্রিটেনে আবারও পরমাণু বোমা মোতায়েনের পরিকল্পনা করছে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র। গেলো ১৫ বছরের মধ্যে এই প্রথম এমন পরিকল্পনা বাস্তবায়নের পথে রয়েছে ওয়াশিংটন।
মার্কিন প্রতিরক্ষা সদর দপ্তর পেন্টাগনের বরাত দিয়ে শনিবার ব্রিটিশ দৈনিক টেলিগ্রাফ এ খবর জানিয়েছে।
ইউক্রেন যুদ্ধকে কেন্দ্র করে যখন রাশিয়া এবং উত্তর আটলান্টিক নিরাপত্তা জোট বা ন্যাটো সামরিক জোটের মধ্যে চরম উত্তেজনা বিরাজ করছে, ঠিক সেই সময় প্রকাশ্যে এলো এ খবর।
টেলিগ্রাফ জানিয়েছে, সাফোকের ল্যাকেনহেথের রয়্যাল এয়ারফোর্স স্টেশনে একটি নতুন স্থাপনার জন্য চুক্তি করেছে যুক্তরাষ্ট্র। যা ঘাঁটিতে পরমাণু অস্ত্র আনার বিষয়ে ওয়াশিংটনের পরিকল্পনার ইঙ্গিত বহন করে।
রয়াল এয়ারফোর্স ল্যাকেনহেথে বি৬১-১২ বোমা রাখবে বলে ধারণা করা হচ্ছে যা ১৯৪৫ সালে হিরোশিমায় ফেলা বোমাগুলোর চেয়ে তিনগুণ বেশি ধ্বংসাত্বক।
এদিকে রাশিয়ার সাথে যুদ্ধের জন্য পশ্চিমা দেশগুলোর বহু নেতা ন্যাটো জোটকে প্রস্তুত থাকার আহবান জানিয়েছেন। ইউরোপে একটি বড় যুদ্ধ আসন্ন এমনটাও বলছেন অনেকে।
গেলো সপ্তাহে অ্যাডমল রব বাউয়ার, একজন জ্যেষ্ঠ ন্যাটো সামরিক কর্মকর্তা বলেছেন, বেসামরিক নাগরিকদের আগামী ২০ বছরের মধ্যে রাশিয়ার সাথে সর্বাত্মক যুদ্ধের জন্য প্রস্তুত হওয়া উচিত।
একই সুরে মার্কিন নৌসেনা সেক্রেটারি কার্লোস দেল তোরো বলেন, ব্রিটেনকে তার সশস্ত্র বাহিনীর আকার বড় করতে হবে।
যদিও এ বিষয়ে আগেই যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপকে সতর্ক করেছে রাশিয়া।
রুশ পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র মারিয়া জাখারোভা বলেছেন, মার্কিন পরমাণু ওয়ারহেড ব্রিটেনে ফেরত আনা হলে মস্কোও পাল্টা ব্যবস্থা নিতে বাধ্য হবে।
বিশ্লেষকরা বলছেন, ইউক্রেনে যুক্তরাষ্ট্র ও তার ইউরোপীয় মিত্ররা পরাজিত হয়েছে। এখন রাশিয়ার বিরুদ্ধে প্রতিশোধ নিতে চায় তারা।