নাইট্রোজেন দিয়ে প্রথম মৃত্যুদণ্ড, ‘লোমহর্ষক’ বর্ণনা প্রত্যক্ষদর্শীদের

যুক্তরাষ্ট্রের আলাবামা অঙ্গরাজ্যে প্রথমবারের মতো নাইট্রোজেন গ্যাস ব্যবহার করে কেনেথ ইউজিন স্মিথ নামে এক ৫৮ বছর বয়সী আসামির মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা হয়েছে। মৃত্যুদণ্ড কার্যকরে বিতর্কিত এই পদ্ধতি ব্যবহার করার নিন্দা জানিয়েছে হোয়াইট হাউস এবং জাতিসংঘ।   

এনবিসি নিউজ জানিয়েছে, স্থানীয় সময় বৃহস্পতিবার রাত ৮টা ২৫ মিনিটে আলাবামার হলম্যান কারেকশনাল ফ্যাসিলিটিতে স্মিথের মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা হয়।

মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের সময় স্মিথের আধ্যাত্মিক উপদেষ্টা রেভারেন্ড জেফ হুডকে সেখানে থাকার অনুমতি দেয়া হয়েছিল। তিনি জানান, মৃত্যুর সময় স্মিথকে ‘জলের বাইরে মাছের মতো’ দেখাচ্ছিল।

এমন অসংখ্য মৃত্যুদণ্ডে অংশ নেয়া হুড জানান, স্মিথকে এমন এক অবস্থায় দেখেছেন যা তিনি কখনোই আশা করেননি।

কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে গিয়ে তিনি বলেছেন, আসামির মৃত্যু আরও দ্রুত হওয়ার কথা ছিলো, কিন্তু এমন এক দৃশ্য দেখেছি যা কখনও ঘটেনি।

আসামি কেনেথ ইউজিন স্মিথ।

তিনি আরও বলেন, এটা সত্যিই এমন ছিলো যে, একটি প্লাস্টিকের ব্যাগ দিয়ে কারো মাথা জড়ানো হচ্ছে এবং ঠিক কী ঘটছে তা দেখার জন্য অপেক্ষা করতে হবে। যতটা সম্ভব তাকে শক্ত করে ধরে রাখা এবং যতক্ষণ সম্ভব তাকে কাঁপতে দেখতে হবে। 

তিনি অভিযোগ করে বলেন, কর্তৃপক্ষ বলেছিল, স্মিথ নাইট্রোজেন প্রতিরোধ করতে পারবে না এবং সেকেন্ডের মধ্যে অজ্ঞান হয়ে যাবে। কিন্তু তাকে পানির বাইরে মাছের মতো দেখাচ্ছিল। 

কারেকশনাল ফ্যাসিলিটিতে উপস্থিত থাকা সাংবাদিক লি হেজেপেথ জানান, তিনি তার জীবনে কখনোই এতো ‘হিংসাত্মক মৃত্যুদণ্ড’ দেখেননি।

হেজেপেথ বলেন, আমরা তাকে ভয়াবহভাবে কাঁপতে দেখেছি। এটি ছিলো পঞ্চম মৃত্যুদণ্ড যা আমি আলাবামাতে প্রত্যক্ষ করেছি, এবং আমি কখনোই এমন হিংসাত্মক মৃত্যুদণ্ড বা মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করার পদ্ধতি দেখিনি। 

মৃত্যুর সময় স্মিথ পুরোপুরি শুকিয়ে গিয়েছিল বলেও জানান তিনি।

যদিও আলাবামা রাজ্যের কর্মকর্তারা নতুন এ পদ্ধতিকে মানুষের পরিচিত মৃত্যুদণ্ডের মধ্যে সবচেয়ে মানবিক এবং কষ্টবিহীন পদ্ধতি বলে অভিহিত করেছেন।

তবে এ ঘটনার পর বিশ্বব্যাপী সমালোচনার ঝড় উঠেছে। ইউরোপের বহু প্রতিষ্ঠানসহ হোয়াইট হাউস এবং জাতিসংঘ এর নিন্দা জানিয়েছে।

এর আগে ১৯৮৮ সালে এলিজাবেথ সেনেট নামের এক নারীকে খুনের ঘটনায় দোষী সাব্যস্ত হন স্মিথ। ২০২২ সালে সুপ্রিম কোর্টের বিচারপতিদের সংখ্যাগরিষ্ঠ অংশ স্মিথকে ইনজেকশন প্রয়োগ করে মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের অনুমতি দেন। ৯জন বিচারপতিবিশিষ্ট আদালতের তিনজন বিচারপতি এ সিদ্ধান্তের ব্যাপারে ভিন্নমত জানিয়েছিলেন।

সবশেষ নাইট্রোজেন গ্যাস ব্যবহার করে স্মিথের মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের সিদ্ধান্ত দেয় মার্কিন সুপ্রিম কোর্ট। মৃত্যুদণ্ড স্থগিতের অনুরোধ জানিয়ে আসামি কেনেথ স্মিথের করা আবেদনটি খারিজ করে দেওয়া হয়।